ভাষাসৈনিক মনোয়ারা রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

প্রকাশিত: এপ্রিল ৮, ২০২১; সময়: ৮:৩৩ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : দিনব্যাপি বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দেশের নারীমুক্তির অন্যতম পথিকৃৎ আজীবন আত্মত্যাগী বিশিষ্ট ভাষাসৈনিক মনোয়ারা রহমানের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে রাজশাহী প্রেসক্লাব ও জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদ।

বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল- সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে উন্নত খাবার বিতরণ, দোয়া মাহফিল, কবর জিয়ারত, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সংক্ষিপ্ত পরিসরে আলোচনা সভা।

এদিন দুপুরে নগরীর হযরত শাহ মখদুম রূপোষ (রহঃ) এর মাজারে সুবিধাবঞ্চিত শতাধিক মানুষের মাঝে উন্নত খাবার বিতরণ, মাজার জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল, বাদ আসর নগরীর নগরীর হেতম খাঁ গোরস্থানে প্রয়াত ভাষাসৈনিকের কবর জিয়ারত এবং সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সংক্ষিপ্ত পরিসরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

দুপুরে উন্নত খাবার পেয়ে সুবিধা বঞ্চিত মানুষেরা আনন্দিত হন এবং আয়োজকদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। মাজার জামে মসজিদে দোয়া মাহফিলে দোয়া পরিচালনা করেন মাজারের খাদেম জহুরুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত সকলেই ভাষাসৈনিক মনোয়ারা রহমানের জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেন এবং তার সর্বোচ্চ জান্নাত কামনা করেন।

বাদ আসর নগরীর হেঁতম খা গোরস্থানে কবর জিয়ারত করা হয়। এরপর বিকেলে নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে প্রয়াত ভাষাসৈনিক মনোয়ারা রহমানের সন্তান, রাজশাহী প্রেসক্লাব ও জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদ সভাপতি সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন- সাধারণ সম্পাদক আসলাম-উদ-দৌলা, রাজশাহী ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ মামুদ হাসান, জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদের সহঃ সভাপতি সালাউদ্দীন মিন্টু, সদস্য মো. শরিফ উদ্দীন।

দিনব্যাপী কর্মসূচিতে জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদের প্রচার সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান, সদস্য জামিল হোসেন জনি, রাকিবুল হাসান শুভ, আরিফুল ইসলাম, মাজেদুর রহমান, হানিফ চৌধুরীসহ বিশিষ্টজনরা।

স্মরণ সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় মুক্তি আন্দোলনে রাজশাহী তথা উত্তরাঞ্চলে বেগম মনোয়ারা রহমান একজন অনুসরণীয় নারীনেত্রী। রাজশাহীর প্রখ্যাত আইনজীবী ভাষাসৈনিক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা এ্যাডভোকেট মাদার বখশ্রে প্রথম সন্তান হিসেবে মনোয়ারা রহমান আজীবন পিতাকে অনুসরণ করেছেন। ভাষা আন্দোলনের সময় তিনি ছিলেন ১০ম শ্রেণীর ছাত্রী। রাজশাহীর সচেতন নারী ও পিএন গার্লস স্কুলের ছাত্রীদের নিয়ে মনোয়ারা রহমান অগ্নিশিখা মিছিল বের করেন। ছাত্রী জীবনে তিনি ছিলেন অধিকার সচেতন। তৎকালীন মুসলিম লীগ সরকারের অন্যায় অত্যাচার ও দমন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। রাজশাহী কলেজে ভর্তি হওয়ার পরে তিনি প্রগতিশীল ছাত্ররাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন।

তারা বলেন, গণমানুষের মুক্তির রাজনীতি মানবপ্রেম ছিলো তাঁর জীবনের মূলমন্ত্র। ৫২, ৫৩, ৫৪ সালে বেগম মনোয়ারা রহমান সারাদেশে এক আলোচিত নাম। স্বাধীনতা পরবর্তী দেশ ও জাতি গঠনে সমাজসেবার ক্ষেত্রে তিনি ৪০ বছর ধরে নারী সমাজের উন্নয়ন, নারী মুক্তি, নারী স্বাধীনতা, শিক্ষা ও নিরক্ষরতা দূরীকরণসহ নিঃস্বার্থভাবে অনন্য অবদান রেখে গেছেন।
রাজশাহী মহিলা শিল্প প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পবা, মোহনপুর, চারঘাট, তানোর, গোদাগাড়ীসহ অত্র অঞ্চলের গবাদিপশু ও মৌমাছি পালন কর্মসূচি, বৃক্ষরোপনসহ বিভিন্ন গঠনমূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে তিনি ১০ হাজারেরও অধিক নারীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন। অসহায় নারীদের সেলাই, বুটিক, এম্ব্রোডারি ও চামড়ার উপর কারুকাজ, তাঁতশিল্পে বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বনির্ভরতা অর্জনে তিনি একক ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। এসব মহান ব্যক্তিদের স্মরণ করা সকলের নৈতিক দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন বক্তারা।

 

  • 20
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে