রামেক হাসপাতালে করোনা সংক্রমণ অন্য ওয়ার্ডে ছড়াচ্ছে

প্রকাশিত: জুন ২৫, ২০২১; সময়: ১০:১৬ am |

তারেক মাহমুদ : চাঁপাইনবাবগঞ্জের মোহাম্মদ জয়নুল। বাবার তীব্র শ্বাসকষ্ট। স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে এনেছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। রোগীর ঠাঁই হয়েছে হাসপাতালের করোনা ইউনিটে। তবে রোগীর সাথে জয়নুলসহ গ্রাম থেকে এসেছেন পরিবারের ৪ সদস্য। শুধু জয়নুলই নয়। এভাবেই করোনা ইউননিটসহ অন্যান্য ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগীর সাথে আসছেন তাদের একাধিক স্বজন। এদের মধ্যে অনেকেই মাস্ক পর্যন্ত পরেন নি। গত এক সপ্তাহে এমন দৃশ্য দেখা মিলেছে করোনা ওয়ার্ডের।

এছাড়াও স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে হাসপাতালসহ আশেপাশে স্বজনদের অবাধ বিচরণ। অন্য ওয়ার্ডসমূহে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশংকা তৈরি হয়েছে। সূত্র বলছে, সাত দিনে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন সাধারণ ওয়ার্ডের ১৬৯ রোগী।

এদিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) মৃত্যু হয়েছে ১৮ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হয়েছেন আরো ৫৪ জন। একের পর এক সাধারণ ওয়ার্ড ফাঁকা করে বৃদ্ধি করা হচ্ছে করোনা ইউনিটে, তবুও স্থান সংকুলান হচ্ছে না। বিপুল সংখ্যক করোনা রোগী ও তাদের স্বজনদের আনাগোনায় করোনা ছড়িয়ে পড়ছে হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ডগুলোতেও। প্রতিদিনই সাধারণ ওয়ার্ড থেকে করোনা ওয়ার্ডে নেয়া হচ্ছে আক্রান্ত রোগীদের।

এমনটি চলতে থাকলে হাসপাতালের পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ার শঙ্কা করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক জানাচ্ছেন, রামেক হাসপাতালে করোনা রোগিদের জন্য যে সেন্ট্রাল অক্সিজেন রয়েছে তা অন্য জায়গায় নেই। তাই করোনা রোগিদের অন্য জায়গায় নিয়ে সেবা দেওয়া কঠিন ব্যাপার। অন্যদিকে দিনে দিনে অন্য ওয়ার্ডগুলো করোনা ওয়ার্ড করা হচ্ছে। এতে সাধারণ ওয়ার্ডের রোরিরাও করোনার ঝুঁকিতে রয়েছে।

গত এক সপ্তাহে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের তিনটি করোনা ওয়ার্ডের সামনে গিয়ে প্রতিবেদকের সাথে কথা হয়েছে কয়েকজন স্বজনের। নাম না প্রকাশ শর্তে তারা জানান, করোনা রোগীর স্বজন শুনে কেউ কাছে আসতে চায় না। ভালো ভাবে কথাও বলতে চাচ্ছে না তাই সাধারণ রোগীর স্বজন বলে হাসপাতালসহ নগরীর লক্ষীপুর ও গোটা হাসপাতাল এলাকায় ঘুরছেন তারা। তবে অনেকে স্বাস্থ্যবিধি মানছেন আবার অনেকে মানছেন না।

তারা জানাচ্ছেন, করোনা ওয়ার্ডে সর্বচ্চ একজন থাকলে ভালো হয়। কিন্তু’ একসাথে অনেকজন ওয়ার্ডে আসছে এখানে এসেও মাস্ক পরছে না। এই বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে আরো কঠোর হতে হবে।
রামেক হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. পার্থ মণি ভট্রাচার্য জানান, হাসপাতালে নরমাল ও কোভিড রোগী থাকছে। কোভিড রোগিদের স্বজনদের সাথে অন্যরাও আক্রান্ত হচ্ছে। তাই স্বাস্থ্যবিধি মানার বিকল্প নেই। মনে রাখতে হবে আমরা কঠিন সময় পার করছি। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে অন্য মানুষের সাথে পরিবারের মানুষ আক্রান্ত হবে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, শুধু বাহিরের মানুষই নয়, করোনা আক্রান্ত হতে শুরু করেছেন অন্যান্য সমস্যা নিয়ে ভর্তি থাকা সাধারণ ওয়ার্ডের রোগীরাও। গত সাত দিনে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন সাধারণ ওয়ার্ডের ১৬৯ রোগী। এমন পরিস্থিতি মোকাবেলায় করোনা চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত হাসপতাল জরুরী হয়ে পড়েছে, বলছেন হাসপাতাল পরিচালক।

  • 328
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে