বাঘায় মধুমাসে আমকে ঘিরে জমে উঠেছে কুরিয়ার ব্যবসা

প্রকাশিত: জুন ২, ২০২১; সময়: ৮:১৭ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঘা : রাজশাহীর বাঘায় আমকে ঘিরে বিরাজ করছে উৎসব মুখর পরিবেশ। নতুন করে অনলাইন ভিত্তিক আম বেচা-কেনায় জমে উঠেছে কুরিয়ারের ব্যবসা। উপজেলায় আম পরিবহনে যুক্ত হয়েছে প্রায় ১০ টি কুরিয়ার সার্ভিস। মৌসুম শুরুর পর, আম পাঠানোর এ উৎসব চলছে কুরিয়ার সার্ভিসগুলোতে। প্রতিদিন প্রায় ৪/৫’শ মণ আম যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়।

এসব আমের অধিকাংশ অনলাইনে অর্ডার নেওয়া। গ্রাহকদের উপস্থিতি না থাকায় কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে চাহিদা মাফিক আম। এতে করে জমজমাট ব্যবসাও চলছে কুরিয়ার সার্ভিসগুলোতে।

বুধবার (২-৬-২০২১) সরেজমিন কুরিয়ার সার্ভিসেগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, কার্টুনভর্তি আমে ঠাসা। চাকরি কিংবা অন্যকোন কারণে যারা আমের উৎসবে যোগ দিতে পারেননি, তাদের কাছে এসব আম পৌঁছে দিচ্ছে কুরিয়ার সার্ভিস। এতে করে বাড়িতে বসে বাঘার বাগানের সুস্বাদু আমের স্বাদ গ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন ক্রেতারাও।

কুরিয়ার সার্ভিসের ব্যবস্থাপকরা জানান, গত বছরের তুলনায় এবছর অনলাইন ভিত্তিক আম বেচা কেনা হচ্ছে অনেক বেশি। এতে করে অন্য বছরের তুলনায় তাদের ব্যবসাও অনেক ভালো হচ্ছে। গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৪/৫’শ মণ আম যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপসহ সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে বাঘা উপজেলার অনেক তরুণ উদ্যোক্তা অনলাইনের মাধ্যমে আম বিক্রি শুরু করেছেন। আমের ব্যবসার জন্য অনলাইনের ব্যবহার দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। গ্রুপ ভিত্তিক আম বেচা কেনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন একঝাঁক তরুণ। তাঁদের অধিকাংশই কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

এবারই প্রথম অনলাইনে আম ব্যবসা শুরু করেছেন এমন কয়েকজন নতুন উদ্যেক্তা জানান, ইতিমধ্যে অনলাইনে মার্কেটপ্লেস ও ফেসবুক পেজ দেখে আম নেওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে ক্রেতাদের ফোন পাচ্ছেন। ক্রেতাদের অর্ডার পেয়ে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি আম কিনে কুরিয়ারের মাধ্যমে আম পাঠাচ্ছেন তাঁরা। তবে কুরিয়ার খরচ কম হলে তাঁদের সুবিধা হতো বলে মত তাঁদের।

রাজশাহী হিমসাগর ডট কম’ এর মেহেদী হাসান, “রাজশাহী ম্যাংগো প্রোডাক্টস ’’ এর তানজিম হাসান স্বদেশ, বাজুবাঘা গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা ডলার আহম্মেদ বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায়,বাড়িতে অলস বসে ছিলেন। কয়েকজন বন্ধু মিলে ফেসবুকে পেজ খুলে অনলাইনে আম ব্যবসা শুরু করেন। গুনগত মান দেখে এলাকার বাগান মালিকদের কাছ থেকে কেনা আম কার্টুন প্যাকিং করে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে গ্রাহকের নিকটস্থ কুরিয়ার সার্ভিসে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। অনেকেই হোম ডেলিভারি দায়িত্ব নিয়ে আম পৌছে দিচ্ছেন বাসায়।

এছাড়াও কুরিয়ার সার্ভিসের মাধমে আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের বাসায় যাচ্ছে বাঘার আম। মোটা পলিথিন ও পেপারে মোড়ানো কার্টুন ভর্তি আম নিয়ে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসে আসেন তোরাবুল কিবরিয়া। সেই আম ঢাকায় তার ভাইয়ের বাসায় পাঠাবেন বলে জানান। বোনের বাসায় নিজের বাগানের আম কুরিয়াও পাঠাচ্ছিলেন বাজু বাঘার হিমেল। তারা বলেন, আমের সময়ে আম কেনা আর পাঠানো নিয়ে অনেক বেশি ব্যস্ত থাকতে হয়। আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুরাও চেয়ে থাকেন কখন আসবে রাজশাহীর বাঘার আম। আম পেয়ে তারা যেমন খুশি হন, ঠিক তেমনি ভালো লাগে তাদের আম পাঠাতে পেরে। আমের মৌসুমে এটা যেন একটা রুটিন হয়ে গেছে।

বাঘা শাখার, সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের ব্যবস্থাপক জহুরুল ইসলাম ও কন্টিনেন্টাল কুরয়িার সার্ভিসের ব্যবস্থাপক আশরাফ আলী বলেন, অন্য সময়ের তুলনায় আমের মৌসুমে তাদের ব্যবসাটা অনেক ভালো চলে। তার সাথে নতুন কওে যুক্ত হয়েছে অনলাইন ভিত্তিক আম বেচা কেনা। এতে তাদের ব্যবসা আরো জমে উঠেছে। তারাও চেষ্টা করেন ভালো সার্ভিস দেওয়ার। সার্ভিস চার্জ হিসাবে তারা নিচ্ছেন, ঢাকাসহ উত্তরবঙ্গের মধ্যে কেজি প্রতি ১২ টাকা আর ঢাকার বাইরে প্রতিকেজি ১৬ টাকা করে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে