লকডাউন: গাড়ি চলাচলে নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যবিধিতে গুরুত্ব নেই

প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২১; সময়: ১২:৪৮ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : নগরীতে স্থানীয় প্রশাসনের ঘোষণাকৃত দ্বিতীয় ধাপের কঠোর লকডাউন পালিত হচ্ছে। প্রশাসনিক তৎপরতায় নগরীর যানবাহন চালাচলে নিয়ন্ত্রণ এসেছে। তবে বাড়তি ভাড়া গুনলে নগরীর যে কোন জায়গায় পৌঁছানো যাচ্ছে। শুধু মোড়গুলো হেঁটে পার হতে হচ্ছে। লকডাউনে নগরীর প্রধান সড়কগুলো প্রায় ফাঁকা থাকলেও স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে তেমন সচেতন নয় অনেকেই। বিকেলের পর নগরীজুরে নিস্তব্ধতা বিরাজ করলেও জীবিকার তাগিদে সকাল থেকে বেলা গড়ানোর আগ পর্যন্ত মানুষের চলাচল থাকছে। প্রশাসনিক তৎপরতায় নগরীতে মানুষের চলাচল কমলেও কিছু মানুষের অসচেতনতা দূর হচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলাবাহীনির উপস্থিতি টের পেলে তবেই নাকের উপরে মাস্ক তুলছেন অনেকেই।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে শপিংমল ও মার্কেট বন্ধ রয়েছে। তবে বিচ্ছিন্নভাবে কৌশলে নির্দেশনার আওতার মধ্যে থাকা দোকানিদের ব্যবসা করতে দেখা গেছে। কেউ বন্ধ সার্টারে আবার কেউ অর্ধসাটারেও দোকান খুলেছিলেন। তবে ক্রেতা না থাকায় দুপুরের পর এসব দোকানগুলোও বন্ধ হচ্ছে। সকালের দিকে নগরীর কাঁচাবাজারে কিছুটা ভিড় বেশি থাকছে। সেখানে সঠিকভাবে মাস্ক না পরেই অনেক ক্রেতা-বিক্রেতা কেনাবেচা করছেন। এক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্বের বালাইও নেই। করোনার হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের আশেপাশের এলাকাতেও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত হচ্ছে না। অনেকে সঠিক নিয়মে মাস্কও পরছেন না। ফার্মেসিগুলোতেও এমন উদাসীনতা লক্ষ্য করা গেছে।

নগরীর অধিকাংশ মোড়ে পুলিশ অবস্থান থাকছে। সেখানে তারা যাতায়াতকারী পরিবহণগুলোকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। মাস্ক না থাকলে বা জরুরি প্রয়োজনে বাইরে এসেছেন এটা প্রমাণে ব্যার্থ হলেই তাদেরকে ঘুরিয়ে দেয়া হচ্ছে। আবার কখনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে গাড়ির বাতাস ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। নগরীর প্রবেশপথগুলোকে বাড়তি নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। রোগি ও পণ্যপরিবহনের গাড়ি ছাড়া প্রবেশপথগুলো দিয়ে অন্য কোন গাড়ি নগরীতে ঠুকতে দেয়া হচ্ছে না।
এরমধ্যেও ভেতরের বিভিন্ন রাস্তাগুলো দিয়ে নগরীতে কিছু গাড়ি ঠুকতে দেখা গেছে। তবে অধিকাংশ গাড়িকেই ঘুরিয়ে দিচ্ছে পুলিশ। এমন অবস্থা নগরীর মোড়গুলোতেও। নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা এলাকা থেকে গাড়ি কোর্ট পর্যন্ত আসতে পারছেন। মোড় থেকে পুলিশ গাড়ি ঘুরিয়ে দিচ্ছে। চালক সেখানে যাত্রী নামিয়ে দিচ্ছেন।

যাত্রীরা কিছুদূর হেঁটে আবার গাড়ি নিচ্ছেন। সামনে মোড়ে আবার নামিয়ে দিচ্ছে। মোড় পেরিয়ে আবার মিলছে গাড়ি। এভাবে মোড়গুলো হেঁটে পার হয়ে গাড়ি পরিবর্তন করেই অসুস্থ রোগির গাড়ি, রিজার্ভ গাড়ি ও ব্যক্তিগত গাড়ি ছাড়া অন্য জরুরি প্রয়োজনের মানুষগুলো চলাফেরা করছেন। আর এক্ষেত্রে গাদাগাদি করে যাত্রী নিয়ে অধিক ভাড়ায় যাতায়াত করছে কিছু চার্জার অটো। আর বাড়তি ভাড়া নেয়ার পেছনে প্রশাসনিক কঠোরতাকে দায়ী করছেন এসব চালকরা।
গাড়িগুলোতে অধিকাংশ যাত্রী মাস্ক ব্যবহার করলেও সামাজিদ দূরত্বে কোন বালাই থাকছে না।

নগরীর ভেতরের ছোট ছোট রাস্তাগুলোতে চায়ের আড্ডা জমছে। পুলিশের টহল দল এই আড্ডা ভাঙ্গছেন। রাজশাহী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শরিফুল হক জানান, রাজশাহীতে দ্বিতীয় দফার লকডাউনও কঠোরভাবেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মানুষকে সুরক্ষিত রাখতেই এ কঠোরতা। জরুরি সেবা ছাড়া সকলকেই ঘরে থাকতে অনুরোধ জানানো হচ্ছে। আর জরুরি প্রয়োজনে বাইরে এসে মানুষ যেন কোন ভোগান্তির শিকার না হন এবিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে অপ্রয়োজনে বাইরে আড্ডা জমালে প্রয়োজনে জেল জরিমানাসহ আইনগত ব্যবস্থাও নেয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে