বাগমারায় জোরপূর্বক বাঁধ নির্মাণের চেষ্টা চেয়ারম্যানের

প্রকাশিত: মে ২৫, ২০২১; সময়: ৮:৫২ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগমারা : রাজশাহীর বাগমারায় বিলসুতি বিলে খাঁপুর এলাকায় জোর পূর্বক ইউপি চেয়ারম্যান বাঁধ নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাঁধ নির্মাণকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বাঁধ নির্মাণ বন্ধের দাবিতে এরই মধ্যে স্থানীয় কৃষক ও জেলেরা জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অবৈধভাবে বিলের মৎস্যচাষ প্রকল্পের লোকজন বাঁধ নির্মাণ শুরু করলে অপর পক্ষের বাধার মুখে পড়ে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বাঁধ নির্মাণ করার প্রক্রিয়া চলছে বলে অভিযোগ করা হয়।

এদিকে ইউপি চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান দুলাল বলেন, এটা বাঁধ নির্মাণ নয়, পানির প্রবাহের জন্য খাল সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দ্বীপপুর ইউনিয়নের খাঁপুর এলাকায় বিলসুতি বিলে মাছচাষের জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান প্রায় এক কিলোমিটারের অধিক দীর্ঘ একটি বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানা জমির ওপর দিয়ে ওই বাঁধ নির্মাণ শুরু করেন তিনি। এর ফলে ওই এলাকার ফসলি জমি কমে যাওয়ার পাশাপাশি জলাবদ্ধতার সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এতে ব্যাহত হবে ফসলের চাষ। সেই সাথে এলাকার মৎস্যজীবীরা সেখানে মাছ ধরতে পারবেন না।

এসব তোয়াক্কা না করে ব্যক্তি স্বার্থে মাছচাষের সুবিধার জন্য বিলের মধ্য দিয়ে বাঁধ নির্মাণের চেষ্টা করে চলেছেন চেয়ারম্যান। বাঁধ নির্মাণের লক্ষ্যে কয়েকদিন থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে খনন কাজ শুরু করা হয়। ঘটনাটি জানতে পেরে স্থানীয় মৎস্যজীবী ও কৃষকেরা বাঁধা প্রদান করেন। এতে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। খননকারীরা কাজ বন্ধ রেখে চলে যান। তবে এরপরেও কয়েক দফা তাঁরা খননের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

এদিকে বাঁধ নির্মাণ বন্ধের দাবি জানিয়ে স্থানীয় কৃষক ও জেলেরা রাজশাহী জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন, মুনছুর রহমান, মকছেদ আলীসহ কয়েকজন ব্যক্তি জানান, মাছচাষের সুবিধার জন্য বিলসুতি বিলের মাঝখান দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। বাঁধ নির্মাণ করা হলে বিলে ব্যাপক হারে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। এতে শত শত একর জমি অনাবাদি হয়ে যাবে। এছাড়াও বিলের নিয়ন্ত্রণ প্রভাবশালীদের কব্জায় গেলে সাধারণ জেলেরা মাছ ধরতে পারবেন না।

তাঁরা অভিযোগ করেন, বাঁধ নির্মাণ বন্ধের দাবি জানানোর পর থেকে তাঁদের বিভিন্নভাবে হুমকী দেওয়া হচ্ছে। যেভাবেই হোক তাঁরা বাঁধ নির্মাণের ঘোষণা দেওয়াতে এবং তাঁরা প্রতিহতের ঘোষণা দেওয়াতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানান।

বাঁধ নির্মানকারী দ্বীপপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান দুলাল বলেন, ফসলি জমির জলাবদ্ধতা কমানোর জন্য নিজেদের অর্থায়নে বাঁধ নির্মানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে পানি দ্রুত তম সময়ের মধ্যে অপসারণ হয়ে যাবে। একটি পক্ষ এটাকে বাঁধ নির্মাণ বলে প্রচার করছেন। কিছু ব্যক্তি সরকারি খাল ভরাট করে সেগুলো দখলে রেখেছেন। তাঁরাই দখল না ছাড়ার জন্য এর বিরোধীতা করছেন।

বাগমারা থানার ওসি মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, বাঁধ নির্মাণে কারনে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এটা নিয়ে যেন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে পুলিশ উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার অনুরোধ করেছে।

বাগমারার ইউএনও শরিফ আহম্মেদ বলেন, এই ধরণের একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাঁধ নির্মাণ না করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে