রাজশাহীতে শিশু শিক্ষার্থীরা জড়িয়ে পড়ছে অপরাধে

প্রকাশিত: মে ২, ২০২১; সময়: ১১:৫৪ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী নগরীর বিনোদন কেন্দ্র পদ্মা নদী সংলগ্ন লালনশাহ মুক্ত মঞ্চের পূর্বের একটি ছাউনিতে ১২ থেকে ১৪ বছরের একদল শিশু শনিবার বেলা ১১টার দিকে জলটা পাকিয়ে বসে রয়েছে। চুপি সারে তাদের পেছনে দাঁড়িয়ে দেখা গেল, প্রত্যেকের সামনে ১০ টাকার নোট আর বেশ কিছু পাথরের টুকরো।

শিশুরা তাদের পেছনে অপরিচিত কাউকে দেখতেই দৌড়ে যে যার মতো ছুটে পালালো। এই স্থানটিতে প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শিশু-কিশোর আর সন্ধ্যা নামলেই যুবকের দল জুয়ার আসর বসায়। অবশ্য সন্ধ্যা নামলে এখানে জুয়ার পাশাপাশি মাদকের আসরও বসে।

করোনা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় ধরে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এমন অবস্থায় অভিভাবকদের উদাশিনাতায় শিশু-কিশোরেরা জুয়া, মাদক সহ নানা ধরণের অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ছেন। আবার দরিদ্র পরিবারের পুরুষ শিক্ষার্থীরা লেখা-পড়া ছেড়ে নানা পেশায় জড়িয়ে পড়ছে, এসব পরিবারের নারী শিক্ষার্থীদের অনেকের বিয়ে দিয়ে দেয়া হচ্ছে।

শহুরে যেসব শিক্ষার্থী বাড়িতে থাকছেন তারা অনলাইন ও ডিভাউস নির্ভর হয়ে পড়ছে। এসব শিক্ষার্থী অনলাইনের নামে নেট দুনিয়ার কোন ক্ষেত্রগুলোতে বিচরণ করছে তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। সার্বিক অর্থে দীর্ঘ শিক্ষা বিরতির কারণে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার প্রবণাত বৃদ্ধি পেয়েছে।

এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শিক্ষাবীদদের দাবি শুধু সরকারের ওপর নির্ভরশীল না থেকে অভিভাবকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। সন্তানদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। তাদের সঙ্গে সময় কাটাতে হবে। তাদের মনোভাব বুঝতে হবে। সেই সাথে তাদের শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত রাখতে হবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) লোক প্রশাসন বিভাগের প্রফেসর ড. প্রবণ কুমার পাণ্ডে জানান, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে যে বিষয়টা সব জাগাতেই আন্ডার ফোকাস থাকছে তা হলো ‘শিক্ষা ব্যবস্থা’। ইউনিসেফের তথ্য মতে করোনা মহামারির কারণে ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী ইফেকটেড। উন্নত বিশ্ব অনেকটা কাভার করতে পেরেছে। তার কারণ তাদের ইনফ্রাস্টাকচার উন্নত।

তবে উন্নয়নশীর রাষ্ট্রগুলোর ক্ষেত্রে বিষয়টা ভিন্ন। বর্তমান সরকারের আমলে তথ্যপ্রযুক্তিতে অভূতপূর্ব সাফল্য এসেছে। তবে আমরা কতটুকু তা গ্রহণ রকতে পেরেছি? দেশের মোট শিক্ষার্থীর একটা বড় অংশ গ্রামাঞ্চলে বসবাস করে বা দরিদ্র পরিবারের।

সরকার উদ্যোগ নিয়েছে, তবে তা নানা কারণে ফরপ্রসূ হচ্ছে না। শিক্ষকদের গাফিলতির বিষয় আছে। এতে করে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার সম্ভাবনা বড়বে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মধ্যে রাখতে হবে। সেশনজট বাড়ছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।

এাছাড়া আমাদের একটি প্রবণতা আছে আমরা সবকিছুই সরকারের ওপর চাপিয়ে দেই। শিক্ষকেরও একটা দায়িত্ব আছে। এর বাইরে অভিভাবক, ব্যবসায়ী সবারই একটা দায়িত্ব রয়েছে। সবকিছু সরকার নির্ভরতার কারণে আমরা আমাদের জায়গা থেকে কোন দায়িত্ব নিতে চাইনা বা ইফেকটিভ কিছু করছি না, শুধুমাত্র ক্রিটিসাইজ ছাড়া কিছুকি করছি?

রাবির এই শিক্ষক আরো জানান, সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। এই মুহুর্তে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিলে আমাদের পক্ষে কি ক্লাসরুম বা হলে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা সম্ভভ হবে। অনেকে অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছে বা করছে। তবে শিক্ষার্থীরা কি অনলাইনে ক্লাস করছে? নাকি অনলাইনে অন্যকিছু করছে। এই বিষয়ে অভিভাবকদের কারণীয় আছে। অভিভাবকদের সন্তানদের নজরদারিতে রাখতে হবে।

  • 78
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে