বাগমারায় ইউপি চেয়ারম্যানের ক্যাডার বাহিনীর অস্ত্রের মহড়া

প্রকাশিত: এপ্রিল ৬, ২০২১; সময়: ৩:৫৬ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগমারা : রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে আশরাফুল ইসলাম নামের এক জেলে হত্যার মামলার আসামী চেয়ারম্যানের ক্যাডার বাহিনী। ইউনিয়ন জুড়ে দেয়া হচ্ছে সুসজ্জিত অস্ত্রের শোডাউন। অস্ত্র আতঙ্কে দিন পার করছে ইউনিয়নবাসী।

গত কয়েকদিন ধরে প্রকাশ্যে চেয়ারম্যান মকবুল হোসেন মৃধার ছেলে সোহাগের নেতৃত্বে ক্যাডার শাহজান, আফাজ, আশরাফ, বুলেট, নাহিদ, জাকির, রিকো, সাহেব, আনোয়ার, আলমগীর, খোরশেদ, রহিদুল চৌকিদার, শহিদুল, বুলবুল, রফিকসহ ২০-২৫ জনের একটি দল জঙ্গি স্টাইলে সশস্ত্র মোহড়া দিয়ে চলেছে।

এদিকে গত সোমবার বিকেলে শ্রীপুর ইউনিয়নের জামতলা মোড়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, চেয়ারম্যান মকবুল হোসেন মৃধার উপস্থিতিতে তার বাহিনীর সদস্য পুলিশের সামনে লাঠিসোটা এবং অস্ত্র নিয়ে বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। এ সময় দলীয় কার্যালয়সহ কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালিয়েছেন তারা। সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনীর তান্ডবে দিশেহারা হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। উত্তেজনা বিরাজ করছে ইউনিয়নের সাধারণ জনগণের মাঝে।

স্থানীয় লোকজন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও তারা বিভিন্ন ভাবে এলাকাবাসীকে ভয়ভীতি এবং হুমকি প্রদান করেন। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কেউ যেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নির্বাচন করতে না পারে সে কারণে এলাকার আধিপত্য নিতে এই সশস্ত্র মোহড়া দিচ্ছে তারা। চেয়ারম্যান মকবুল হোসেন মৃধার ছেলে সোহাগসহ ১০-১২ জন সশস্ত্র ক্যাডার ইউনিয়নের খয়রার বিলে শ্রীপুর গ্রামের জাবেদ আলীর ছেলে আশরাফুল ইসলামকে গুলি করে হত্যা করে। সে সময় তাদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করে নিহতের পিতা। পুরনো সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করে চলেছে তারা।

এদিকে, গত ১৩ মার্চ আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তালিকা তৈরির জন্য তৃণমূল আওয়ামী লীগের কর্মীদের ভোটের মাধ্যমে প্রার্থীর তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এতে কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে বর্তমান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক জিল্লুর রহমানের নিকট পরাজিত হন। তৃণমূলের ভোটে পরাজিত হওয়ার পর থেকে বেপরোয়া হয়ে উঠেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, চেয়ারম্যান মকবুল হোসেন। সেই সঙ্গে পরাজয়ের পর থেকেই তার ক্যাডার বাহিনীরাও বেপরোয়া হয়ে উঠে। সাধারণ মানুষের দাবী অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। তা না হলে যে কোন সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।

এ ব্যাপারে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, চেয়ারম্যান মকবুল হোসেন মৃধা বলেন, আমার লোকজনের উপরে হামলা চালিয়েছে কয়েকজন ব্যক্তি। আমার কোন ক্যাডার বাহিনী নেই। আমার লোকজন কোন প্রকার সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালায়নি। তবে প্রকাশ্যে অস্ত্রসহ মহাড়ার বিষয়ে মুখ খুলেননি তিনি।

  • 60
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে