মেয়র মুক্তারের বিরুদ্ধে পুকুর দখলের অভিযোগ

প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২১; সময়: ১২:৫১ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌর মেয়র মুক্তার আলীর বিরুদ্ধে জোরপূর্বক পুকুর দখল করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিনি প্রথমবার ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে পকুকুরটি দখল করে ভোগ করছেন। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্নস্থানে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানান পুকুর মালিক আবদুল মান্নান।

জানা যায়, ২০১৫ সালের প্রথম মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর আড়ানী পৌরসভার চকরপাড়া গ্রামের আবদুল মান্নানের কাছে থেকে এক বছরের জন্য ৫ বিঘা জমির উপর একটি পুকুর ২৬ হাজার টাকায় লিজ নেয়। এক বছরের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর পুকুর মালিক পুকুরটি দখলে নিয়ে যান। কিন্তু মেয়র মুক্তার আলী পুকুর দখলে না দিয়ে তাকে লাঞ্ছিত করে তাড়িয়ে দেয়। অবশেষে নিরুপায় হয়ে বিভিন্নস্থানে পুকুর ফেরতের জন্য অভিযোগ করেও কোনো ব্যবস্থা হয়নি। বর্তমানে মুক্তার আলী আড়ানী পূর্বপাড়ায় (মাহিষ্যপাড়া) পুকুর পাড়ে গড়ে তুলেছেন বিশাল আড্ডা খানা। এই আড্ডা খানায় চলে তার বিভিন্ন আসর।

স্থানীয়রা জানান, মুক্তার আলী প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে পৌরসভার কার্যালয়ে আসেন। বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে চলে আসেন পুকুর পাড়ে। তিনি বেলা ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে চলে যান নিজ বাড়ি পিয়াদাপাড়া গ্রামে। এখান থেকে বেলা ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে আবার পৌরসভা কার্যালয়ে আসেন। এখান থেকে তিনি বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে চলে আসেন আবারও পুকুর পাড়ে। তারপর এই পুকুর পাড়ে তার আড্ডা চলে গভীর রাত পর্যন্ত।

এ বিষয়ে পুকুর মালিক আবদুল মান্নান বলেন, আমার পুকুর এক বছরের জন্য লিজ নিয়ে ৫ বছর যাবত দখল করে রেখেছেন মেয়র মুক্তার আলী। পাশাপাশি ১০ কাঠা জমির উপর দুটি বড় বড় আম গাছও দখল করে রেখেছেন। এ বিষয়ে আমি বিভিন্নস্থানে অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি। অবশেষে নিরুপায় হয়ে অভিযোগ করা থেকে বিরত আছি।

এদিকে আড়ানী পৌরসভার সাবেক মেয়র মরহুম মিজানুর রহমান মিনুর আড়ানী বাজারে ৮টি দোকান মুক্তার আলী মেয়র নির্যাচিত হওয়ার পর থেকে খুলতে দেয়া হয়নি বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্নস্থানে অভিযোগ করেও কোনো সুরহা হয়নি। ফলে দোকানগুলো ৬ বছর থেকে বন্ধ রয়েছে।

মিজানুর রহমান মিনুর বড় ভাই আড়ানী ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মখলেসুর রহমান মুক্তা বলেন, আমরা দোকান খুলার বিষয়ে বিভিন্ন নেতাকর্মীর কাছে গিয়েছি। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। আমরা নিরুপায় হয়ে দোকান বন্ধ রেখেছি। মেয়র মুক্তারের ভয়ে কিছু বলতে পারিনা। এদিকে মেয়র মুক্তার আলী পিয়াদাপাড়া গ্রামে দোতালা আলিশান বাড়ি নির্মাণ করেছেন। পাশাপাশি করেছেন গাড়ি, ছেলে রাজু আহম্মেদকে করে দিয়েছেন হার্ড ওয়ারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

উল্লেখ্য, মেয়র মুক্তার আলীর পিয়াদাপাড়ার বাড়ি থেকে মঙ্গলবার (৬ জুলাই) রাতে নগদ ৯৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকা, চারটি আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে একটি পিস্তল, তাজাগুলি ৪৩টি, ব্যবহৃত গুলি ৪টি, ২০ পিস ইয়াবা, ১০ গ্রাম গাজা, ০.৭ গ্রাম হেরোইন, একটি সাড়ে ১৬ লাখ ও আরেকটি দেড় লাখ টাকার চেক উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় তার স্ত্রী জেসমিন, ভাতিজা সোহাগ ও শান্তকে গ্রেফতার করে। তারপর থেকে মেয়র মুক্তার আলী পতলাতক রয়েছে। মেয়ের মুক্তার আলী আড়ানী পৌর আওয়ামীলীগে বহস্কিৃত সাংগঠনকি সম্পাদক, তিনি চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারী পৌর নির্বাচনে নৌকার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে মেয়র নির্বাচিত হন।

  • 401
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে