রাবি শিক্ষকদের গুলি করার হুমকি ছাত্রলীগের

প্রকাশিত: মে ৪, ২০২১; সময়: ২:১৮ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাবি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সিন্ডিকেট সভাকে কেন্দ্র করে দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষকদের সাথে চাকরি প্রত্যাশী সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ছাত্রলীগ নেতারা শিক্ষকদের উপর গুলি চালানোর হুমকি দেয়। এ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পরে সিন্ডিকেট সভা স্থগিত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আগামী ০৬ মে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এর দুইদিন আগে সিন্ডিকেট সভা ডাকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দেয়ার শেষ মহুর্তে এ সভা ডাকা হয় বলে ধারণা দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষকদের। এ আশঙ্কায় সভা বন্ধের দাবিতে ভিসির বাসভবনের সামনে শিক্ষকরা সকাল থেকে অবস্থান নেন। তবে এর আগে উপাচার্যের বাসভবনের গেটে অবস্থান নেয় চাকরি প্রত্যাশী ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক নেতারা।

এ সময় আন্দোলকারী শিক্ষকরা উপাচার্যের বাসভবনে ঢুকতে চাইলে ছাত্রলীগের নেতারা তাদের বাঁধা দেয়। শিক্ষকরা জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা করলে ছাত্রলীগের নেতাদের সঙ্গে শিক্ষকদের ধাক্কাধাক্কি হয়। এসময় আকাশ নামে ছাত্রলীগের এক কর্মী শিক্ষকদের গুলি করে হত্যার হুমকি দেয়। পরে ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানান শিক্ষকরা।

আন্দোলনকারী শিক্ষকদের প্রতিনিধি ও বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সফিকুন্নবী সামাদী বলেন, আমরা উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু উপাচার্য ভাড়াটিয়া নিয়ে আসে আমাদের আন্দোলন বন্ধ করতে।

প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে আমরা সেই চেষ্টাই করছি। তাছাড়া সিন্ডিকেটে নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো বিষয় নাই। সভা ঘিরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় সিন্ডিকেট সভা স্থগিত করা হয়।

এদিকে, রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য বাসভবনের সামনে ‘দুর্নীতিবিরোধী’ শিক্ষকদের গুলির হুমকি দেয়ার ঘটনায় প্রক্টর এবং নিয়ম অমান্য করে নিয়োগ দানের চেষ্টা করায় ‘দুর্নীতিবাজ’ উপাচার্যকে অপসারণ করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা। মঙ্গলবার দুপুরে বিশ^বিদ্যালয়ের আমচত্বরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সমে¥লনে এসব দাবি জানান তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘৩ মে রাতে উপাচার্যের জামাতার নেতৃত্বে বহিরাগত ক্যাডাররা সিনেট ভবনের তালা ভেঙ্গে সিন্ডিকেট সংক্রান্ত কাগজপত্র বের করে নিয়ে আসে। ১৫০ জনকে অবৈধভাব্ে নিয়োগ দানের উদ্দেশ্যে কাগজ প্রসÍুত করা হয় এবং রেজিস্ট্রারকে স্বাক্ষর প্রদানের জন্য চাপ প্রয়োগ করলে তিনি অস্বীকৃতি জানান। আমরা কারো নিয়োগের বিরোধী নই। কিন্তু প্রচলিত বিধি মোতাবেক স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে।’

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ‘দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষকরা উপাচার্যের মেয়াদকালের শেষ সিন্ডিকেট শান্তিপূর্ণভাবে বন্ধ করার চেষ্টা করলে উপাচার্যের জামাতা ও প্রক্টরের নেতৃত্বে প্রতিহত করার চেষ্টা করে। এসময় বহিরাগত ক্যাডার বাহিনী শিক্ষকদের গুলি করার হুমকি দেয়।এক্ষেত্রে প্রক্টরের ভূমিকা ন্যাক্কারজনক। আমরা তার অপসারণ দাবি করছি। পাশাপাশি দুর্নীতিবাজ এই উপাচার্যকে আজকের মধ্যে অপসারণ করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সফিকুন্নবী সামাদী। এসময় বিভিন্ন বিভাওে শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • 113
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে