ভয়ে কেউ কথা বলেন না মেয়র মুক্তার বিরুদ্ধে

প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২১; সময়: ২:৪৮ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মেয়র মুক্তার আলী গত দুই মেয়াদে শতাধিক মানুষকে নিজে মারধর এবং অপমান করেছেন। যদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারাও। কিন্তু ভয়ে কেউ কথা বলেন না।

মেয়র মুক্তার মার খেয়ে পৌরসভার এক কর্মচারীর চারটি দাঁত ভেঙে গেছে। মেয়রের সামনে ফোকলা দাঁত নিয়ে কথা বলা যাবে না, এই ভয়ে তিনি চারটি দাঁতই বাঁধিয়ে নিয়েছেন। তবু কারও কাছে অভিযোগ করেননি। মেয়রের বিরুদ্ধে তাঁর কোনো অভিযোগও নেই। এই মেয়রের হাতের মার খেয়ে এভাবেই সবাই চুপ করে থাকেন।

মেয়র মুক্তার আলী আড়ানী পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচন করায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর আগে ২০১৫ সালে তিনি দলীয় মনোনয়নেই মেয়র হয়েছিলেন। সে সময় তিনি যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।

গত মঙ্গলবার রাতে কলেজশিক্ষক মনোয়ার হোসেন মজনুর বাড়িতে ঢুকে তাকেসহ স্ত্রী-পুত্রকে মারধর করেন মেয়র মুক্তার আলী। সাহস করে ওই শিক্ষক রাতেই থানায় মামলা করেন। রাতেই মেয়রের বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালায়। টের পেয়ে মেয়র পালিয়ে যান। তার স্ত্রী ও দুই ভাতিজাকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। তার বাড়ি থেকে প্রায় কোটি টাকাসহ চারটি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও মাদক জব্দ করেছে পুলিশ।

এলাকাবাসী জানান, পৌরসভার এক কর্মচারীকে মেয়র মুক্তার লোহার রড দিয়ে মেরে তার চারটি দাঁত ভেঙে দিয়েছেন। এই কর্মচারীর অপরাধ ছিল, তিনি ব্যাগ ধরে ছিলেন। এই ব্যাগে মেয়র মাছ ঢালছিলেন। হঠাৎ ব্যাগের হাতল ছিঁড়ে যায়। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে মেয়র তাকে মারধর করেন। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। এই মারের ব্যাপারে তিনি থানায় কোনো মামলা করেননি। তিনি গণমাধ্যমে কোনো কথা বলতে চাননি।

পৌরসভার গোচর মহল্লার বাসিন্দা এনামুল হক ওরফে চেরু বলেন, তার ভাতিজা লেলিন কাঁচামালের ব্যবসা করতেন। লেলিন ঈশ্বরদী থেকে ভটভটিতে করে মাল নিয়ে ফিরছিলেন। মুক্তার ওই রাস্তা দিয়ে আসছিলেন। চোখে মোটরসাইকেলের হেডলাইটের আলো পড়ায় সাইড দিতে দেরি হয়েছিল। এতেই রেগে গিয়ে মুক্তার এত মেরেছিলেন যে তার ভাতিজা রাস্তায় অচেতন হয়ে পড়ে ছিলেন। ভটভটির চালককেও মেরেছিলেন।

এনামুল হক বলেন, এ ব্যাপারে থানায় একটি অভিযোগ করেছিলেন। মেয়রের হুমকির কারণে তারা আর থানায় যাননি। পরে আর তা মামলা হিসেবে রেকর্ড হয়নি। ঘটনার দুই-আড়াই মাস পরে তার ভাতিজা মারা যান।

পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মর্জিনা বেগমের অভিযোগ, অপমান ও লাঞ্ছিত করে মেয়র মুক্তার তাকে পৌর কার্যালয় থেকে বের করে দিয়েছিলেন। বাঘা উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের এক যুবককে মারধরের অভিযোগে এই মেয়রের বিরুদ্ধে উপজেলার তেঁথুলিয়া বাজারের পাশে মানববন্ধন হয়েছিল। এরপরে সালিসে মেয়র মুক্তার ক্ষতিপূরণ দিয়েছিলেন।

আড়ানী পৌরসভার প্রথম মেয়র ছিলেন প্রয়াত মিজানুর রহমান। অভিযোগ রয়েছে, তার পরিবারের সদস্যদেরও এই মেয়র লাঞ্ছিত করেছেন। এছাড়াও এলাকার রিকশাওয়ালা, ভ্যানওয়ালা থেকে শুরু করে পৌরসভার কাউন্সিলর পর্যন্ত তার হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন। তারা কেউ কোথাও অভিযোগ করেননি।

পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শহীদুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, মেয়র মুক্তার গত দুই মেয়াদে শতাধিক মানুষকে লাঞ্ছিত করেছেন, মারধর করেছেন, কিন্তু তার ভয়ে কেউ মুখ খোলেন না। এই প্রথম কলেজ শিক্ষক মনোয়ার হোসেন মজনুর তাৎক্ষণিক থানায় মামলা করেছেন এবং পুলিশ মেয়রকে ধরার জন্য তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়েছেন।

  • 303
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে