গোদাগাড়ীতে রমরমা মাদক ব্যবসা

প্রকাশিত: জুন ৭, ২০২১; সময়: ১০:১৩ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ফুলতলা ভাটুপাড়া ও কদম হাজীরমোড় এলাকায় রাতদিন চলছে রমরমে মাদক ব্যবসা। দিন রাত ২৪ ঘন্টায় এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরা হয়ে উঠেছে সক্রিয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রেমতলী পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদক ব্যবসায়ীরা। একাধিক মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা ও ওয়ারেন্ট থাকার পরেও কি এক অদৃশ্য কারনে তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে পারছে না প্রশাসন।

এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানান, শীর্ষ মাদক সম্রাটের মধ্যে ফুলতলা এলাকার হামিম, কদমহাজির মোড়ের মৃত  সেলিমের ছেলে রতন, পিরিজপুর এলাকার মোমিন, দুরুল, স্বপন, টিটু, জঙ্গলিপাড়া এলাকার সুজন, শীর্ষ মাদক সম্রাট কদমহাজির মোড়  হামিমসহ একাধিক মাদক ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা করছে কিন্তুু প্রশাসন তাদের গ্রেপ্তার করতে পারছে না বলে জানান স্বানিয়রা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গোদাগাড়ী ফুলতলা ঘাট এলাকার শীর্ষ মাদক সম্রাট প্রিন্স ও শুভ, হামিম নামের দুই মাদক ব্যবসায়ী পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে এলাকায় মাদকের রমরমে ব্যবসা করে যাচ্ছেন। অবশ্য কিছুদিন আগে শুভকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে এদের মধ্যে মাদক ব্যবসায় শীর্ষে রয়েছেন হামিম। তিনি ওই এলাকার মাদক সম্রাট হিসেবে পরিচিত।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, মাদক সম্রাট হামিমসহ অন্যানরা ফুলতলা ঘাট দিয়ে ভারত থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার পিস ফেনসিডিল পাচার করেন। এরপর এলাকার একটি ভাটার চারপাশে, বাড়িতে ও আরও অনেক জায়গায় সেগুলো লুকিয়ে রাখেন। সেই মাদক বিভিন্নস্থানে পৌঁছে দিতে ও বিক্রি করার জন্য প্রায় ১০ জন মানুষ কাজ করেন।

আরো জানা গেছে, ওই এলাকায় মাদকের সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন এসব মাদক সম্রাটরা। সম্প্রতি ভারতে করোনা সংক্রমণ অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় কমে যায় মাদক আমদানি। ওই এলাকায় ফেনসিডিলের সঙ্কট দেখা দিলে ওই এলাকার ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট তারা বেশি দামে সেগুলো সরবরাহ করে অনেক টাকার মালিক হয়েছেন। এক পিস ফেনসিডিল ২ হাজার ২০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে বিক্রি করেছেন বলে জানা গেছে। এতে করে তিনি বিপুল অবৈধ অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন।

এলাকাবাসীর কাছে জানা যায়, গোদাগাড়ীর ফুলতলাঘাট এলাকার ফেনসিডিলের একমাত্র ডিলার হিসাবে পরিচিত এই হামিম, আশিক, শুভসহ একাধিক মাদক সম্রাট সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তার সাথে রয়েছেন ওই এলাকার মাদ্রাসার মোড় এলাকার কাঁনাইয়ের ছেলে বাবু ও তরিকুলসহ শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী। তারা মাদক ব্যবসার জন্য বিশাল একটা সিন্ডিকেট গড়ে তুলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অসংখ্য অভিযোগ থাকার পরেও তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়। মাদক বেচাকেনাও চালিয়ে যাচ্ছে। একাধিক মাদক মামলাও রয়েছে তাদের নামে। তারপরেও অদৃশ্য কারনে মাদক সম্রাটদের গ্রেপ্তার করতে পারেনা পুলিশ।

এ বিষষে জানতে ওই এলকার হিটলারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মাদক বিক্রির ভিডিও বিষয়ে জানি না বলেই মুঠো ফোন কেটে দেন।

এলাকার এক শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, যারা মাদক সেবন করেছে তারাই ভিডিও করেছে। পুলিশ, ডিবি, র‌্যাব, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সবাই হাজিরা দেয়।

 

এ বিষয় গোদাগাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খলিলুর রহমান বলেন, তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট রয়েছে কিনা জানা নেই। ওয়ারেন্ট থাকলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশের মুখপাত্র এআইজি সোহেল রানার সঙ্গে হোয়াটসএ্যাপে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি জানাচ্ছি।

  • 268
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে