বাজেট প্রতিক্রিয়া জীবন ও জীবিকার বাজেট নিয়ে আশাবাদী রাজশাহীবাসী

প্রকাশিত: জুন ৪, ২০২১; সময়: ১০:৪৮ am |

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের অর্থনীতির ওপর করোনা মহামারির যে কালো ছায়া তা থেকে উত্তোরণের জন্য বহু মানুষ তাকিয়ে আছেন বাজেটের উপর। করোনায় পরিস্থিতির নানা শঙ্কার মধ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ছয় লাখ তিন হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। জীবন ও জীবিকার চ্যালেঞ্জিং এ বাজেটকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন রাজশাহীবাসী। বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন-রাজশাহীর অর্থনীতিবিদসহ ব্যবসায়ীক নেতারা। যেখানে তারা এ বাজেটকে জনবান্ধব, করোনা পরিস্থিতিতে বাস্তবিক ও দূরদর্শী বাজেট হিসেবে উল্লেখ করে তা বাস্তবায়নে দূর্নীতির লাগাম টেনে ধরার আহ্বানও ব্যক্ত করেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)’র অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ইলিয়াস হোসাইন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এবারের বাজেটটি জীবন ও জীবিকার মান ঠিক রেখে দেশকে অর্থনৈতিক উন্নতির দিকে ধাবিত করবে।

এবারের বাজেটটি বাস্তবিক দৃষ্ঠিভঙ্গি থেকেই করা হয়েছে। এবার করোনার কারণে অনেক মানুষ কর্ম হারিয়েছে। নতুন করে বেকারত্ব সৃষ্টি হয়েছে। তা নিয়ন্ত্রণ করতে বেসরকারি খাতকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সরকার বিভিন্ন ধরণের করপোরেট কর কমিয়ে দিয়েছে। বৈশি^ক পণ্য উৎপাদনে আগের থেকে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। সরকার এবার স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়িয়েছে। শিক্ষা খাতে ৪ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়েছে। কৃষিতে আগের মতই রয়েছে। কারণ এর আগে যে বরাদ্দ ছিলো সেটা দিয়েই চাহিদা পূরণ হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে জিডিপির ৩ দশমিক ১১ শতাংশ বরাদ্দ করা হয়েছে। উপকারভোগীর সংখ্যা প্রায় ১০ গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। তাই আমি বলবো এবারের বাজেট গতানুগতিক নয়, বাস্তবিক হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এবারের বাজেট যুগোপযুগী হলেও এখানে কিছু দূর্বলতা রয়েছে। করোনা আরও কত দিন থাকবে এটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। একারণে আরও ৪ থেকে ৫ বছরের দীর্ঘ পরিকল্পনা করলে এটি পূর্ণাঙ্গ হতো। দেশে মধ্যম এবং ক্ষুদ্র সেকশনে প্রণোদনার বেশি প্রয়োজন থাকলেও সেখানে উল্লেখযোগ্য কিছু দেখা যায়নি। এতে সরকারের নীতি অনুযায়ী বড় শিল্পগুলো বেশি সুবিধা পাবে। ক্ষুদ্র শিল্প কম লাভবান হবে। এবং সর্বশেষ বাংলাদেশ সরকারের মেগা প্রজেক্ট এর সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো হয়নি। এটা অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির সভাপতি মনিরুজ্জামান বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে সমৃদ্ধ দেশ গড়তে ‘জীবন জীবিকার প্রধান্য দিয়ে সুদৃঢ় আগামীর পথে বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮৭ কোটি টাকার বাজেট একটি বৃহৎ বাজেট পেশ করেছেন। করোনা এই মহামারির মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর এই দৃঢ় সময়োপযোগী সাহসী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানাই। এটি একটি সুদূর প্রসারি চেতনা সমৃদ্ধ বাজেট।

তিনি আরো বলেন, ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত এবারের বাজেটে রাজশাহী চেম্বার প্রস্তাবিত বিষয়গুলোর প্রতিফলন ঘটেছে। এছাড়াও বাজেটে খাদ্য নিরাপত্তা, সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় ও চিকিৎসা সামগ্রী দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং করোনা মোকাবেলায় বিশেষ বরাদ্দ সরকারের উন্নয়নের সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ। তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীদের প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রেখে করের বোঝা কমানোর ফলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা উপকৃত হবেন। এছাড়া কৃষিতে বিশেষ নজর দেয়ার কারণে কৃষি প্রধান রাজশাহী অঞ্চল উপকৃত হবে। আমরা আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী তার উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় এ বাজেটের মাধ্যমে রাজশাহীকে সঙ্গে রাখবে। রাজশাহী উন্নয়ন পরিকল্পনায় অনুন্নত এ অঞ্চলের শিল্প বিকাশের মাধ্যমে প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

কর আরোপের ক্ষেত্রে বিশেষ প্রণোদনা এবং কম সুদে ব্যাংক লোন প্রদানের ব্যবস্থা রেখে বাজেট পাশ করবেন। আমরা মনে করি, প্রধানমন্ত্রী যোগ্য নেতৃত্বে আমরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে পারবো। রাজশাহী ব্যবসায়ী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার আলী জানান, সরকার অনেক বড় বাজেট ঘোষণা করেছে। এই বাজেটে ঘাটতি রয়েছে। বাজেট সয়ংসম্পন্ন করা এই করোনাকালে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। বাজেটে কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। প্রতিটি বাজেটে কিছু পণ্যের দাম বাড়ে, আবার কমে। তবে কিছুদিন পরে ঠিক হয়ে যায়। বাজেটকে কেন্দ্র করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ব্যবসা করে নেন। সেই দিকে সরকারকে খেলায় রাখতে হবে।

২০২১-২২ সালের বাজেটে ভ্যাট ও করের টার্গেট পূরণের বিষয় রয়েছে। কারণ ব্যবসায়ীদের ব্যবসা নেই। সব বড় বড় ব্যবসায়ীরা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নিয়ে চলে। সব পর্যায়ে ব্যবসার অবস্থা ভালো না। তাই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কর দেওয়ার বিষয়টি কষ্ট কর হয়ে যাবে। রাজশাহীতে সবকিছুর উন্নয়ন হয়েছে। এখন দরকার শিল্পায়ন। তার আগে বন্দরের যোগাযোগ ব্যবস্থা করতে হবে। এই ক্ষেত্রে রোল হতে পারে রেল ও নৌ পথ। তাহলে খরচ ১০ থেকে ৮ ভাগই কমে যাবে। এতে কর্মসংস্থান হবে হাজারও বেকারের। সবমিলে অনেক বড় ও ভালো বাজেট ঘোষণা করেছে সরকার।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে