চারঘাটে বেড়েই চলেছে পুকুর খননের হিড়িক, কমছে ফসলি জমি

প্রকাশিত: মে ৩, ২০২১; সময়: ২:৪৪ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, চারঘাট : রাজশাহীর চারঘাটে কাউকে তোয়াক্কা না করে বেড়েই চলেছে ফসলি জমিতে পুকুর খননের হিড়িক। করোনাকালীন সময়ে লকডাউনের সুযোগে উপজেলার প্রভাবশালী জমির মালিকগন দুই ফসলি ও তিন ফসলি জমিগুলো নির্বিঘ্নে প্রায় শতাধিক পুকুর খননের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

ফলে দিন দিন কমছে ধানী জমিসহ অন্যান্য কৃষি ফসলী জমি। উপজেলা প্রশাসন এর বিভিন্ন মহল ও দলীয় নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। এবিষয়ে জেলা ও উপজেলা আইন শৃংখলা মিটিং বার বার পুকুর খনন বন্ধে আলোচনা হলেও তা বন্ধ হচ্ছে না বলে জানান উপজেলা চেয়ারম্যান ফকরুল ইসলাম।

শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার চারঘাট ইউনিয়নের বামনিদহ বিলে এরশাদের ছেলে দেলু, আইয়ুব, শাহেদ ও ওহাবের জমিতে ও চৌধুরী পাড়ার পুরো বিল জমি, ভায়ালক্ষিপুর ইউনিয়নের মুংলিতে আজিজুলের জমি, রেজাউল করিমের জমি, সারদা ইউনিয়নের ঝিকরা,ভাটপাড়া ও পাটিয়াকান্দিতে গোপাল মাস্টারের জমিতে, নিমপাড়া ইউনিয়নের বালাদিয়াড়ে আমিনুলের জমি, শলুয়া ইউনিয়নের হলিদাগাছি জাগিরপাড়ার জাহাঙ্গীর মাস্টারের জমিতে এক্্রকেভেটর (ভেকু) দিয়ে মাটি কেটে বড় বড় পুকুর খনন করছে।

অধিকাংশ এ সকল পুকুরগুলোর আশে পাশে রয়েছে আমের বাগান, ধানী জমি, সংযোগ সড়ক, বিলের পানি এক অঞ্চল থেকে আরেক অঞ্চলে যাওয়ার সংযোগ সাঁকো। মাটি আনা নেওয়ার কাজে নিয়োজিত ট্রাকটরগুলো চলাচলের ফলে বিস্তীর্ণ ফসলির জমিও নষ্ট হচ্ছে। এতে করে এসকল জমিতে ফসল ফলানো সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় কৃষক পরানপুর বামনিদহ গ্রামের মাজেল।

তিনি আরও বলেন, অপরিকল্পিত পুকুর খননের ফলে বামনিদহ বিলের মাঝদিয়ে রাস্তায় দুইটি সাকোঁর উভয় মুখ মাটি দিয়ে বন্ধ করায় এ বিলে অধিকাংশ জমিতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। ফসলের জমি কমায় ও জলাবদ্ধতার কারনে কৃষি শ্রমিকরা গ্রামে কাজ হারাচ্ছেন। ফলে কাজের জন্য অধিকাংশ কৃষি শ্রমিকদের শহরে যেতে হয়।

মাটি কাটার কাজে নিয়োজিত আফজাল এখন ৫ বিঘার জায়গা পুকুর খনন করে উত্তোলিত মাটি আশে পাশের বিভিন্ন ভাটায় বিক্রয় করছেন। প্রতি ট্রাক মাটি ৬’শ’ থেকে ৭ ’শ’ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিদিন এ মাটি আনা নেয়ার কাজে ব্যবহার হচ্ছে প্রায় ১৫-২০টি ট্রাকটর যার অধিকাংশই অনুমোদনহীন। পাশাপাশি গত একমাসের ব্যবধানে মাটি বহনকৃত ট্রাকটর দুর্ঘটনায় একজন মটরসাইকেল আরোহী ও একজনজন হেলপার মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

সরকারী নিয়ম অনুযায়ী পুকুর, খাল-বিল, নদ-নদী, চরাঞ্চল, পতিত ও আবাদী জমি থেকে মাটি কাটা নিষিদ্ধ। এছাড়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে নির্মিত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামীন সড়কগুলো ব্যবহার করে ভারি যানবাহন দিয়ে ইট ভাটার কাচাঁমাল আনা নেয়া নিষিদ্ধ। কিন্তু এর কোন নিয়ম মানছেনা স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল।

এলাকার একাধিক জমির মালিক জানান, পুকুর জমির মালিকগন স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে পুকুরগুলো খনন করছেন। এছাড়া পুকুরের মাটি আনা নেয়ায় ট্রাকটরগুলো বার বার আসা যাওয়ার ফলে ধুলোতে আমাদের ফসলি জমির ব্যপক ক্ষতি হচ্ছে। সেই সাথে পরিবেশের সাথে সাথে নষ্ট হচ্ছে রাস্তাঘাটও।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা সামিরা বলেন এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভুমি) নিয়তি রানী কৈরি বলেন, ছুটি নেয়ায় আমি ঢাকায় আছি তবে কর্মস্থলে ফিরে তদন্ত স্বাপেক্ষে অবৈধ পুকুর খননকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • 98
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে