রাজশাহীতে দাম বেড়েছে সবজির, মাংসের দাম বাড়ার আশঙ্কা

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৩, ২০২১; সময়: ৯:৩৩ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর বাজারে সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজি প্রতি কয়েক টাকা বেড়েছে। কমেছে পোলট্রি ও সোনালী মুরগির দাম। এছাড়া অন্যান্য পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও আগামীতে গরু ও খাশির মাংসের দাম বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিক্রেতারা। শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) রাজশাহীর সাহেববাজার ও অন্য বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিক্রেতারা বলছেন, লকডাউনের শুরুতে ক্রেতা সমাগম একদম কম ছিল। সেসময় আমদানি পর্যাপ্ত থাকলেও চাহিদা কম ছিল। এর জন্য দাম তুলনামূলক কম ছিল। কিন্তু এ সপ্তাহে ক্রেতা সমাগম বাড়ার সাথে বেড়েছে চাহিদা। ফলে দামও বেড়েছে কিছুটা।

অন্যদিকে, দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ দাম নিয়ে সন্তুষ্ট আবার কেউ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে তাদের সবার দাবি, ঈদের আগে যেন হুট করে বাজারমূল্য আকাশচুম্বী না হয়ে যায়। সেজন্য সংশ্লিষ্টদের নজরদারি প্রত্যাশা করেছেন তারা।

কাঁচাবাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৩৫ টাকা, করলা ৪০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ২৫ টাকা, প্রতি কেজি গাজর ১৫ থেকে ২০ টাকা, কাঁচামরিচ ৪০ টাকা, আলু ১৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২৫ থেকে ৩০ টাকা, আদা ৬০ টাকা ও রসুন ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

তেলের মধ্যে সয়াবিনের দাম কিছুটা বেড়েছে। প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন ১২৫ টাকা লিটার ও বোতলজাত ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা লিটার দরে বিক্রি হয়েছে। অপরিবর্তিত রয়েছে অন্যান্য মসলাজাত পণ্যের দাম।

বাজারে প্রতি কেজি পোলট্রি মুরগির দাম ১৫ থেকে ২০ টাকা কমে ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা বিক্রি হয়েছে। এছাড়া দেশি মুরগি ৪৩০ টাকা, সোনালী দাম কমে ২২০ টাকা, দাম বেড়ে সাদা লেয়ার ১৮০ টাকা ও লাল লেয়ার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

অন্যদিকে, গরুর মাংস ৫৫০ টাকা ও খাশির মাংস ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা ও ছাগলের মাংস ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সাহেববাজারের মাংস বিক্রেতা সাইদুর রহমান। তবে মাংসের দাম আগামীতে বাড়তে পারে বলে জানান এই মাংস বিক্রেতা। তিনি বলেন, গরু-ছাগলের হাট বন্ধ। আমাদেরকে গ্রামেগঞ্জে গিয়ে গরু-ছাগল কিনতে হচ্ছে। ঈদের আগে চাহিদা বাড়লে দামও বাড়তে পারে।

এদিকে, মাছের দাম খুব একটা বাড়েনি। রকমভেদে বাজারে প্রতি কেজি রুই ১৪০ থেকে ৩০০ টাকা, মৃগেল ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা, কাতল ১৮০ থেকে ৩৫০ টাকা, চিংড়ি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, পাবদা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, ট্যাংরা ৫০০ টাকা, ইলিশ ৮০০ থেকে ১১০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

চালের বাজারে দাম অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতি কেজি আটাশ ৫৬ থেকে ৫৮ টাকা, মিনিকেট ৬০ থেকে ৬২ টাকা, জিরাশাল ৬০ থেকে ৬২ টাকা, বাসমতি ৬৮ টাকা, পায়জাম ৬৫ টাকা, নাজিরশাল ৬৫ টাকা, কাটারিভোগ সেদ্ধ ৭৫ টাকা, কাজল লতা ৬৫ টাকা, কালজিরা ৮০ থেকে ৯০ টাকা, চিনিগুড়া ৯৫ থেকে ১০০ টাকা, রাঁধুনি ৭০ টাকা, কাটারি আতপ ও পায়জাম আতপ ৬৫ টাকা, বালাম ৬৫ টাকা ও রনজিত ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

নগরীর সাহেববাজারের এ.পি. চাউল ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী অশোক প্রসাদ বলেন, চালের দাম বাড়েনি। বোরো ধান কাটতে শুরু করেছে কৃষক। ফলে আগামীকে দাম বাড়া তো দুরে থাক, দাম আরও কমবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাজার দাম নিয়ে ক্রেতারা মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। সাহেববাজারের ক্রেতা সজিব বলেন, গত সপ্তাহের চেয়ে সবজির দাম কেজি প্রতি কয়েক টাকা করে বাড়তি। তবে এই লকডাউনে যেমনটা বাড়ার আশঙ্কা করেছিলাম, তেমনটা বাড়েনি।

  • 227
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে