সংস্কারের অভাবে পুকুরে তলিয়ে যাচ্ছে কবরস্থান-বাঁশঝাড়-ঘরবাড়ি

প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২১; সময়: ৫:০৪ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর পবা উপজেলার অন্যতম একটি গ্রাম বড়গাছির মথুরা। অনেক আগে থেকেই এই গ্রামের মানুষ অনেক স্বাবলম্বি। আস্তে আস্তে মানুষ বাড়তে থাকায় দারিদ্রতা বাড়তে থাকে। পাশাপাশি ভাগ হতে থাকে জমি-জমা।

ওই গ্রামের উত্তরপাড়ায় একটি মসজিদের পুকুরের পাশেই গড়ে উঠে বসতি। যেখানে গড়ে উঠেছে দরিদ্রদের বসবাস। ভূক্তভোগিরা পুকরের পাড় ভাঙ্গারোধে এবং সংস্কারে উর্ধ্বতন কর্তা ব্যক্তিদের সু-দৃষ্টি কামনা কামনা করেছেন।

পুকুরের চারদিকের পাড়গুলো সংস্করণ না করায় গত কয়েক বছর যাবৎ তা ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে পাশের বাঁশঝাড়, মানুষের জমি সব গ্রাস করে নিচ্ছে। পুকুরের মাঝে বিলিন হয়ে যাচ্ছে কয়েক বছরের পুরনো কবর। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করছেন বেশ কয়েকটি পরিবার।

রেজিয়া বেগম নামে এক ভূক্তভোগি বলেন, আমরা খুব ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পুকুরের পাড়ের শেষ সিমানায় নিজস্ব বাড়িতে বসবাস করছি। এই পুকুরটি আগে অনেক ছোট ছিল। কিন্তু প্রথম থেকেই পুকুরের কোন নিজস্ব পাড় নেই। আগে পুকুরটি ভাঙ্গতো না। যখন থেকে মাছচাষ শুরু হয়েছে তখন থেকেই প্রতি বছরই আমাদের নিজস্ব জমির বেশকিছু অংশ পুকুরের মাঝে চলে যাচ্ছে। অতি দ্রুত পুকুরের সংস্করণ করা না হলে যেকোন সময় আমাদের ঘর বাড়িও পুকুরে তলিয়ে যাবে। প্রতিবছরই বাঁশ বেচে ও শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালায়। কিন্তু এ বছর একমাত্র বাঁশঝাড়ও পুকুরে নেমে গেছে।

ওই পাড়ে বসবাসকারি এমরান, নুরুল আমিন, তোসলেম, সুলতানা, বিচ্ছাদ, মোসলেম, ফারুক, বারি, রুমা ও আখি খাতুন বলেন, আমরা গরিব মানুষ। এই পুকুরের পাড়ে আমাদের অনেক আত্মীয়দের কবর দিয়েছিলাম। কিন্তু অনেক কবর আজ এই পুকুরের মধ্যে চলে গেছে। মসজিদের পুকুর হলেও মাছচাষের জন্য গোসল করতেও পারেন না তারা। প্রতিনিয়ত মাছের খাবার দেওয়ার জন্য পানি সবসময়ই অস্বাস্থ্যকর থাকে। পাশে হাফিজিয়া মাদ্রাসা থাকলেও শিশুরাও নামতে পারে না। আবার পাশ দিয়ে চিকন রাস্তা। অনেক শিশুই সাঁতার জানে না। একটু পা ফসকালেই ডুবে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।

এ বিষয়ে বড়গাছি ইউপি চেয়ারম্যান সোহেল রানা বলেন, এ বিষয়ে অতি দ্রত ব্যবস্থা নেয়া দরকার। আমি বিষয়টি উপর মহলের কাছে তুলে ধরব যাতে যত তাড়াতাড়ি স্থানটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে