চারঘাটে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের জনবল সংকটে সেবা পাচ্ছেন না খামারীরা

প্রকাশিত: জুন ৪, ২০২১; সময়: ৮:২৪ pm |

নজরুল ইসলাম বাচ্চু, চারঘাট : রাজশাহীর চারঘাটে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কার্যালয় থেকে সঠিক সেবা পাচ্ছেন না প্রানী সম্পদ খামারীরা। উপজেলা প্রানিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায় জনবল সংকট ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব রয়েছে। ফলস্বরুপ উপজেলার গরু, মুরগী, ছাগলের খামারগুলিতে সেবা প্রদানে বিড়ম্বনায় পড়েছে প্রানিসম্পদ অধিদপ্তর।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে ২০১৯ সালের তথ্য অনুযায়ী জানা যায় বর্তমানে চারঘাট উপজেলায় দুগ্ধ ও মোটাতাজাকরন মিলে প্রায় ৮৮৩টি গরুর খামার, লেয়ার, টার্কি, ব্রয়লার, সোনালী মিলে ২৭০টি মুরগীর খামার, ২৫২০টি ছাগলের খামার, ৬টি কয়েল পাখির খামার রয়েছে।

বৃহত্তর এই উপজেলার প্রায় ১৭৯৫০ পিস গরু, লক্ষাধিক বিভিন্ন জাতের মুরগি, ২৫০০০ ছাগল ও ১৯০০০ কবুতরের চিকিৎসার জন্য রয়েছে মাত্র একজন ভেটোনারী ডাক্তার। চাহিদা অনুযায়ী কাঙ্খিত সেবা না পেয়ে অধিকাংশ সময়ে খামার মালিকেরা গ্রাম্য ডাক্তার দিয়ে খামারের গরু, ছাগল, মুরগী ইত্যাদি চিকিৎসা নিচ্ছেন। পাশাপাশি সরকারী প্রণোদনায় করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ প্রায় ৪২০ টি খামারীকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে আর্থিক সহায়তা তথ্য দিলেও মোট বরাদ্দের পরিমান জানাতে অপরগতা প্রকাশ করেন উপজেলা প্রানিসম্পদ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান।

প্রাপ্ত তথ্য মোতাবেক অফিস সহকারীর ৩টি পদসহ প্রায় ৬টি পদ খালি আছে। এসকল পদে লোকজন না থাকায় মিলছে না প্রানি সম্পদ সম্পর্কিত সকল সেবা। ইউনিয়ন ভিত্তিক চলমান ৭টি প্রকল্পের লোক দিয়ে জোড়া তালি দিয়ে চলছে অফিসের কার্যক্রম বলে প্রানিসম্পদ কর্মকর্তা জানান।

প্রকল্পে নিয়োজিত কর্মকর্তারা উপজেলা অফিসের সময় দেয়ায় ব্যহত হচ্ছে ইউনিয়ন ভিত্তিক প্রকল্পের সুষ্ঠ কার্যক্রম এবং বাস্তবায়নে রয়েছে ধীরগতি। অথচ প্রতিটি উপজেলায় অন্ততপক্ষে একটি মিনি ল্যাব থাকার প্রয়োজন। টেস্টিং এর জন্য উপজেলা প্রানি সম্পদ অফিসে রয়েছে একটি মাইক্রোস্কোপ রয়েছে। বিশেষজ্ঞ জনবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে উপজেলা প্রানিসম্পদ অফিস থেকে প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন না স্থানীয় খামারীরা।

মুঠোফনে গরু খামারী শলুয়া ঘোষপাড়ার সুজন কুমার বলেন, আমার খামারে ৩টি গরু রয়েছে। খামারে গরু অসুস্থ হয়ে গেলে আরোগ্যের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া লাগে। আর আমি নিজে নিজেই চিকিৎসা দিয়ে থাকি। প্রানি সম্পদ অফিসে ফোন করলে শুধুমাত্র উপদেশ ও করনীয় তথ্য দেয় কিন্তুু সরাসরি খামারে আসেনা। ভায়ালক্ষীপুর ইউনিয়নের বড়বড়িয়া গ্রামের ব্রয়লার মুরগী খামারী আব্দুল কুদ্দুস বলেন যখনই খামারের মুরগীর রোগ বা সমস্যায় আক্রান্ত হয় তখন প্রানিসম্পদ অফিস থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা পরামর্শ কোন সহায়তা পাওয়া যায় না। ইউনিয়ন ভিত্তিক জনবল থাকলেও প্রয়োজন ক্ষেত্রে এসকল কর্মকর্তাদের পাওয়া যায় না। এক্ষেত্রে খামারী মালিকদের সবসময় দু:চিন্তায় পড়তে হয়।

উপজেলা প্রানিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মিজানুর রহমান বলেন, বেশ কয়েকবার শুন্য পদ পূরনের জন্য উর্দ্ধতন কর্মকর্তার কাছে চাহিদা পত্র দিয়েছি কিন্তুু শুন্যপদ এখনও পুরন হয়নি। তাছাড়া বৃহত্তর একটি উপজেলার বৃহৎ জনগোষ্ঠির প্রানি সম্পদ অধিদপ্তরের প্রয়োজনী সেবা দিতে হলে যতদ্রুত সম্ভব উপজেলা প্রানিসম্পদ অফিসের শুন্য পদ পূরন করতে হবে। পাশাপাশি বাইরে সরকারী ঔষুধ বিক্রির অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ সংক্রান্ত কোন প্রমান পাওয়া গেলে কড়া ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে