করোনা পরীক্ষা: নগরে আগ্রহ, গ্রামে অনীহা

প্রকাশিত: জুন ১৭, ২০২১; সময়: ১১:০০ am |

নিজস্ব প্রতিবেদক : সর্বোচ্চ নমুনা পরীক্ষা নগরে। পরে জেলা। জেলার তুলনায় উপজেলায় পরীক্ষার হার তলানিতে। নগরের ১২টি পয়েন্টে প্রতিদিন হাজারের বেশি মানুষের করোনা পরীক্ষা হচ্ছে। তুলনায় নগন্য-সংখ্যক পরীক্ষা হচ্ছে উপজেলা পর্যায়ে। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, ‘করোনা পরীক্ষায় আগ্রহ সৃষ্টির জন্য মাইকিংসহ বিভিন্ন প্রচারণা চলাচ্ছেন তারা। তাতে তেমন কাজ হচ্ছে না। মানুষ করোনা পরীক্ষা করাতে আসছেন না। কেবল যে সমস্ত রোগী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিভিন্ন সেবা নিতে আসছেন বা ভর্তি আছেন, তাদের করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে।’

তথ্যমতে, প্রতিদিনই উপজেলা পর্যায়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমণের হার। দুর্গাপুরে ১২ বছরের শিশু করোনায় আক্রান্তের ঘটনাও ঘটেছে। যদিও সংক্রমণের হারের দিক থেকে এই উপজেলা (দুর্গাপুর) বেশি। বুধবার (১৬ জুন) এই উপজেলায় মাত্র ৩৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৫ জনের দেহে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহাবুবা খাতুন উদ্বেগজনক তথ্য দিয়ে বলছেন, প্রত্যেকের নমুনা পরীক্ষা করা গেলে অন্তত ৬০ ভাগ মানুষের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যাবে।

জেলার বাকি উপজেলাতেও করোনার নমুনা পরীক্ষায় মানুষের উদাসীনতা লক্ষ্য করা গেছে। স্বাস্থ্য ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রচার-প্রচারণার পরেও সাধারণ মানুষকে পরীক্ষামুখি করা সম্ভব হচ্ছে না। উপজেলাগুলোতে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ জন করে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। যা খুবই কম বলছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। বুধবার (১৬ জুন) রাজশাহী জেলা সিভিল সার্জনের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী জেলায় ১ হাজার ৫৮১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। ৩৪৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৭০ শতাংশ। রাজশাহী নগরে গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ২৭৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।
তথ্য বিশ্লেষেণে দেখা গেছে- রাজশাহী সিটি করপোরেশনে প্রতিদিন ১ হাজারের বেশি মানুষের করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। কিন্তু নগর ও জেলা বাদে উপজেলা পর্যায়ে অনেক কম। সেখানে ৩০ থেকে ৩৫ জন মানুষ করোনার নমুনা পরীক্ষা করাচ্ছেন।

এদিকে, জেলার তানোর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বারনাবাদ হাসদা জানান, মানুষ নমুনা পরীক্ষা করাতে তেমন আসছেন না। তবে যারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসছেন তাদের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এছাড়া বুধবার (১৬ জুন) ১৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৯ জনের দেহে করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তার আগের দিন (১৫ জুন) ১৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৭ জনের পজেটিভ এসেছে।
অন্য উপজেলাগুলোর মতোই চারঘাটেও করোনার নমুনা পরীক্ষায় মানুষের উদাসীনতা লক্ষ্য করা গেছে। এই এলাকার মানুষের মধ্যে এক ধরনের ভীতি কাজ করছে। তারা মনে করছেন- নমুনা পরীক্ষার ফলে করোনা পজেটিভ আাসলে বাড়ি লকডাউন করবে প্রশাসন। এছাড়া কোয়ারেনটিনে থাকতে হবে। এতে করে তারা জীবিকার নির্বাহের জন্য বাইরে কাজে যেতে পারবে না।

এনিয়ে উপজেলার বাসিন্দা মইনউদ্দিন ও গৃহবধু আফরোজা জানান, ‘নমুনা পরীক্ষার পরে করোনা পজেটিভ হলে তারা বাইরে বের হতে পারবেন না। এতে করে পুরো বাড়ি লকডাউন হয়ে যাবে।’
চারঘাট উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শংকরকুমার বিশ্বাস জানান, সোমবার (১৪ জুন) ২৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৮ জন, মঙ্গলবার (১৫ জুন) ৪৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৯ জন ও বুধবার (১৬ জুন) ৩৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৭ জনের দেহে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহাবুবা খাতুন বলেন, ‘দুর্গাপুরে দিন দিন করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষ কোনো প্রকার করোনা পরীক্ষা করাতেই চাচ্ছেন না।

এমনকি ভর্তিকৃত রোগীদের করোনা পরীক্ষার জন্য বলা হলেও তাঁরাও হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যাচ্ছে। এই উপজেলায় প্রতিটি মানুষের করোনা পরীক্ষা করা গেলে অন্তত ৬০ ভাগ মানুষের শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া যাবে।’ রাজশাহী জেলা সিভিল সার্জন কাইয়ুম তালুকদার বলেন, উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে আমরা ক্যাম্পেইন বুথ করে নমুনা পরীক্ষা করছি। গড়ে ৮০-৯০ জন করে করে নমুনা পরীক্ষা করা যাচ্ছে। কিন্তু স্বাস্থ্য কমপ্লেসে গিয়ে নমুনা মানুষ দিতে চাচ্ছে না। তবে ইউনিয়ন পর্যায়ে করোনা রোগী কি পরিমাণ আছে, সেটি জানতেই সাধারণত একেকটি ইউনিয়নে একদিন করে নমুনা সংগ্রহ করছি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে