বাঘায় সড়কে সড়কে তরমুজের বাজার, ঠকছেন ক্রেতারা

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৫, ২০২১; সময়: ৮:৫৭ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঘা : রাজশাহীর বাঘায় সড়কের ধারে বসছে তরমুজের বাজার। সড়কের ধারে তরমুজ স্তুপ করে রাখা হচ্ছে। উপজেলার প্রায় প্রতিটি হাট-বাজারের পাশের সড়কে ছেয়ে গেছে তরমুজের বাজার। এ সকল বাজারে প্রতিদিন প্রায় শতাধিক ব্যবসায়ীকে তরমুজ নিয়ে বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে। বাইরে থেকে কিনে সড়কের ধারে নামাতেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে তরমুজ। আলাদা করে কোনো বাজারে নিয়ে যেতে হচ্ছে না। রাস্তাতেই মোটরসাইকেল, ভ্যান, উলকা ইত্যাদি যানবাহন থামিয়ে তরমুজ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন দূর-দূরান্তের মানুষ।

রাজশাহী থেকে উপজেলার বাজুবাঘার নিজ বাড়িতে যাচ্ছিলেন হানিফ মিঞা। তিনি মোটরসাইকেল থামিয়ে ৩৩০ টাকায় একটি তরমুজ কিনলেন। তিনি জানালেন, ইফতারে বাড়ির সবাই মিলে খাবেন, সেজন্য তরমুজটা কিনলেন।

বাঘা বাজারে রাস্তার ধারে তরমুজ নিয়ে বসেছিলেন সুজন আলী। তার সাথে কথা হলে তিনি জানান, তরমুজ বিক্রি করছেন ৫৫ টাকা কেজি দরে। পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এসব তরমুজ কিনেছেন তিনি।

তিনি বলেন, বৃষ্টি না হওয়ায় তরমুজ এবার মিষ্টি হয়েছে। এজন্য ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। রমজান মাসে ভালো বিক্রি হচ্ছে। করোনাকালে তরমুজ বিক্রি করে লাভবান হচ্ছি।

পাইকার ব্যবসায়ী মোয়াজ্জেম জানান, নাটোর, বনপাড়া, লালপুর থেকে তরমুজ কিনে এনে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে পাইকারি দরে বিক্রি করছেন। ওজনে কিনে ওজনেই বিক্রি করেন। তিনি বলেন, মাঠ থেকে যারা কিনেন, তারা শতকরা হিসেবে কিনেন। আর বাজারে বিক্রি করেন ওজনে।

আলমগীর নামের একজন বলেন, পিস হিসেবে কিনে ওজনে তরমুজ বিক্রি করে মুনাফা লুটে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এতে করে অনেক ক্রেতার ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে তরমুজ। ইচ্ছে থাকলেও মৌসুমি ফল না কিনেই হতাশ মনে ফিরছেন তারা। তিনি ও আরও অনেকেই ওজনে নয়, পিস হিসেবে তরমুজ বিক্রির দাবি জানান।

শাহদৌলা সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক সনজীদ কুমার সরকার বলেন, তরমুজে এন্টি অক্সিডেন্ট, কেরোটিনয়েটস থাকে। সেটা মস্তিকের স্বাস্থ্য রক্ষা করে। এলজাইমার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। উচ্চ রক্তচাপ, কলেষ্টোরোল নিয়ন্ত্রণ করে ও রোদে পোড়া থেকে ত্বককে রক্ষা করে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে ও ক্যানসার প্রতিরোধক হিসেবেও কাজ করে।

তিনি আরও বলেন, তরমুজের বীজে জিংক, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম প্রভৃতি উপাদান রয়েছে। তরমুজে ৯২ শতাংশ পানি, ৬ শতাংশ চিনি ও অন্যান্য উপাদান রয়েছে ২ শতাংশ। এটা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো একটা ফল। তবে তরমুজ খালি পেটে খাওয়া উচিত নয় বলে জানান তিনি।

এদিকে তরমুজের পাশাপশি অনেক জায়গায় বাঙ্গিও বিক্রি করতে দেখা গেছে। তবে বাঙ্গি ওজন করে বিক্রি করছেন না বিক্রেতারা। আকারভেদে বাজারে প্রতিটি বাঙ্গি ৩০ টাকা থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। কোনটা আবার এর চেয়েও বেশি দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অফিসার শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, বাঙ্গিতে ভিটামিন এ ও সি আছে। সেই সঙ্গে ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়ামও রয়েছে। এছাড়া বাঙ্গিতে যে আঁশ আছে, সেটা ক্যানসার প্রতিরোধক। ইফতারির সময় প্রচুর মানুষ তরমুজ ও বাঙ্গি খান। এটা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো।

  • 128
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে