গোদাগাড়ীতে দুইটি সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা পাচ্ছে না রোগীরা

প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২১; সময়: ১০:৪৪ pm |

মুক্তার হোসেন, গোদাগাড়ী : রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে সাধারণ রোগীরা চিকিৎসা পাচ্ছে না। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (প্রেমতলী ৫০ শয্যা হাসাপাতাল) করোনার অজুহাতে সাধারণ রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। উপজেলা সদর থেকে ১৭ কিলোমিটার দুরে মাটিকাটা ইউনিয়নের প্রেমতলী নামক স্থানে অবস্থিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক থাকলেও করোনা রোগীদের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকার অজুহাত দেখিয়ে অন্য রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে না বলে আগত সাধারণ রোগীরা অভিযোগ করেন।

উপজেলার গোগ্রামের শেফালী বেগম। পেটের পীড়া নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আসেন। কিন্তু চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে গিয়ে বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। বেসরকারীভাবে চিকিৎসা করতে গিয়ে তার খরচ হয় এক হাজার ২০০ টাকা। এতে করে গরীব রোগীরা অর্থাভাবে বাইরে চিকিৎসা করতে পারছেন না। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও হাসপাতালের সার্জারী বিভাগে কোন ধরনের অপারেশন হচ্ছে না। ব্যবস্থা থাকলেও সিজারিয়ান রোগীদের ভর্তি করা হয় না।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আবু তালেব বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১২ জন চিকিৎসকের মধ্যে ৭ জন চিকিৎসক দিয়ে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বাকি ৫ জন চিকিৎসককে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে। করোনা রোগীর বৃদ্ধি পাওয়ায় কর্মরত চিকিৎকরা চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।

ডাঃ আবু তালেব আরো বলেন, করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসার পাশাপাশি অন্য রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে।

এদিকে উপজেলা সদরে অবস্থিত গোদাগাড়ী ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে মাত্র ৪ জন চিকিৎসক রয়েছেন। যন্ত্রপাতি নষ্ট থাকার কারণে সার্জারী বিভাগ বন্ধ রয়েছে। স্যালাইন, ঔষধ ও খাবার স্যালাইনের সংকট আছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের চিকিৎসাপত্র ও কিছু প্যারাসিটামল ঔষধ দেয়া হয়। বাকি ঔষধ রোগীদের বাহির থেকে ক্রয় করতে হয়। প্রতিদিন ৫ শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। হাসপাতালটিতে করোনা রোগীদের চিকিৎসা ও পরীক্ষার কোন ব্যবস্থা নেই। একমাত্র এ্যাম্বুলেন্সটি নষ্ট থাকায় গ্যারেজ তালাবন্দি রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি পুরাতন এ্যাম্বুলেন্সকে সচল করে কোন রকমে রোগী বহন করা হচ্ছে। মাঝে মধ্যে এই এ্যাম্বুলেন্সটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

গোদাগাড়ী ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ১৯৯৮ সালের বন্যায় সার্জারী বিভাগের যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে তখন থেকে সার্জারী বিভাগ বন্ধ ও পরীক্ষা করা হয় না।

তিনি আরো বলেন, আরো ৪ জন অথ্যাৎ ৮ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা ভালোভাবে দেয়া যাবে।

  • 394
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে