রাজশাহীতে ওষুধের অতিরিক্ত দাম নেয়ার অভিযোগ

প্রকাশিত: জুন ২৩, ২০২১; সময়: ৮:৩৩ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনা ভাইরাস মাহমারির সময় হঠ্যাৎ করেই সর্দি-কাশি জনিত রোগে ব্যবহৃত বিভিন্ন ওষুধের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলাসহ বিভিন্ন বাজারে অবস্থিত ফার্মেসীগুরোতে ওষুধের দাম বেশি নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিক্রেতারা বলছেন সরবরাহ কম থাকায় তাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বিভিন্ন ওষুধ। ফলে এর প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। মঙ্গলবার (২২ জুন) মোহনপুর সদর বাজার, কেশরহাট পৌরসভা বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার একাধিক ক্রেতারা অভিযোগ করেন।

জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মোহনপুর বাজার জামে মসজিদ মার্কেটে ওষুধ কিনতে আসা বাকশিমইল গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী সেলিম উদ্দিন নামে এক ক্রেতা জানান, সর্দি-কাশি রোগে ব্যবহৃত প্যারাসিটামল প্রতি পাতা ১০ টাকার স্থলে ৩০ টাকায় বিক্রি করছে। এ নিয়ে দোকান মালিক ও ক্রেতার মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে স্থানীয় লোকজন এসে থামিয়ে দেন। একই বাজারের পান বিক্রেতা আব্দুল জব্বার বলেন গতকাল এক পাতা প্যারাসিটামল কিনতে ফার্মেসীতে গেলে ৩০ টাকা দাম চাই।

পরে মাওলা পার্মেসীতে গিয়ে ১০ টাকা কিনি। এছাড়া প্যারাসিটামল, নাপা, নাপা এক্সট্রা- ৫০০ এমজির এক পাতা যেটা আগে ছিল ৮ টাকা এখন তা বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। ফেক্সোফেনাডিল গ্রুপের আগের দাম ৭৫ টাকা হলেও এখন নেওয়া হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা। মনটিন ১০ এমজি একপাতা ২১০ থেকে নেওয়া হচ্ছে ২৩০ টাকা। মনাস ১০ এমজি প্রতি বক্স ৪১৫ টাকার জায়গায় বিক্রি হচ্ছে ৪৮০ টাকায়।

মোহনপুর উপজেলা ফার্মেসি মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মাওলা বলেন, কোন দোকান মালিক ওষুধের দাম বেশি নিতে পারবে না। যদি কেউ নির্ধারিত মূল্যের বেশি দাম নিয়ে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে কেশরহাট পৌরসভার মেয়র শহিদুজ্জান শহিদ বলেন, করোনা মহামারির এই সময়ে উপজেলার ফার্মেসিগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে এবং রোগের মোকাবেলায় ওষুধ সংগ্রহের জন্য তারা ভিড় করছেন ওষুধের দোকানগুলোতে। বিশেষ করে জ্বর, সর্দি ও কাশিসহ বেশ কিছু রোগের ওষুধের চাহিদা বেড়েছে। এই সুযোগে বিভিন্ন স্থানে বাড়তি দামে ওষুধ বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানওয়ার হোসেন জানান, এই মহামারিতে কোন ফার্মেসী ওষুধের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে গ্রাহকের নিকট থেকে যেন দাম বেশি রাখতে না পারে, সেজন্য বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন সময় বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • 245
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে