রাজশাহীতে লকডাউনের এক মাস

প্রকাশিত: জুলাই ১০, ২০২১; সময়: ১২:৫৫ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী নগরে চলছে এক মাস ধরে লকডাউন। তবে দীর্ঘ সময় ধরে লকডাউন থাকায় এর বিধিনিষেধ ভেঙ্গে বের হচ্ছে মানুষ। ফলে রাস্তায় বেড়েছে মানুষের চলাচল ও যানবাহনের সংখ্যা।

তবে লকডাউন ও স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়নে পুলিশের পাশাপাশি রাজশাহীতে মাঠে রয়েছে প্লাটুন সেনা, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা। এছাড়াও মাঠে কাজ করছে ২২টি ভ্রাম্যমাণ আদালত।

গত ঈদের পর থেকে রাজশাহীতে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় গত ১১ জুন থেকে সিটি করপোরেশন এলাকায় এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণা করে প্রশাসন। পরে দুদফা বাড়িয়ে তা ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয়। এর পর ১ জুলাই থেকে সরকারি ঘোষিত কঠোর লকডাউন চলছে।

এদিকে, মার্কেট খোলার দাবিতে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ ঠেকাতে নগরের সাহেববাজার আরডিএ মার্কেটের সামনে সকাল থেকে অবস্থান নেয় পুলিশের সঙ্গে সেনা সদস্যরাও। তাদের সঙ্গে ছিল ভ্রাম্যমাণ আদালতও। গত বৃহস্পতিবার এখানে ব্যবসায়ী থালা হাতে বিক্ষোভ করে শনিবার থেকে মার্কেট খুলে দেয়ার দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু এ নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত না আসায় আবারও বিক্ষোভের আশঙ্কায় সর্তক অবস্থান নেয় প্রশাসন।

নির্বাহী ম্যাজেস্ট্রেট আবু আসলাম বলেন, কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে তারা কাজ করছেন। লকডাউনের বিধিনিষেধ ও স্বাস্থ্যবিধি না মানায় শুক্রবার ৪৮ জনের ৩৬ হাজার ৭০০ জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়াও দুইজনকে সাতদিন করে কারাদন্ড দেয়া হয়।

এদিকে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময় আটজন মারা যান শ্বাসকষ্টসহ করোনার উপসর্গ নিয়ে। শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত শনিবার সকাল ৬টার মধ্যে বিভিন্ন সময় হাসপাতালের করোনা ইউনিটে এই ১৪ জনের মৃত্যু হয়।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, একদিনে কোভিড ইউনিটে মারা যাওয়াদের মধ্যে রাজশাহীর সাতজন। বাকিদের মধ্যে নাটোর চারজন এবং পাবনা, চুয়াডাঙ্গা ও জয়পুরহাটের একজন করে তিনজন।

এ নিয়ে চলতি মাসের ১০ দিনে করোনা ও উপসর্গ নিয়ে যারা গেলেন ১৭১ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী মারা যায় ১ জুলাই ২২ জন এবং সবচেয়ে কম ৪ জুলাই ১২ জন। চলতি মাসে করোনা ইউনিটে মারা যাওয়াদের মধ্যে রাজশাহীর ৮৮ জন। এর আগে গত জুন মাসে এ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা যান ৪০৫ জন।

শামীম ইয়াজদানী বলেন, নতুন মৃতদের মধ্যে নয়জন পুরুষ ও পাঁচজন নারী। এদের মধ্যে পাঁচজনের বয়স ৬১ বছরের উপরে। বাকিদের মধ্যে ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে সাতজন, ৩১ থেকে ৫০ বছর বয়সের দুইজন।

পরিচালক জানান, গত ২৪ ঘন্টায় হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি হয়েছেন ৬০ জন। একই সময় সুস্থ্য হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১১ জন। শনিবার সকাল পর্যন্ত ৪৫৪ বেডের বিপরীতে চিকিৎসাধীন রোগী বেড়ে দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ৫২২ জন। এর আগের দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন ৫০১ জন। অতিরিক্ত রোগীদের ওয়ার্ডে মেঝে ও বারান্দায় থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও আইউসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন ১৯ জন।

শামীম ইয়াজদানী জানান, টানা পাঁচদিন কমার পর রাজশাহীতে আবারও বেড়েছে করোনাভাইরাস শনাক্তের হার। শুক্রবার দুইটি ল্যাবে রাজশাহী জেলার ৩৮৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৩০ জনের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। যা আগের দিনের চেয়ে ১৫ দশমিক ৬১ শতাংশ বেড়ে করোনা শনাক্তের হার ৩৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আগের দিন বৃহস্পতিবার ছিল ১৮ দশমিক ১৬ শতাংশ।

  • 398
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে