খুন না করা পর্যন্ত ঘুমাতে চান না সেই খামারু

প্রকাশিত: মে ২৮, ২০২১; সময়: ৯:১৭ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার হড়গ্রাম এলাকার বাসিন্দা লতিফুর রহমান সাগরকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন বাগমারার সেই জেএমবি নেতা মাহাতাব খামারু। তিনি বাগমারা উপজেলার হামিকুৎসা ইউনিয়নের তালঘরিয়া গ্রামের মোহাম্মাদ আলী খামারুর ছেলে।

বৃহস্পতিবার (২৭ মে) সাগরের বাবা এ্যাডভোকেট মুনছুর রহমানকে মুঠোফোনে তার ছেলেকে হত্যা না করা পর্যন্ত ঘুমাবেন না বলে হুমকি দেন মাহাতাব খামারু। এ ঘটনায় শুক্রবার বিকেলে বাগমারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করেছেন লতিফুর রহমান সাগর। তিনি রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি। এছাড়াও তিনি একজন ব্যবসায়ী।

আর মাহাতাব খামারু এক সময় জেএমবির শীর্ষ নেতা থাকলেও বর্তমানে সে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। যুবদলের গুরুত্বপূর্ন পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

জিডি সূত্রে জানা গেছে, জেএমবি নেতা মাহাতাব খামারু অস্ত্র হাতে রাজশাহী শহরে মোটরসাইকেল শোডাউন দেয়া একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের পেইজ থেকে বৃহস্পতিবার (২৭ মে) শেয়ার করেন ব্যবসায়ী ব্যবসায়ী ও ছাত্রদল নেতা সাগর।

পোস্ট শেয়ার করাকে কেন্দ্র করে ওই দিন রাত ৮টার দিকে মাহাতাব খামারু তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর থেকে সাগরের বাবা এ্যাডভোকেট মুনসুর রহমানের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে ফোন করে সাগরকে হত্যার হুমকি দেয়।

ফোনে মাহাতাব খামারু বলেন, ‘‘আপনার ছেলে সাগর এসব কি শুরু করেছে, আমার নাম ও আমার ভাইয়ের নামে ফেসবুকে কি ছড়াচ্ছেন? আপনার ছেলে আমার সাথে সম্মুখীন যুদ্ধে পড়ে গেছে। আপনার ছেলেকে খুন না করা পর্যন্ত আমি ঘুমাবো না।’’

জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাগমারা থানার ওসি মোস্তাক আহমেদ। তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পুলিশ ও স্থাণীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বাগমারা, রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ২০০৪ সালে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে জেএমবির শীর্ষ নেতা সিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলা ভাই। সে সময় বাংলা ভাইয়ের অন্যতম সেকেন্ড কমান্ডার ছিলেন মাহাতাব খামারু।

২০০৬ সালে ধরা পড়ার পরে আদালতের দেওয়া এজাহারে তাকে সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তার বিরুদ্ধে বাগমারা থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি ও লুটপাট, হুমকিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। মামলাগুলো আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

জানা গেছে, ২০০৪ সালে জেএমবির উত্থানের সময় রাজশাহী নগরীতে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিয়েছিলেন। আর এই অস্ত্রের মহড়ায় সহযোগী ছিলেন তার ছোট ভাই মো. রতন খামারু। বর্তমানে তিনি হামিরকুৎসা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতির পদে রয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রতন খামারু ২০১৬ সাল পর্যন্ত জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। তার বাবা ছিলেন জাতীয় পার্টির নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান। ২০১৬ সালের পর থেকে ধীরে ধীরে তারা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন ও সক্রিয় হন।

  • 144
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে