রাজশাহীতে লকডাউনে সেনা টহল, রাস্তা ফাঁকা

প্রকাশিত: জুলাই ১, ২০২১; সময়: ৪:০৪ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক কড়াকড়ির মধ্যে সারা দেশের মত রাজশাহীতেও শুরু হয়েছে সাত দিনের ‘কঠোর’ লকডাউনের বিধিনিষেধ। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে শুরু হওয়া এই ‘সর্বাত্মক লকডাউনে’ রাজশাহীর রাজপথ ফাঁকা। যদিও গত রাত থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজশাহীতে থেমে থেমে বৃষ্টি হয়।

সরকারি ও বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের গাড়ি, পণ্যবাহী বাহন ছাড়া কিছু রিকশা-রিকশাভ্যান চলছে বিভিন্ন রাস্তায়। রাস্তার মোড়ে মোড়ে চেক পোস্ট বসিয়েছে পুলিশ। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে রাস্তায় থাকতে দেওয়া হচ্ছে না। সকালে নগরীতে সেনাবাহিনী ও বিজিবির টহলও দেখা গেছে। কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে পুলিশের পাশাপাশি দুই প্লাটুন সেনাবাহিনীর সদস্য ও চার প্লাটুন বিজিবি মাটে টহলে রয়েছে।

বৃষ্টির মধ্যে টহল দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। সরকারি বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করতে সারাদেশের মত রাজশাহীতে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে মাঠে রাখা হয়েছে।

কঠোর লকডাউনে রাজশাহীর অফিস-আদালত, গণপরিবহন, শপিংমল বন্ধ রাখা হয়েছে। জনসাধারণকে অনুরোধ জানানো হয়েছে ঘরে থাকার। জরুরী প্রয়োজনেও রাস্তায় বেরিয়ে বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের জেরার মুখে পড়তে হয়েছে মানুষকে। এই বিধিনিষেধের মধ্যে জরুরি কারণ ছাড়া ঘরের বাইরে বের হলে যে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে, সে বিষয়ে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছিল কাল থেকে।

বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ৭ জুলাই পর্যন্ত চলবে এই লকডাউন। তবে প্রয়োজনে এর মেয়াদ বাড়তে পারে বলেও ইংগিত এসেছে সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্তদের কথায়।

লকডাউনে যা বন্ধ, যা খোলা

১) সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে।

২) সড়ক, রেল ও নৌপথে গণপরিবহন (অভ্যন্তরীণ বিমানসহ) ও সব যন্ত্রচালিত যানবাহন, শপিংমল, মার্কেটসহ সব দোকানপাট বন্ধ থাকবে।

৩) বন্ধ থাকবে সব পর্যটন কেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্র।

৪) জনসমাবেশ হয় এমন সামাজিক (বিবাহোত্তর অনুষ্ঠান-ওয়ালিমা, জন্মদিন, পিকনিক, পার্টি ইত্যাদি), রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

৫) আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জরুরি পরিষেবার যানবাহন চলাচল করতে পারবে।

৬) জরুরি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসের কর্মচারী ও যানবাহন প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র প্রদর্শন দেখিয়ে যাতায়াত করতে পারবে।

৭) বরাবরের মত পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত যানবাহন নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।

৮) আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চললেও বন্ধ থাকবে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট।

৯) বিদেশগামী যাত্রীরা তাদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের টিকেট দেখিয়ে গাড়ি ব্যবহার করে যাতায়াত করতে পারবেন।

১০) এ সময় বিমান, সমুদ্র, নৌ ও স্থল বন্দর এবং সংশ্লিষ্ট অফিস নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে।

১১) শিল্প-কারখানা স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু থাকবে।

১২) কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেনা-বেচা করা যাবে।

১৩) খাবারের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁ সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খাবার বিক্রি (অনলাইন/টেকওয়ে) করতে পারবে।

১৪) অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (ওষুধ ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি কেনা, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ইত্যাদি) বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না।

১৫) নির্দেশনা অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১৬) যারা করোনাভাইরাসের টিকার তারিখ পেয়েছেন, টিকা কার্ড দেখিয়ে তারা কেন্দ্রে যাতায়াত করতে পারবেন।

  • 684
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে