খরায় রাজশাহী নগরের তিনটি ওয়ার্ডে নিরাপদ পানির অভাব

প্রকাশিত: মে ১, ২০২১; সময়: ১১:১০ am |

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রচন্ড খরার কারণে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। সেই সাথে ওয়াসার নিরাপদ পানি সরবরাহ পাচ্ছে। এছাড়াও দেড় থেকে দুই মাস আগে তালাইমারী শহিদ মিনার পাম্প নষ্ট হয়েছে। এতে করে ঠিকমতো পানি পাচ্ছে না নগরীর তিনটি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। ২৫,২৬ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের যে কয়েকটি টিউবওয়েলে পানি উঠছে। ফলে নিরাপদ পানির অভাব রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে. প্রচন্ড খরার কারণে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। সেই সাথে ওয়াসার নিরাপদ পানি সরবরাহ পাচ্ছে। এছাড়াও দেড় থেকে দুই মাস আগে তালাইমারী শহিদ মিনার পাম্প নষ্ট হয়েছে। তাই নগরীর ২৫, ২৬ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বেশিরভাগ টিউবওয়েলগুলোতে সকালের দিকে পানি পাওয়া গেলেও ১১টার পরে টিউবওয়েলগুলোর পানি আরও কমে যায়। বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের তরিকুল আলম পল্টু কাউন্সিলরের বস্তিতে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। সেখানে পানির জন্য মানুষের দীর্ঘ লাইন।

এই বস্তি তিনটির মধ্যে একটি টিউবওয়েলে আয়রন পানি। বাকি দুটির পানি পান যোগ্য। এখানে পানি নিতে এসেছে তালাইমারী শহিদ মিনার এলাকা থেকে রিকশা ভাড়া করে। তিনি একবারে সেহরি পর্যন্ত বেশি করে পানি নিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া রাণীনগর পানির ট্যাঙ্ক, আদর্শ স্কুলের নতুনপড়া, তালাইমারী বাদুরতলা, শহিদ বাবর আলী সড়কের পাশপাশের লোকজন আসে পল্টুর বস্তিতে খাবার পানি নিতে। এছাড়া ওয়ার্ডের হাদির মোড়ে একই অবস্থা। অন্যদিকে, নর্দানের মোড় থেকে পানি নিতে আসে মোন্নাফের মোড়ের একটি টিউবওয়েলে।

এলাকার ইমরান আলী জানান, ‘দিনে তিনবার পানি নিতে আসি। রমজান মাস সবচেয়ে বিকেলের দিকে লম্বা লাইন হয়। একেক জন তিন-চারটা পানির পাত্র নিয়ে আসে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে টিউবওয়েল থেকে পানি সংগ্রহ করে নিতে হয়।’ আঞ্জুময়ারা বেগম (৩৮) জানান, ‘এই এলাকায় টিউবওয়েল বসালে ভালো পানি ওঠে না (আয়রন যুক্ত ও ঘোলা পানি)। আমার ছেলেরা তিন-চার বার চেষ্টা করেছে। তার পরেও ভালো পানি পাওয়া যায়নি। তিনি আরও জানান, ওয়াসার পানি ঠিকমতো পাওয়া যায় না। পাওয়া গেলেও পানির গতি একবারে নেই।’

নগরীর ২৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তরিকুল আলম পল্টু জানান, ‘এলাকায় পানির সমস্যা অনেক দিনের। দেড় থেকে দুই মাস আগে তালাইমারী শহিদ মিনার পাম্প নষ্ট হয়েছে। এখন পানি ঠিকঠাক পাওয়া যায় না। বিদ্যুৎ যাওয়া মাত্র পানি চলে যায়। এতে পানির জন্য ছোটাছুটি বাড়ে। তিনি বলেন, ওয়াসার পাইপ চুয়ে যে পানি আসে তাতেও গতি নেই। এর মধ্যে গত ২৭ এপ্রিল সাধুর মোড় এলাকায় পাইপে সমস্যা হয়েছিল। এতে সারাদিন ছিলো না পানি।’

রাজশাহী ওয়াসা প্রধান প্রকৌশলী পারভেজ মামুদ জানান, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।’ রাজশাহী ওয়াসা’র তথ্যমতে, নগরীতে দৈনিক পানির চাহিদা ১১ কোটি ৩২ লাখ লিটার। এরমধ্যে ৮ কোটি ৬৫ লাখ লিটারই তোলা হয় ভূ-গর্ভস্থ হতে। আর মাত্র ৯০ লাখ লিটার ভূ-উপরিস্থ পানি শোধন করে নগরবাসীর মাঝে সরবরাহ করা হয়।

প্রসঙ্গত, রাজশাহী নগরবাসীসহ আশে-পাশের পৌর এলাকাগুলোতে পানি সরবরাহের জন্য সরকার মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় রাজশাহীর গোদাগাড়ীর পদ্মা ও মহানন্দা নদীর মোহনায় পানি শোধনাগার নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৬২ কোটি টাকা।

  • 66
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে