বাগমারায় আনসার সদস্য ও গ্রাম পুলিশের তৎপরতায় পাল্টে গেছে পরিস্থিতি

প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২১; সময়: ৬:৪৩ pm |

ইউসুফ সরকার, বাগমারা : করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ও স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়নে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার জনবহুল এলাকায় ছয় আনসার সদস্যের তৎপরতা সবার দৃষ্টি কেড়েছে। মাত্র এক সপ্তাহের তৎপরতায় প্রায় শতভাগ লোক মাস্ক পরছেন এবং স্বাস্থ্যবিধি মানছেন। বাজারে এখন আর মাস্ক ছাড়া আসেন না বা ঘুরাফেরা করেন না। অথচ এক সপ্তাহ আগেও এর চিত্র ছিল উল্টো। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে লোকজনকে মাস্ক পরাতে হতো।

এদিকে, ভবানীগঞ্জের আনসার সদস্যদের তৎপরতার সফলতা দেখে গ্রাম পুলিশদের কাজে লাগাচ্ছে উপজেলার ঝিকড়া ইউনিয়ন পরিষদ। বৃহস্পতিবার থেকে মাঠে নামানো হয়েছে গ্রাম পুলিশদের।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বাগমারায় করোনভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার কারণে গত ১৩ জুন উপজেলা করোন প্রতিরোধ কমিটির জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফ আহম্মেদ সভাপতিত্ব করেন। সভায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সে মোতাবেক স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কমিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত করে তাঁদের সহযোগিতা চাওয়া হয়। এছাড়াও উপজেলা সদর ভবানীগঞ্জে ব্যাপক লোকজনের সমাগম হওয়ার কারণে এটাকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয় প্রশাসনের পক্ষে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও আশপাশের জেলাগুলো থেকে লোকজন ভবানীগঞ্জে বিভিন্ন প্রয়োজনে আসেন ও রাস্তা দিয়ে চলাচল করে থাকেন।

এজন্য ভবানীগঞ্জে স্বাস্থ্যবিধি মানা ও মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করার জন্য আনসার সদস্যদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এজন্য ছয়জন আনসার সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। লাঠি-বাঁশি নিয়ে সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব আনসার সদস্যরা ভবানীগঞ্জের প্রবেশমুখ ও বাজারে দায়িত্ব পালন করছেন। এঁরা হলেন আমজাদ হোসেন, মুনজুর রহমান, হোসেন আলী, মোবারক হোসেন, মকবুল হোসেন ও মিঠুন।

গত চারদিন ধরে সরেজমিনে ভবানীগঞ্জে গিয়ে আনসার সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। তাঁরা মাস্ক ছাড়া লোকজন দেখলেই বাঁশি বাজিয়ে ছুটে চলছেন তাঁদের কাছে। মাস্ক পরার জন্য অনুরোধ করছেন। কাছে না থাকলে দোকান থেকে কিনে পরাতে বাধ্য করছেন তাঁরা। এছাড়াও অনেকের কাছে টাকা না থাকলে নিজের টাকায় মাস্ক কিনে দিচ্ছেন আনসরা সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ভবানীগঞ্জ বাজারের জিরোপয়েন্টে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। মাস্ক ছাড়া একজন মোটর সাইকেল আরোহিকে স্ত্রী ও শিশু সন্তানসহ আটকে ফেলেন আনসার সদস্য। মাস্কের উপকারিতা বিষয়ে বলার পর তাঁকে মাস্ক কিনতে বাধ্য করা হয়।

সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত গোটা বাজার ঘুরে মাস্ক ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে দেখা যায়নি। শিশুদেরও মাস্ক পরতে দেখা যায়। অথচ সপ্তাহখানেক আগেও মাস্ক ছাড়াই বিপুল সংখ্যক লোকজনকে চলাফেরা করতে দেখা গেছে। উপজেলা প্রশাসন প্রায়ই ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে মামলা ও জরিমানা আদায় করেছেন। অথচ সাত দিন ধরে কোনো ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়নি এখানে।
ভবানীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী আবদুস সামাদ বলেন, আনসার সদস্যদের তৎপরতার কারণে বাজারে এখন মাস্ক ছাড়া কাউকে দেখা যাচ্ছে না। মাস্ক ছাড়া লোকজনকে দেখলে ও চার-পাঁচজনের একস্থানে জমায়েত দেখলেই সেখানে ছুটে গিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মানতে অনুরোধ করছেন আনসার সদস্যরা। সরেজমিনে ঘুরে এর সত্যতা পাওয়ার পাশাপাশি শতাধিক লোকজনের সঙ্গে কথা বলে এই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

পাশের আত্রাই উপজেলার আবদুল জব্বার নামের এক ব্যক্তি বলেন, তিনি মাস্ক ছাড়াই ভবানীগঞ্জে এসে আনসার সদস্যদের তল্লাসিতে আটকে যান। নিজের কাছে টাকা না থাকায় একজন আনসার সদস্য একটি মাস্ক কিনে দিয়ে তাঁকে বাজারে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছেন।

আনসার সদস্য মুনজুর রহমান বলেন, আগে ভোট ও পূজার ডিউটি করে কিছু টাকা পাওয়া যেত। এবার উপজেলা থেকে করোনার বিষয়ে দায়িত্ব দিয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে ২০০ টাকা পাওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে। যাতায়াত করতে এই টাকার খরচ হয়ে যাবে। এরপরেও পেশার জন্য দায়িত্ব পালন করছেন। তবে মাত্র কয়েক দিনে লোকজনকে সচেতন ও মাস্ক পরতে অভ্যস্ত করতে পেরে ভালো লাগছে বলে মন্তব্য করেন।

উপজেলার ভারপ্রাপ্ত আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ইউএনও স্যারের নির্দেশে ভবানীগঞ্জে ছয়জন আনসার সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, ভবানীগঞ্জের আনসার সদস্যদের সফলতাকে কাজে লাগাচ্ছে ঝিকড়া ইউনিয়ন পরিষদ। তারা আনসারের পরিবর্তে গ্রামপুলিশদের মাঠে নামিয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মানিক বলেন, ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ন এলাকা যেখানে লোকজনের সমাগম থাকে সেখানে গ্রামপুলিশদের নামানো হয়েছে। তাঁরা লোকজনকে মাস্ক পরতে ও স্বাস্থ্যবিধি মানাতে বাধ্য এবং সচেতন করছেন। জনবহুল এলাকা উপজেলা সদর ভবানীগঞ্জের চিত্র ছয় আনসার সদস্য পাল্টাতে পারলে আমরা পারবো না কেন। ঝিকড়া ইউনিয়নও সফল হবে বলে দাবি করেন।

 

  • 118
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে