রাজশাহীতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ১৫ টাকা

প্রকাশিত: জুন ৪, ২০২১; সময়: ৮:০১ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীতে সপ্তাহ ঘুরে বেড়েছে পেঁয়াজ ও মাছের দাম। গত সপ্তাহের চেয়ে কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হয়েছে পেঁয়াজ। তবে স্থিতিশীল রয়েছে চাল, ডাল, সবজি, মাংসসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম। শুক্রবার রাজশাহীর কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিক্রেতারা বলছেন, কঠোর বিধিনিষেধের কারণে পরিবহণ খরচ বেড়েছে। এছাড়া বাজারে পেঁয়াজ ও মাছের আমদানি কম হচ্ছে। ফলে দাম কিছুটা বেড়েছে।

অন্যদিকে, বাজারে সবজির দাম নিয়ে আপত্তি তোলেননি ক্রেতারাও। একাধিক ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেশ লম্বা সময় ধরেই বাজারে পণ্যের দাম একই রকম রয়েছে। মাঝে মাঝে দুই একটা পণ্যের দাম ওঠানামা করলেও বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। তবে পেঁয়াজের দাম আচমকা বেড়ে গেছে বলে দাবি ক্রেতাদের।

গত সপ্তাহে পেঁয়াজের কেজি ছিল ৩৮ থেকে ৪০ টাকা। এ সপ্তাহে সেটা বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়। কোন কোন বাজারে ৬০ টাকা কেজিতেও পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে।

শুক্রবার বাজারে প্রতি কেজি আলু ১৮-২০ টাকা, ঢেড়স ২০ টাকা, পটোল ৩০ টাকা, ঝিঙে ২০ থেকে ২৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২০ টাকা, বরবটি দাম বেড়ে ৩০ টাকা, সজনে ডাটা ৬০-৭০ টাকা, বেগুন দাম বেড়ে ৩০ -৩৫ টাকা, করলা ৫০ টাকা, কচু ৬০ টাকা, পেপে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। প্রতি পিস লাউ ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

এছাড়াও দাম কমেছে কাচা মরিচের। কাঁচা মরিচ ৪০ টাকা থেকে কমে ৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রায় অপরিবর্তিত থেকে আদা ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, রসুন ৬০ থেকে ৬৫ টাকা ও শুকনো মরিচ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

ক্রেতা আব্দুল হাকিম বলেন, দাম গতকালের চেয়ে একটু কম । আবার দেখা কালকে দুই এক টাকা বেড়েছে। এরকমই চলছে। এরপরেও বাজারে কাঁচামালের আমদানিও কিছুটা বেশি দেখছি।

সাহেববাজারের শাহ আলম এ্যান্ড সন্স স্টোর জানিয়েছে, বাজারে বোতলজাত প্রতি পাঁচ লিটার সয়াবিন তেল ৬৪৫ টাকা ও সরিষা প্রতি কেজি ১৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও প্রতি কেজি চিনি ৬৮ টাকা, মসুর ডাল ৯৬ টাকা, সোনামুগ ১৪০ টাকা, ছোলাবুট ৬৭ টাকা, খেসারি ৮০ টাকা, বুটের ডাল ৯০ টাকা, মটর ৯৫ টাকা ও এ্যাংকর ডাল ৪৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে রকমভেদে প্রতি কেজি ইলিশ ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এক কেজির ওপরে ওজনধারী মাছ এক হাজার ২০০ টাকা ও কেজির নিচে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

দাম কমার ব্যাপারে জানতে চাইলে বিক্রেতা মো. আবুল বলেন, বাজারে মাছের আমদানি বাড়ছে না। এজন্য দাম কমছে না। দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বা রোড ক্লিয়ার হলে আমদানি বেশি হবে, তখন দাম কমতে পারে।

অন্যান্য মাছের মধ্যে রকমভেদে মৃগেল ১২০ থেকে ১৮০ টাকা, রুই ১৬০ থেকে ২২০ টাকা, পাঙ্গাস ১২০ থেকে ২০০ টাকা, সিলভার ৯০ থেকে ১৫০ টাকা, কালবাউস ১৫০ টাকা, তেলপিয়া ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, শোল মাছ ৪০০ টাকা, ট্যাংরা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ টাকা ও টাকি মাছ ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

গত সপ্তাহের মতই প্রতি কেজি গরুর মাংস ৫৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এছাড়াও খাশির মাংস ৮০০ টাকা ও ছাগলের মাংস ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

মাংস বাজারের বড় ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান বলেন, গত সপ্তাহে যা বলেছিলাম, সেই একই কারনে দাম বেশি। বাজারে গরুর সরবরাহ কম। মাংসের মোটামুটি চাহিদা রয়েছে। সে কারনে দাম দশ টাকা বেশি।

এছাড়াও ব্রয়লার মুরগি ১২৫ টাকা, সোনালী ২০০ টাকা, সাদা লেয়ার ১৯০ টাকা, দেশি মুরগি কেজিতে ৪২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

বিক্রেতা মো. কাজিম বলেন, মুরগির দাম উঠানামা করছে। গত সপ্তাহে দাম কমে আবার আজকে কয়েক টাকা বাড়তি। তবে লেয়ার মুরগির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে।

এদিকে বাজারে উঠতে শুরু করেছে নতুন চাল। নতুন চালের দাম কিছুটা কম হলেও পুরোনো চালের দাম স্থির রয়েছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, প্রতি কেজি স্বর্ণা ৪৮ টাকা, নতুন আটাশ ৫০-৫৮ টাকা, নতুন মিনিকেট ৫৬ টাকা, পুরোনো মিনিকেট ৬০-৬২ টাকা, অটো স্বর্ণা ৪৫-৪৬ টাকা, বাসমতি ৬৮, নাজিরশাল ৬৫, পোলাও চাল ৮০-৯০ টাকা, কাটারীভোগ ৭০ টাকা, গোল্ডেন পোলাও চাল ৬৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

  • 156
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে