রাজশাহীতে নেই বিশেষায়িত হাসপাতাল, আইসিইউয়েরও সংকট

প্রকাশিত: এপ্রিল ১২, ২০২১; সময়: ১:৪০ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীতে প্রতিদিনই করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। তারপরও রাজশাহীতে এখন করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। করোনা শনাক্তকরণ ও করোনা রোগীদের চিকিৎসায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে করোনা শনাক্ত করা হতো। গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাব বন্ধ রয়েছে। এখন শুধু রাজশাহী মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। যেহেতু রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার করোনা পরীক্ষা করা হয় একমাত্র রাজশাহীতেই সেহেতু চাপও বেড়েছে করোনা পরীক্ষার।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে কলেজের পিসিআর ল্যাবে চারটি শিফটে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এক একটি শিফটে ৯৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। ফলে গড়ে প্রতিদিন ৩৮৪ টি করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে রাজশাহীতেই প্রতিদিন গড়ে ১০০ জনের করোনা শনাক্ত হচ্ছে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবের ইনচার্জ ভাইরোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. সাবেরা গুলনাহার জানান, আমাদের ল্যাবে প্রতিদিন যে পরিমাণ নমুনা আছে তাতে চারটি শিফট চালু করেও আমরা সব নমুনা পরীক্ষা করতে পারছি না। প্রতিদিন চার শিফটে কাজ করেও ৭৫০টি নমুনা জমে গেছে। পরীক্ষা করতে পারছি না। এছাড়া লোকবলের অভাব তো আছেই। এছাড়া আমাদের ছয়জন টেকনিশিয়ানের করোনা আক্রান্ত হওয়ায় পরিস্থিতি সামলাতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

সাবেরা গুলনাহার আরও জানান, তারপরও যারা নমুনা দিতে আসছেন তারা বিদেশগামী কিংবা কোনো প্রয়োজনে নমুনা পরীক্ষা করতে এসে পজিটিভ হচ্ছেন। অথচ যাদের উপসর্গ আছে সেরকম মানুষজন কম নমুনা পরীক্ষা করাচ্ছেন। তারা নমুনা দিতে এলে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়বে।

এদিকে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও রাজশাহীতে এখন পর্যন্ত কোনো ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতাল নেই। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৯, ৩০, ২৫, ২২, ২৭ নম্বর ওয়ার্ড করোনা ওয়ার্ড ঘোষণা দিয়ে করোনা আক্রান্ত ও সন্দেহভাজনদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অথচ গতবছর সংক্রমণ বৃদ্ধি পেলে রাজশাহীর সংক্রামক ব্যধি হাসপাতাল ও মিশন হাসপাতালকে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল ঘোষণা করা হয়েছিলো। যদিও অক্সিজেনের ব্যবস্থা না থাকায় ও করোনার সংক্রমণ কমে যাওয়ায় হাসপাতাল দুটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাই নতুনভাবে বিশেষায়িত হাসপাতালের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ও উপসর্গে রোগী মারা গেছে তিন জন। হাসপাতালে করোনা রোগী ভর্তি আছে ৬২ জন ও করোনা সন্দেহভাজন রোগী ভর্তি আছে ৪৫ জন। হাসপাতালের আইসিইউয়ের ব্যবস্থা আছে ১০জনের। সেখানে ভর্তিই আছে ৯ জন করোনা রোগী।

তবে হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, আরও ৮টি আইসিইউ সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। করোনা ওয়ার্ডের সংখ্যাও বাড়ানো হচ্ছে।

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন জানান, রাজশাহীর সদর হাসপাতালকে বিশেষায়িত হাসপাতাল করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে কথা বলা হচ্ছে।

এদিকে করোনা সংক্রমণ বাড়লে রাজশাহীতে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো প্রবণতা নেই। শহরে-গ্রামে বেশিরভাগ মানুষজনই মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি।

  • 70
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে