করোনামুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরল দেড় মাসের আফরিন

প্রকাশিত: জুন ২৮, ২০২১; সময়: ৪:৪০ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীতে ৪৫ দিনের শিশু আফরিন রহমানকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শনিবার ভর্তির সময় তার শ্বাসকষ্ট থাকলেও এখন অনেকটাই সুস্থ বলে জানিয়েছেন তার মা মাহবুবা খাতুন।

তিনি জানান, আফরিনের শারীরিক পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় তিনি রোববার রাতেই বাসায় নিয়ে গেছেন। এখন চিকিৎসকদের পরামর্শে তার ওষুধ চলছে। তবে রোববার শিশু আফরিন ও তার মা মাহবুবা খাতুনের নমুনা পরীক্ষায় ফল নেগেটিভ এসেছে।

এদিকে তীব্র শ্বাসকষ্ট ও খিঁচুনি নিয়ে শনিবার দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর পরই তার নমুনা নেওয়া হয়। শনিবার রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের আরটি-পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার ফলে শিশুটির করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়।

শনিবার রাতেই পরিবারকে জানানো হয়। রোববার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ফল হাতে পান। ৪৫ দিনের এই শিশুটিকে মেডিকেলের ১৬ নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৪৫ দিনের আক্রান্ত কন্যশিশু আফরিন রহমান। তার বাবার নাম আরিফুর রহমান। মায়ের নাম মাহবুবা খাতুন। নগরীর বনগ্রাম এলাকার বাসিন্দা পরিবারটি।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, শিশুটির বাবা কয়েক দিন আগেই পজিটিভ হন। তিনি বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন। এরই মধ্যে শিশুটি ঘুমাচ্ছিল না। অনবরত কান্নকাটি করছিল। মা মাহবুবা খাতুন মেয়েকে নিয়ে রাজশাহীর বিভিন্ন হাসপাতালে ছোটাছুটি করেন গত কয়েক দিন।

এরই মধ্যে নগরীর রেলগেটে অস্থায়ী ক্যাম্পে এন্টিজেন টেস্ট করান। এতে শিশু আফরিনের পজিটিভ আসে। তার পরও বাড়িতে রেখে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধপত্র খাওয়াচ্ছিলেন। কিন্তু শনিবার শিশুটির শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাকে রামেক হাসপাতালে আনা হয়। শিশুটিকে ১৬নং করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। তবে হাসপাতালে ভর্তির পর পুরোদমে চিকিৎসা শুরু হয় শিশু আফরিনের।

২৪ ঘণ্টাতেই আফরিনের শারীরিক পরিস্থিতি উন্নতি হলে তার মা তাকে বাসায় নিয়ে গেছেন। রোববার নমুনা পরীক্ষায় আফরিন ও তার মায়ের নেগেটিভ ফল আসে। ফলে তারা বাড়িয়ে ফিয়ে গেছে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী আরও বলেন, এই বয়সের শিশুর করোনাক্রান্তের ঘটনা এটি প্রথম নয়। কয়েক মাস আগে তিন মাসের এক শিশুর করোনা পজিটিভ হয়েছিল। হাসপাতালে চিকিৎসার নেওয়ার পর ওই শিশুটি সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে যায়। করোনা শুরুর পর এই হাসপাতালে করোনাক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

  • 285
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে