রাজশাহীতে হতদরিদ্রদের বরাদ্দ টাকায় দলীয় ভাগ

প্রকাশিত: মে ৮, ২০২১; সময়: ৪:৪৭ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঈদ ও করোনাকালে বিশেষ ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) বরাদ্দের প্রায় অর্ধেক টাকা দলের লোকরা নিয়ে নিচ্ছে। বিশেষ ত্রাণ সহায়তায় দলকে কোটা দেওয়ার কোনো আইন না থাকলেও রাজশাহী জেলাসহ বিভাগের অধিকাংশ জেলায় এভাবেই চলছে সহায়তা ভাগাভাগি। বরাদ্দ থেকে হতদরিদ্রদের মাথাপিছু ৪৫০ টাকা করে দিতে বলা হয়েছে। আর করোনা সহায়তা মাথাপিছু ৫০০ টাকা।

এ ব্যাপারে রাজশাহী জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আমিনুল হক বলেন, এসব সহায়তা হতদরিদ্র মানুষদের জন্য। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই এলাকা ভিত্তিতে বণ্টন করবেন গরিব মানুষদের মাঝে। কাউকে দলীয় কোটা দেওয়ার বিষয়ে সরকারি কোনো নির্দেশনা নেই।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভায় বিশেষ ভিজিএফের ৪ হাজার ৬২১টি কার্ডের বিপরীতে ২০ লাখ ৭৯ হাজার ৪৫০ টাকা বরাদ্দ এসেছে। ৩০ এপ্রিল পৌর পরিষদের সভার সিদ্ধান্তক্রমে পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি অয়েজুদ্দিন বিশ্বাসকে দলীয় কোটা হিসেবে ২ হাজার কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এই কার্ড বাবদ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা দলীয় কোটায় ২ হাজার কার্ডের বিপরীতে ৯ লাখ টাকা পাবেন।

পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোহাম্মদ ওবাইদুল্লাহ জানান, দলীয় নেতারা তাদের কাছে কোটা চাইলে তারা পরিষদের সভা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নেতাদের কাছ থেকে দলীয় কার্ডের তালিকা পেলে তারা টাকা বুঝিয়ে দেবেন।

পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি অয়েজুদ্দিন বিশ্বাস বলেন, তারা এখনো দলীয় তালিকা দেননি। তবে দলীয় কোটায় কার্ড পাওয়ার কথা তিনি স্বীকার করেন।

জানা গেছে, গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলার প্রতিটি পৌরসভা ও ইউপিতে বরাদ্দ হওয়া ভিজিএফ কার্ডের একাংশ দলীয় কোটা হিসেবে নিচ্ছেন স্থানীয় নেতারা। জেলার বাগমারা, পবা ও মোহনপুর, বাঘা ও চারঘাটেও ভিজিএফের দলীয় কোটা নিচ্ছেন ক্ষমতাসীন নেতারা। একাধিক ইউপি চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করে এই তথ্য জানিয়েছেন। তারা বলছেন, তারা অসহায়। তাদের কিছু করার নেই।

রাজশাহী জেলার একটি সিটি করপোরেশন, ১৪ পৌরসভা ও ৭১টি ইউনিয়নের জন্য ঈদ উপলক্ষ্যে বিশেষ সহায়তা হিসেবে মোট ৯ কোটি টাকা এসেছে। জনসংখ্যার অনুপাতে বরাদ্দ বণ্টন করা হয়েছে। অন্যদিকে করোনা সহায়তা হিসেবে এসেছে ৬০ লাখ টাকা।

হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি সহায়তায় দলীয় নেতাদের ভাগ বসানোর প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) ড. হুমায়ুন কবীর বলেন, এসব বিশেষ সহায়তা শুধু হতদরিদ্র ও গরিব মানুষদের জন্য। জনপ্রতিনিধিরাই তালিকা তৈরি করে দেবেন-এটাই সরকারি নির্দেশনা। কেন চেয়ারম্যান-মেয়ররা দলীয় কোটা দিচ্ছেন সেটা তারাই জানেন। কেউ তার কাছে এ নিয়ে অভিযোগ করেননি বলে জানান তিনি। সূত্র- যুগান্তর

 

  • 630
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে