বাগমারায় বাড়িঘরে হামলার ঘটনায় আদালতে মামলা

প্রকাশিত: জুন ৭, ২০২১; সময়: ৮:২৯ pm |

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বাগমারা : রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় বাড়িঘরে হামলার ঘটনার দুইদিন পর মামলা দায়ের করা হয়েছে। রাজশাহীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে তিনজনকে চিহ্নিত করে ও অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে এ মামলা করেছেন আহত মকবুল হোসেনের ছেলে মোয়াজ্জেম হোসেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বাগমারা থানার ওসিকে নিদের্শ দিয়েছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (৫ জুন) দুপুরে উপজেলার মাগিয়া ইউনিয়নের কামারবাড়ি গ্রামে মকবুল হোসেনের ভোগদখলী সম্পত্তি একই গ্রামের আব্দুল আলী, ওয়াজেদ আলী ও রুবেল হোসেন জোরপূর্বক দখল করার চেষ্টা করেন। ওই সময় মকবুল হোসেনসহ এলাকার লোকজন বাঁধা দিলে তারা সেখান থেকে চলে যান। ওই ঘটনার জের ধরে শনিবার সন্ধ্যায় আব্দুল আলী, ওয়াজেদ আলী ও রুবেল হোসেন তাদের পক্ষের লোকজন নিয়ে মকবুল হোসেনের বাড়িতে হামলা করেন।

তাদের হামলায় মকবুল হোসেন আহত হন। খবর পেয়ে বাগমারা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে হামলাকারীরা পালানোর চেষ্টা করে। ওই সময় পুলিশ দুই হামলাকারীকে আটক করতে সক্ষম হয়। স্থানীয় লোকজন আহত মকবুল হোসেনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন।

মামলার বাদী মোয়াজ্জেম হোসেন অভিযোগ করেন, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি মিমাংসার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন করলে আটককৃতদের ছেড়ে দিয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চলে আসে। বিষয়টি অন্যদিকে প্রবাহের জন্য ওই দিন রাতেই উপজেলা আ.লীগের দলীয় পদধারী এক নেতা তার কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে থানায় যান। হামলার ঘটনাস্থলে যাওয়া পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওসিকে বিভিন্ন অভিযোগ করেন। এক পর্যায়ে থানার ওসি ওই পদধারী নেতার কথামত পুলিশ অফিসারকে চার্জ করেন। এবং ওই বিষয়ে মাথা না ঘামানোর জন্য নিষেধ করেন।

মামলার বাদি আরো বলেন, পদধারী নেতা থানা থেকে বেরিয়ে আসেন এবং হামলাকারীদের উৎসাহ দেন। তাদের উৎসাহ পেয়ে হামলাকারীরা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তাদের কর্মকান্ডের কারনে যেকোন সময় বড় ধরনের অঘটন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করেন তিনি। নিজেদের নিরাপত্তার জন্য আহত মকবুল হোসেনের ছেলে মোয়াজ্জেম হোসেন সোমবার ৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০ থেকে ১২ জনকে আসামী করে রাজশাহীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার বাদী মোয়াজ্জেম হোসেন অভিযোগ করেন, দলীয় পদধারী নেতা এলাকায় বিশৃংঙ্খলা সৃষ্টির পায়তারা করছেন। তাই তিনি সুষ্ঠ বিচার পাওয়ার জন্যই আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বাগমারা থানার ওসি মোস্তাক আহম্মেদ জানান, মামলার বিষয়টি তিনি জানেন না। থানায় আসলেই তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে