তানোরে মরা গাছ টেন্ডার নিয়ে তাজা কেটে সাবাড় করছেন যুবলীগ নেতা

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৯, ২০২১; সময়: ১০:০৮ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, তানোর : রাজশাহীর তানোর-আমনুরা সড়কের পাশে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) ২৮টি মরা শিশুগাছ টেন্ডার নিয়ে প্রকাশ্যে মোটাতাজা গাছ কেটে সাবাড় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে।

ওই যুবলীগ নেতার নাম আহসান হাবিব (এলাকায় ল্যাংড়া ভুট্টো নামে পরিচিত)। উপজেলার বাধাইড় ইউপির তৈলপাড়া ৮নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক তিনি। এর আগেও একাধিক বার নামে-বেনামে বিএমডিএর কাছে অতি কৌশলে মরা গাছ টেন্ডার নিয়ে মোটা মোটা তাজা গাছ কেটে সাবাড় করেছেন তিনি।

সর্বশেষ গত ১৩ এপ্রিল যুবলীগ আহসান হাবিব তার ছোট ভাই মিনহাজের নামে ২৮টি মরা শিশুগাছ ৬৭ হাজার ৫০০ টাকায় টেন্ডার নিয়ে গাছ কাটা শুরু করেছেন। তাদের টেন্ডারে চিকন মরা ২৮টি গাছ কাটার কথা থাকলেও বেছে বেছে ৪০টির বেশি তরতাজা মোটা শিশু গাছ কেটে নিচ্ছেন তিনি।

আর যুবলীগ নেতার এসব কর্মকান্ডকে সহযোগিতা করছেন বিএমডিএ তানোর জোনের কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা। তারা তাজা গাছ কাটার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করে উল্টো যুবলীগ নেতার পক্ষে সাফাই গাইছেন।

বুধবার (২৮ এপ্রিল) সকালে মুন্ডুমালা-আমনুরা সড়কের তৈলপাড়া নামক স্থানে মরা গাছের পরিবর্তে একটি মোটা তাজা শিশুগাছ ৫-৬ জন শ্রমিক দিয়ে কাটাচ্ছিলেন যুবলীগ নেতা ও তার ভাই মিনহাজ।

তাজা গাছ কাটার বিষয়টি বিএমডিএ কর্র্তৃপক্ষকে সঙ্গে সঙ্গে অবহিত করেন গ্রামের লোকজন। এর কিছুক্ষণ পরে ঘটনাস্থলে আসেন বিএমডিএ তানোর জোনের পরিদর্শক মুঞ্জুর। উপস্থিত হন কয়েকজন সংবাদকর্মীও।

পরিদর্শক মুঞ্জুরের সামনে একটি মোটা তাজা শিশুগাছ কাটা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। সে সময় পরিদর্শক স্থানীয় লোকজন ও সংবাদ কর্মীদের কাছে স্বীকার করেন যে, তাজা গাছটি কাটা হয়েছে সেটি টেন্ডারের নয়। তবে বিষয়টি পত্রিকায় খবর প্রকাশ না করার জন্য বিএমডিএর পরিদর্শক ও যুবলীগ নেতা সংবাদ কর্মীদের ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করেন।

সংবাদ কর্মী ও স্থানীয় লোকজন চলে যাওয়ার এক ঘন্টা পরে সরেজমিন ঘটনাস্থলে আসেন তানোর জোনের বিএমডিএর সহকারী প্রকৌশলী মাহাফুজুর রহমান। এর মধ্যে পাল্টে যায় সব কিছু। তাজা গাছ কাটলেও সেটা হয়ে যায় মরা গাছ। মরা গাছ কেটেছে বলে সাফাই গাইতে শুরু করেন ওই প্রকৌশলী।

গ্রামবাসীরা জানান, সড়কে অতিঝুকিপূর্ণ মরা গাছ রয়েছে যেগুলো সড়কে চলা যানবাহনের উপর পড়ে প্রাণহানীর আশঙ্কা রয়েছে- এমন লিখিত আবেদনে গ্রামের কিছু মানুষের স্বাক্ষর নকল করে বরেন্দ্র বহুমুখি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) বরাবর আবেদন করে যুবলীগ নেতা আহসান হাবিব ও তার সিন্ডিকেটের সদস্যরা।

সড়কে মরা গাছের ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে বিএনডিএ কর্র্তৃপক্ষ সকল প্রক্রিয়া সর্ম্পূণ করে প্রকাশ্যে টেন্ডারের ব্যবস্থা করেন। টেন্ডারের সময় ওই যুবলীগ নেতার সিন্ডিকেট চক্রের বাইরে কাউকে অংশগ্রহণ করতে দেয়া হয়না। সব কিছু করা হয় অতি গোপনে। অর্ধেক দামে নেওয়া হয় মরা গাছ।

অভিযোগ রয়েছে, অর্থের বিনিময়ে যুবলীগ নেতাকে গাছগুলোর টেন্ডার পাইয়ে দিতে সহযোগিতা করে থাকেন বিএমডিএ তানোর জোনের পরিদর্শক মুঞ্জুর। তিনি নিজেই এসব মরা গাছের টেন্ডারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে থাকেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা আহসান হাবিব ওরফে ল্যাংড়া ভুট্টো শুরুতেই তার টেন্ডারের গাছ কাটছেন বলে দাবি করলেও কিছুক্ষণ পরে তাজা গাছ কাটার বিষয়টি স্বীকার করে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ জানান। এর বিনিময়ে সাংবাদিকদের টাকার প্রলোভনও দেন তিনি।

এসব বিষয়ে বিএমডিএর তানোর জোনের সহকারী পরিদর্শক মুঞ্জুর বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়।

যুবলীগ নেতার তাজা গাছ কাটার বিষয়ে তিনি বলেন, একটি গাছ টেন্ডারের বাইরে কেটেছে। গাছটি জব্দ করলেন না কেন জানতে চাইলে তিনি এই প্রতিবেদকের সাথে সরাসরি স্বাক্ষাতের প্রস্তাব দেন।

উপজেলা তানোর জোনের বিএমডিএর সহকারী প্রকৌশলী মাহাফুজুর রহমান যুবলীগ নেতার পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, বুধবার গ্রামবাসির কাছে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাজা গাছ কাটার প্রমাণ পাইনি।

সাংবাদিকদের কাছে তাজা গাছ কাটার ছবি এবং ভিডিও রয়েছে জানালে প্রকৌশলী বলেন, ছবিগুলো আমার অফিসে এসে দেখান, দেখি কি করা যায়।

পরক্ষণেই তিনি বলেন, অযথা এগুলো লিখে কি হবে বলেন? শুধু একটু হয়রান করা।

  • 303
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে