ছেলের ঘরে মাদক, অস্ত্র মিলল মেয়রের স্ত্রীর ঘরে

প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২১; সময়: ৮:৩৭ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার মেয়র মুক্তার আলীর বাড়ি থেকে প্রায় কোটি টাকাসহ অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার গভীর রাতে পৌর এলাকার পিয়াদাপাড়া মহল্লায় মেয়রে বাড়িতে তল্লাশী চালায় পুলিশ।

তার বাড়ি থেকে একটি বিদেশী পিস্তল, একটি ওয়ান শ্যুটার গান, একটি বন্দুক ও একটি এয়ার রাইফেল পাওয়া যায়। এছাড়াও শটগানের ২৬ রাউন্ড গুলি, চারটি পিস্তলের ম্যাগজিন, পিস্তলের ১৭ রাউন্ড গুলি, চারটি গুলির খোসাও উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় ১০ গ্রাম গাঁজা, সাত পুরিয়া হেরোইন, ২০ পিস ইয়াবা, নগদ ৯৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকা এবং মেয়রের দুটি সই করা চেক জব্দ করা হয়। চেকে টাকার পরিমাণ ১৮ লাখ।

এ সময় মেয়র মুক্তারের স্ত্রী জেসমিন আক্তার (৪০) এবং দুই ভাতিজা সোহান (২৫) ও শান্তকে (২৩) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান মেয়র মুক্তার আলী ও তার ছেলে রাজু (২৪)। গ্রেপ্তার সোহানের বাবার নাম নবাব আলী। আর শান্তর বাবার নাম সামিরুল।

মুক্তার আলী আড়ানী পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচন করায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর আগে ২০১৫ সালে তিনি দলীয় মনোনয়নেই মেয়র হয়েছিলেন। সে সময় তিনি যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। যুবলীগ নেতা হওয়ার পর থেকেই তিনি ছিলেন বেপরয়ো।

মেয়র মুক্তার আলীর বাড়িতে অভিযানের বিষয়ে জানাতে বুধবার দুপুরে নিজের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন রাজশাহীর এসপি এবিএম মাসুদ হোসেন।

এ সময় তিনি জানান, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে পৌরসভার জয়বাংলা মোড়ে বাড়ি সংলগ্ন ওষুধের দোকানে বসেছিলেন মনোয়ার হোসেন মজনু। তিনি নাটোরের বাঁশবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক। গত পৌরসভা নির্বাচনে মনোয়ার হোসেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী শহীদুজ্জামানের পক্ষে কাজ করেন। এ কারণে তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন মেয়র মুক্তার আলী। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে মেয়র মদ্যপ অবস্থায় তার দলবল নিয়ে গিয়ে কলেজ শিক্ষক মনোয়ার হোসেনের দোকানের সামনে গিয়ে গালিগালাজ শুরু করেন। এরপর মনোয়ার ও তার স্ত্রী এবং ছেলেকে মারধর করেন।

পুলিশ সুপার বলেন, এ ঘটনায় রাতেই মনোয়ার হোসেন মেয়র মুক্তার আলী ও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অঙ্কুরের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত তিন-চারজনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর রাতেই তার নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবু সালেহ আশরাফুল আলম, চারঘাট সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের বিশেষ শাখার সহকারী পুলিশ সুপার রুবেল মাহমুদ ও বাঘা থানার ওসি নজরুল ইসলাম মেয়র মুক্তারের বাড়িতে অভিযান চালান। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান মেয়র মুক্তা ও তার ছেলে রাজু।

এসপি বলেন, বাড়িতে পাওয়া কোটি টাকার উৎস জানাতে পারেনি পরিবার। টাকা কোথা থেকে এলো, তা তদন্ত করা হচ্ছে। আর আগ্নেয়াস্ত্রগুলোর কোন লাইসেন্স নেই। অস্ত্রগুলো তার স্ত্রী জেসমিন আক্তারের ঘরে পাওয়া যায়। এছাড়াও মাদকদ্রব্য পাওয়া গেছে মেয়র মুক্তা ও ছেলে রাজুর ঘরে।

তিনি জানান, আগে থেকেই মেয়রের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা ছিলো। সেগুলো মারামারি ও বিস্ফোরণের মামলা। এসব মামলায় তিনি জামিনে ছিলেন। নতুন করে শিক্ষক মনোয়ার হোসেন একটি মামলা করেছেন। এ ছাড়া অস্ত্র, টাকা ও মাদক উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ আরও তিনটি মামলা করেছে। এছাড়া মেয়রকে গ্রেপ্তারে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান এসপি।

  • 490
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে