ট্রলিতে উঠেই লাশ হলেন নাটোরের অধ্যাপক

প্রকাশিত: জুন ১৬, ২০২১; সময়: ১২:১৩ am |

নিজস্ব প্রতিবেদক : অধ্যাপক বেলালুজ্জামান। বয়স প্রায় ৬৫ বছর। বাড়ি নাটোরের সিংড়া উপজেলার শেরকুল গ্রামে। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন। কিন্তু তাঁকে করোনা ওয়ার্ডে নিতে এক ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যায়।

বেলা ১১টার দিকে করোনা ওয়ার্ডের উদ্দেশে ট্রলিতে উঠলেন বেলালুজ্জামান। ৩৬ মিনিটের ব্যবধানে ট্রলিটা আবার ফেরত আসে। তখন ফেরত ট্রলিতে বয়ে আনা হয়েছে বেলালুজ্জামানের লাশ।

মৃতের শ্যালক আবদুল্লাহ জানান, তিন দিন থেকে বেলালুজ্জামানের শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। সকালে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর ১০টা ৫০ মিনিটে তাঁর অক্সিজেনের মাত্রা ছিল ৬৫ শতাংশ। কিছুক্ষণ পর হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় এসে অক্সিজেনের মাত্রা পরীক্ষা করেন। এরপর বেলা সোয়া ১১টার দিকে তাঁকে ২৯ নম্বর করোনা ওয়ার্ডে পাঠানো হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, করোনা ওয়ার্ডে শয্যা সংকটের কারণে এখন নিয়ম করা হয়েছে, শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এলেই সঙ্গে সঙ্গে রোগীকে ওয়ার্ডে দেওয়া হবে না। ওয়ার্ড বয় এসে রোগীর অক্সিজেনের মাত্রা পরীক্ষা করে দেখবেন। অক্সিজেনের মাত্রা ৯০-এর নিচে থাকলে রোগীকে হাসপাতালের ওয়ার্ডে নেওয়া হয়। বাকি রোগীদের বাসায় চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

আবদুল্লাহ জানান, ওয়ার্ডে নেওয়ার পরপরই চিকিৎসক জানান, রোগী মারা গেছেন। তাঁকে সেন্ট্রাল অক্সিজেন দেওয়া সম্ভব হয়নি। বেলালুজ্জামানের স্বজনের আকুতি ছিল, জরুরি বিভাগের কার্যক্রম যদি আরেকটু দ্রুত করা হতো, তাহলে তাঁরা রোগীকে ওয়ার্ডের সেন্ট্রাল অক্সিজেন পর্যন্ত নিতে পারতেন।

এ বিষয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী মঙ্গলবার সকালে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতালে করোনা রোগীর শয্যা সংকট রয়েছে। এ জন্য যেকোনো রোগী এলেই তাঁকে ওয়ার্ডে নেওয়া হচ্ছে না। জরুরি বিভাগে অক্সিজেনের মাত্রা মাপা হয়। অক্সিজেনের মাত্রা কম হলেই তাদের ওয়ার্ডে দেওয়া হয়। এ জন্য জরুরি বিভাগে কিছুটা সময় লেগেই যায়।

  • 366
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে