বাগমারায় মাছ চুরির সময় এলাকাবাসীর হামলায় জ্বীন বাহিনীর ১০ সদস্য আহত

প্রকাশিত: এপ্রিল ১১, ২০২১; সময়: ৩:৩৩ pm |

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বাগমারা: রাজশাহীর বাগমারায় দীঘি থেকে মাছ চুরির সময় এলাকাবাসীর হামলায় জ্বীন বাহিনীর ১০ সদস্য আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে জ্বীন বাহিনীর ৩ সদস্যকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন, একই ইউনিয়নের বড়বিহানালী গ্রামের বেলাল হোসেন (৫৫), রুবেল হোসেন (৩০) ও বিপুল মিয়া (১৬)। অন্যান্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বড়বিহানালী ইউনিয়নের বিলসুতি বিলে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বড়বিহানালী ইউনিয়নের বিলসুতি বিলে একই ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আজাহার আলী দীঘি খননের মাধ্যমে মাছ চাষ করে আসছিলেন। ওই ইউনিয়নের আ’লীগের এক প্রভাবশালী নেতার গঠন করা জ্বীন বাহিনীর সদস্যরা শনিবার (১০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০ টার দিকে দীঘিতে জাল নামিয়ে মাছ লুট করছিল। জানতে পেরে দীঘির মালিক আজাহার আলী এলাকার লোকজনকে নিয়ে ঘটনাস্থল যান। দীঘিতে গিয়ে তারা দেখতে পায় জ্বীন বাহিনীর ১২/১৫ জন্য সদস্য বেড়জাল নামিয়ে মাছ শিকার করছে।

এসময় স্থানীয় লোকজন চোর চোর বলে চিৎকার দিয়ে তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে এলাকাবাসীর হামলায় টিকতে না পেরে জ্বীন বাহিনীর সদস্যরা পালানোর চেষ্টা করে। গ্রামবাসীর হামলায় জ্বীন বাহিনীর ১০ সদস্য আহত হয়। খবর পেয়ে আ’লীগের প্রভাবশালী নেতার নেতৃত্বে জ্বীন বাহিনীর অন্যান্য সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে বাগমারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, আ’লীগের সম্মেলনে পদে আসার পর থেকেই ওই প্রভাবশালী নেতা এলাকায় একের পর এক অপকর্ম করে যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই হামলা অথবা মামলার শিকার হতে হয়। এছাড়াও এলাকার খালবিল ও সরকারী পুকুর গুলো জবরদখলের মাধ্যমে নিজের আয়ত্বে নেয়। দলীয় পদে আসায় তার ক্ষমতা বেড়ে যায়। এলাকায় অপকর্ম করার জন্য তিনি একটি বাহিনী গঠন করে তার নাম দেন জ্বীন বাহিনী। জ্বীন বাহিনী এলাকায় তান্ডব চালিয়ে অন্যে জমি জবরদখল ও পুকুরে মাছ লুটসহ বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়ে। রাতের আঁধারে বাহিনীর সদস্যরা আ’লীগের ওই প্রভাবশালী নেতার নির্দেশে এলাকার একাধিক বিল ও পুকুরের মাছ লুট করেছে বলে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

দীঘির মালিক আজাহার আলী অভিযোগ করেন, আ’লীগের ওই প্রভাবশালী নেতার কারণেই এলাকার পুকুর ও বিলে মাছ চাষ করার সমস্যা দেখা দিয়েছে। তারা রাতের আঁধারে তার জ্বীন বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে পুকুর ও বিলের চাষকৃত মাছ গুলো লুট করে নিয়ে যায়। এছাড়াও তার বাহিনীর সদস্যদের টাকা না দিলে মাছ চাষীদের মাছের গাড়ি আটকিয়ে রাখে বলেও তিনি জানান। তারা অবিলম্বে বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ওই প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানান।

মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে অভিযুক্ত আ’লীগ নেতা তার ফোনটি রিসিভ করেন নি।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বাগমারা থানার ওসি মোস্তাক আহম্মেদ তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি কেটে দেন। তবে পরির্দশক (তদন্ত) আফজাল হোসেন জানান, ওই ঘটনায় থানায় এখনো কোন অভিযোগ হয়নি। লিখিত অভিযোগ আসলেই তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।

অপরদিকে রোববার সকালে ভবানীগঞ্জ পৌরসভার পাহাড়পুর মহল্লায় প্রতিপক্ষের হামলায় ভবানীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র খোদাবক্স আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

  • 581
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে