বাগমারায় ফেসবুক পোস্টে পাল্টে গেল খানাখন্দ সড়কের চিত্র

প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২১; সময়: ১:১৯ am |

নিজস্ব প্রতিবেদক : স্কুলশিক্ষক রাশেদুল হকের বাড়ির সামনের সড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল। এমন অবস্থা নিয়ে গত ১৬ জুন তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছবিসহ একটি স্ট্যাটাস দেন। দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। দুই সপ্তাহের মাথায় রাশেদুলের বাড়ির সামনের সড়কটি সংস্কার করা হয়েছে।

রাশেদুল হকের বাড়ি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার হামিরকুৎসা গ্রামে। তার পোস্টটি স্থানীয় সাংসদ এনামুল হক ও উপজেলা প্রকৌশলীর নজরে আসার পর তাহেরপুর-শিকদারি সড়কের হামিরকুৎসার ওই অংশে ইট ফেলে খন্দ পূরণ করার পর সেখানে এইচবিবি করা (ইট বিছানো) হয়েছে। একইভাবে আরও চারটি স্থানে সংস্কার করা হয়েছে।

গত শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার ভবানীগঞ্জ-আত্রাই এবং শিকদারি-তাহেরপুর সড়কে সরেজমিনে দেখা যায়, সংস্কারের কাজ চলছে। শ্রমিকেরা সড়কের বড় বড় গর্তে ইটের খোয়া দিয়ে ভরাটের পর সেখানে এইচবিবি করছেন। প্রকৌশল দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তদারক করতে দেখা যায়।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেহাল সড়ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গত জুন মাসের বিভিন্ন সময়ে ছবিসহ স্ট্যাটাস দেওয়া হয়। জুন মাসে শিকদারি-তাহেরপুর সড়কের টাইগার পাস মোড় ও কাঠমিলের সামনের অংশে পানি জমে থাকার ছবি পোস্ট করা হয় ফেসবুকে।

বাগমারা হেল্পলাইন নামের একটি পেজে পোস্টটি সংযোজন করা হয়। এ ছাড়া এর আগে ভবানীগঞ্জ-আত্রাই সড়কের শিকদারির পেট্রলপাম্প ও সালেহা-ইমারত ডিগ্রি কলেজের সামনের অংশ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছবি পোস্ট করা হয়। এসব সড়ক স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি)।

উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সাংসদ এনামুল হক ও উপজেলা প্রকৌশলীর নজরে আসে এসব পোস্ট। সাংসদের পক্ষে বর্ষার মধ্যেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা আসে। এ জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) তহবিল থেকে জরুরি সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়। ১০ লাখ টাকার বরাদ্দও মেলে। জরুরি সংস্কারের আওতায় পাঁচটি স্থানের জন্য সাত লাখ এবং অপর একটি সড়কে এইচবিবিকরণের জন্য তিন লাখ টাকা ব্যয় করা হয়।

উপজেলা প্রকৌশলী সানোয়ার হোসেন বলেন, অগ্রাধিকার দিয়ে খানাখন্দের অংশগুলো জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করা হচ্ছে। আরও কিছু সড়কের পোস্ট সাংসদ এবং তাঁর নজরে এসেছে। অর্থ বরাদ্দ পেলে সেগুলো দ্রুত সংস্কার করা হবে।

এদিকে, ফেসবুকের পোস্টের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এলাকার লোকজন। তাঁরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

আলোকনগর মহিলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের স্কুল শাখার প্রধান রাশেদুল হক বলেন, মাঝেমধ্যে ওই গর্তে গাড়ি আটকে যেত। আপাতত এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলেছে। ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে দ্রুত সমাধান পেয়ে তিনি খুশি।

  • 305
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে