রাসিকের নাইট গার্ডের ওপর সন্ত্রাসীদের হামলা

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৬, ২০২১; সময়: ৪:৪৬ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজাশাহী সিটি কর্পোরেশনের নাইট গার্ড ও রাসিক ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাগরকে (৩৬) মেরে গুরুতর আহত করেছে সন্ত্রাসীরা। আহত সাগর নগরীর পাঠানপাড়া ঈদগাহ এলাকার হাবু শেখের ছেলে। তিনি এখন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের ৮নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার মাথায় দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে প্রায় দুই ইঞ্চির মতো কেটে যায়। মাথায় তার চৌদ্দটি সেলাই পড়েছে। সেইসাথে লোহার রড দিয়ে পায়ের দিক থেকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে বলে জানান আহত সাগর। তার শরীরের নানা স্থানে আগাতের চিন্থ দেখা যায়।

সাগর বলেন, তিনি রাসিক এর একজন নাইট গার্ড। লালন শাহ মুক্তমঞ্চ এলাকায় দায়িত্বরত আছেন তিনি। মুক্ত মঞ্চের নিচে চরে অনেক কাশবন রয়েছে। সেই কাশবনে নানা ধরনের অপকর্ম হয়। এছাড়াও গরীব মানুষগুলো কাশবন কেটে জীবিকা নির্বাহ করে। এই কাশবনে একই এলাকার ফারুকের ছেলে ফয়সাল তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে নানা ধরনের অপকর্ম করে আসছে। সেইসাথে যারা কাশবন কেটে বিক্রি করে তাদের নিকট থেকে চাঁদা নেয়। আর চাঁদা না দিলে মারপিট করে বলে জানান তিনি।

সাগর আরো বলেন, ফয়সালের এই অপকর্মে বাধা দিলে রোববার (২৫ এপ্রিল) মাগরীব নামাজ পরার পরে লালনশাহ্ মুক্তমঞ্চের সিড়ির নিকট গেলে ফয়সাল ও তার সহযোগি সন্ত্রাসী বাহিনী দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লোহার রড দিয়ে এলোপাতারী মারপিট শুরু করে। সেইসাথে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে মাথা কেটে ফেলে। এসময়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডেকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান বলে জানান সাগর। এ নিয়ে বোয়ালিয়া থানায় ফয়সালসহ অজ্ঞাত আরো বেশ কয়েকজনের নামে মামলা করেছেন বলে জানান তিনি। শুধু তাইনয় সন্ত্রাসীরা ৯টার দিকে তার অটোগ্যারেজে হামলা চালিয়ে টিভি, চেয়ার ও এসিসহ অন্যান্য সামগ্রী ভেঙ্গে ফেলেন বলে জানান সাগর।

মামলা বিষয়ে জানতে চাইলে বোয়ালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিবারন চন্দ্র বর্মন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। রোববার রাতেই এটেম টু মার্ডার এর ধারায় চার জনের নাম উল্লেখ করে আরো অজ্ঞাত চার থেকে পাঁচ জনের মামলা হয়েছে। আসামীরী সন্ত্রাসী প্রকৃতির বলে জানান তিনি। রোববার রাত থেকে আসামী ধরার চেষ্টা চলছে। এখনো কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। শুধু এজাহারভুক্ত আসামীরাই নয়। আরো ১২-১৪জনের একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী বাহিনী এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে। যা সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ দেখে সনাক্ত করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

  • 144
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে