পদ্মাপাড়ে নেই স্বাস্থ্য সুরক্ষার বালাই

প্রকাশিত: মে ১৭, ২০২১; সময়: ১০:২৭ am |

নিজস্ব প্রতিবেদক : ইদ মানেই নগরীর বিনোদন কেন্দ্রগুলো মুখরিত থাকে মানুষের পদচারণায়। পবিত্র ইদুল ফিতরের অনুষ্ঠানিকতা শেষে পরিবার-পরিজন নিয়ে বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে ভিড় জমায় শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষ। তবে করোনা পরিস্থিতিতে বন্ধ ছিলো নগরীর বিনোদনকেন্দ্রগুলোর অন্যতম শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান উদ্যান ও চিড়িয়াখানাসহ শিশু পার্ক।

তবে পার্ক বন্ধ থাকলেও বিনোদনপ্রেমিদের আড্ডার সঙ্গে ঘুরাঘুরি বন্ধ থাকেনি। পদ্মাপাড়, নগরীর ওভার ব্রিজসহ পার্কগুলোর বাইরেই আড্ডা জমেছে বিনোদনপ্রেমিদের। সন্ধ্যার পর নগরীর নান্দনিক সৌন্দর্যময় সড়কগুলোর দুই পাশেও প্রিয়জনের সঙ্গে আড্ডা জনিয়েছেন অনেকেই। এছাড়া নগরীর বাইরের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলোতেও ছিলো বিনোদনপ্রেমিদের ভিড়।

এবার সবচেয়ে বেশি ভিড় ছিলো নগরীর পদ্মাপাড় এলাকায়। ইদের দিন সকাল থেকেই পদ্মাপাড়ে মানুষের সমাগম বাড়তে থাকে। বিকেলের দিকে এ ভিড় আরো বাড়তে থাকে। যৌবনা পদ্মার রূপ মার্ধুর্যে আটকে যায় দর্শনার্থীদের দৃষ্টি। বিনোদন স্পটগুলোতে অধিকাংশ দর্শনার্থীদের মুখেই মাস্ক ছিলো না। অনেকেই মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে অধিকাংশ বিনোদনপ্রেমি পদ্মার নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করেছেন। পদ্মা নদীকে ঘিরে বিনোদনপ্রেমিদের পাশাপশি ক্ষুদ্র দোকানিরা বিভিন্ন পসরা নিয়ে বসেছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি পদ্মা নদীর কূলে থাকছে বিনোদন পিপাসুদের ভিড়।

উজান থেকে আসা ঢলে বাড়ছে পদ্মার পানি। ইদের ছুটিতে তাই সকাল-বিকেল প্রকৃতির টানে সবাই ছুটে যাচ্ছেন পদ্মাপাড়ে। মুখের মাস্ক খুলে নির্মল বাতাসে প্রাণভরে নিঃশ্বাস নিচ্ছেন। ভরা পদ্মার প্রতি মানুষের যেমন টান থাকে, তেমনই আছে এখনও। করোনার ভয়ে এতটুকুও হেরফের হয়নি। ইদের দ্বিতীয় দুপুরের বৃষ্টির পর বিকেল গড়াতেই তাই আবারও জনসমাগমে ভরে উঠেছে স্রোতঃস্বিনী পদ্মা নদীর পাড়।

শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষের কোলাহলে মুখরিত হয়ে উঠে ছিল পদ্মা তীরবর্তী গোটা শহর রক্ষা বাঁধ এলাকা। নগরীর পঞ্চবটি থেকে বুলনপুর ও বুলনপুর থেকে সোনাকান্দি পর্যন্ত শহররক্ষা বাঁধ ছুঁয়ে থাকা পদ্মাপাড়ই সবার জন্য হয়ে উঠেছে বিনোদনের সেরা ঠিকানা। ইদের দ্বিতীয় দিনে বৃষ্টি হওয়ার ভ্যাপসা গরম কাটে। এমন আবহাওয়ায় তাই সবাই ঘুরে বেড়িয়েছেন পদ্মার পাড়ে। ছোটরা ইদের খুশিতে হৈ চৈ করেছে।

তরুণ-তরুণীরা ইদ আনন্দে মেতে উঠতে ছোট ছোট ইঞ্জিন চালিত নৌকায় উঠে ওপারে পদ্মার বুকে ঘুরে বেড়িয়েছেন। যদিও সারা বছর মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে থাকে রাজশাহীর পদ্মার তীর। মহানগরীর পদ্মাপাড় ঘুরে দেখা যায়, সব জায়গাতেই এখন মানুষের জটলা। রাজশাহীতে হাতেগোনা কয়েকটি বিনোদন স্পট থাকায় মানুষের পছন্দের তালিকায় এখনও সবার ওপরেই রয়েছে পদ্মাপাড়। ছোট-বড় সব বয়সের মানুষের কাছেই সমান পছন্দ পদ্মা। তাই করোনা আতঙ্কের মধ্যেও বিনোদন পিপাসুরা ভিড় করছিল সেখানে।

পবা উপজেলার মধুপুর এলাকা থেকে পদ্মাপাড়ে ঘুরতে আসা রাকিব, নাসিম, সজিব ও ফরহাদ বলেন, করোনার কারণে বর্তমানে সব বিনোদনকেন্দ্রই বন্ধ। গতবার কোরবানির ইদের দিন থেকে রাজশাহীর শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা খুলে দেওয়া হয়েছিল। এবার দেয়া হয়নি। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে উন্মুক্ত পরিবেশ, মুক্ত বাতাস আর নির্মল বিনোদনের জন্য পদ্মার জুড়ি নেই। এজন্য বিকেলে তারা পদ্মার তীরে বেড়াতে এসেছেন। একই সঙ্গে নগরীর নান্দনিক সড়কগুলোও ঘুরেছেন।

এদিকে, নগরীর প্রথম ওভার ব্রিজ এলাকাগুলোতে এবার প্রচুর ভিড় ছিলো। রাস্তার দুইপাশে বিভিন্ন বয়সী মানুষ আড্ডা জমিয়েছিলো। বিভিন্ন বয়সী মানুষ মেতে উঠেছিলো ফটোসেশনে। আর এসব এলাকায় নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিলো পুলিশ সদস্যরা। সন্ধ্যার পর নগরীর বিনোদন স্পটগুলোতে থেকে দর্শনার্থীদের অবস্থান করতে দেয়া হয়নি। তবে নগরীর বিভিন্ন মোড়গুলোতে সন্ধ্যার পর আড্ডা জমতে দেখা যায়।

  • 122
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে