বাঁধ সংস্কার না হলে বসতবাড়ি হারাবে বাগমারার হাজারো মানুষ

প্রকাশিত: মে ৩, ২০২১; সময়: ৯:৫০ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর বাগমারা কাচারী কোয়ালিপাড়া ইউনিয়নের মীরপুর গ্রাম থেকে কালিকাপুর গ্রামে যাওয়ার রাস্তা সংস্কার হয়নি দীর্ঘদিন। দ্রুত সংস্কার করা না হলে বন্যায় ডুবে যেতে পারে কালিকাপুরসহ আশেপাশের কয়েকটি গ্রাম। এতে কয়েক হাজার মানুষ বসতবাড়িসহ জমি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন। তাই যত দ্রুত সম্ভব রাস্তাটি ব্লকদিয়ে সংস্কার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসী জানান, প্রতিবছর বন্যায় চরম ঝুঁকিতে জীবনযাপন করতে হয় গ্রামবাসীর। গ্রামের একমাত্র এই রাস্তাটি নাকাটি বিলের পশ্চিম ধার ঘেঁষা। রাস্তাটি গ্রামের রক্ষা বাঁধ। রাস্তাটির কিছু স্থানে ব্লক দিয়ে সংস্কার করা হলেও বেশিরভাগই ঝুঁকিপূর্ণ রয়ে গেছে। গতবারের বন্যার পানিতে অর্ধেক রাস্তা ভেঙ্গে বিলিন হয়ে গেছে। বন্যার আগেই এ রাস্তা ব্লক দিয়ে সংস্কার করা না হলে হাজার মানুষের বসতবাড়িসহ সব কিছু বিলিন হয়ে যাবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই রাস্তাটি সংস্কারের অভাবে প্রায় এক যুগ ধরে চরম জনদূর্ভোগ পোহাতে হয় বেশ কিছু গ্রামের হাজার হাজার মানুষকে। এত উন্নয়নমূলক কাজ হলেও এ রাস্তাটির সংস্কারের অভাবে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয় কালিকাপুর গ্রামসহ বেশ কিছু গ্রামবাসীর। বন্যার আগেই এ রাস্তাটি ব্লক দিয়ে দ্রুত সংস্কারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসি।

এলাকাবাসী আরো জানান, কালিকাপুর গ্রামের পূর্বপাশে রয়েছে বৃহৎ নাককাটি বিল। প্রতিবছর হাজার হাজার মেট্রিকটন ধান উৎপাদন হয় এ বিলে। উপজেলার সর্বোচ্চ ধান উৎপাদন হয় এ বিলে। গ্রামের পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে গেছে একটি নদী। নদী ও বিলের মাঝখানে রয়েছে কালিকাপুরসহ কয়েকটি গ্রাম। বন্যার সময় বিল ও নদীর পানিতে পানিবন্দি হয়ে পড়েন এসব গ্রামের মানুষ।

মীরপুর বাজার থেকে কালিকাপুর গ্রামে মানুষের একমাত্র যোগাযোগের রাস্তা নাকাটি বিলের পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে গেছে। সড়ক ও বাঁধ হিসাবে ব্যবহৃত হয় এ রাস্তাটি। রাস্তাটিকে গ্রামের পানি রক্ষা বাঁধও বলা যায়। বন্যার সময় নাকাটি বিলের পানির ঢেউ আছড়ে পড়ে এ রাস্তার উপরে। এ কারনে রাস্তাটি পানির ধাক্কায় ভেঙ্গে যায়। গতবারের বন্যার পানির সাথে যুদ্ধ করে বেশির ভাগ রাস্তাটি ভেঙ্গে গেছে। দ্রুত ব্লক দিয়ে এ রাস্তা সংস্থার করা না হলে এবার হয়তো শেষ রক্ষা হবে না ওই রাস্তাটির। বন্যার আগে ওই রাস্তাটি সংস্কার করা না হলে বিলিন হতে পারে কালিকাপুর গ্রামসহ হাজার মানুষের ভিটে মাটি।

সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তার দুইটি স্থানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্লক দিয়ে সংস্কার করা হলেও বেশির ভাগ রাস্তা সংস্কারের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। গতবারের বন্যায় পানির ঢেউয়ে ভেঙ্গে বিলিন হয়ে গেছে বেশ কিছু অংশ। ব্লকের কাজের অনিয়ম ও দূর্নীতির কারনে পুরো কাজ না করেই থমকে গেছে সংস্কার কাজ- এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর।

এ বিষয় বাগমারা উপজেলার ৮ নং কাচারী কোয়ালিপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যন আয়েন উদ্দিন বলেন, ওই রাস্তাটি কালিকাপুর গ্রামের পানি রক্ষা বাধ ও একমাত্র সড়ক। বন্যার আগে দ্রুত ব্লক দিয়ে ওই রাস্তা সংস্কার করা না হলে এবার বন্যায় ওই রাস্তা রক্ষা করা যাবে না। দ্রুত রাস্তাটি ব্লক দিয়ে সংস্কারের বিষয় বাগমারার সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক মহোদয়কে অবহিত করেছি। আশা করছি এবার বন্যার আগেই ওই রাস্তাটি সংস্কারের ব্যবস্থা করবেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, ওই রাস্তা ব্লক দিয়ে সংস্কার করতে গেলে কোটি কোটি টাকা দরকার। এত বড় অঙ্কের টাকা বরাদ্দ একমাত্র মাননীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের হস্তক্ষেপ ছাড়া সম্ভব না বলে জানান তিনি।

  • 146
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে