শিক্ষামন্ত্রী ও ইউজিসিকে চিঠি, তদন্তপূর্বক ফলাফল পরিবর্তনের আবেদন

প্রকাশিত: এপ্রিল ১, ২০২১; সময়: ৭:৪৪ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাবি : ‘ফল বিপর্যয়’র অভিযোগ এনে তদন্তপূর্বক ফলাফল পরিবর্তনের আবেদন জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ও ইউজিসি বরারর চিঠি প্রেরণ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক (আইআর) বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী’র অনৈতিকতা, পক্ষপাতিত্ব এবং প্রতিশোধ পরায়ণতার কারণে তাদের ২০১৯ সালের এম.এস.এস পরীক্ষায় ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার প্রেরিত চিঠিতে বলা হয়, ‘সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের প্রতিটা কোর্সের জন্য ২০% নম্বরের দুইটি ইনকোর্স পরীক্ষা নেওয়ার বিধান থাকলেও চারটি কোর্সে ইনকোর্স পরীক্ষা নেওয়া হয়নি এবং অন্য চারটি কোর্সে একটি করে ইনকোর্স পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।

বিভাগের অধ্যাপক সুবেন কুমার চৌধুরী বিদেশে চলে গেলে তার দুটি কোর্স আর কোন শিক্ষককে দেওয়া হয়নি এবং ঐ দুটি কোর্সের কোন ইনকোর্স পরীক্ষাও নেওয়া হয়নি। আর বিভাগের সভাপতি তার দুইটি কোর্সের মধ্যে একটিতে ক্লাস নেননি এবং অন্যটিতে মাত্র তিনটি ক্লাস নিয়েছেন। এছাড়া কোনটিতেই ইনকোর্স পরীক্ষা নেননি।’

‘ফলে অধ্যাপক সুবেন কুমার চৌধুরী ও বিভাগের সভাপতির চারটি কোর্সের ইনকোর্স নম্বর কিভাবে দেওয়া হয়েছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস ইনকোর্স পরীক্ষার নম্বর যথাযথভাবে না পাওয়ায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।

উল্লেখ্য যে, এই চারটি কোর্সেই শিক্ষার্থীদের ফল বিপর্যয় বেশি ঘটেছে। বিভাগের সভাপতির অনৈতিক কর্মকাণ্ড বিভিন্নভাবে ফলাফলকে প্রভাবিত করেছে উল্লেখ করে শিক্ষার্থীরা চিঠিতে আরও সাতটি বিষয়ে অভিযোগ তুলে ধরেন।

সেগুলো হল – পরীক্ষা কমিটি গঠনে অনিয়ম, উদ্দেশ্যমূলকভাবে অন্য ডিসিপ্লিনের ও সভাপতির ঘনিষ্ঠ শিক্ষকদের দ্বারা খাতা মূল্যায়ন, থিসিসের পরীক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়ম, পছন্দের শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন বলে দেওয়া ও তাদের থিসিসগুলি সভাপতির কাছের শিক্ষকদের দিয়ে পরীক্ষণ করে বেশি নম্বর প্রদান, শিক্ষার্থীদের নিজের কাজে ব্যবহার করা ও তাদের নিকট থেকে সুবিধা গ্রহণে প্রবৃত্ত হওয়া, সভাপতির অপকর্ম সম্পর্কে বিভাগের শিক্ষকদের নির্লিপ্ততা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের উদাসীনতা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভাগের মাস্টার্সের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘স্যার অনৈতিক উদ্দেশ্যে তার পছন্দের শিক্ষার্থীদের নম্বর বাড়িয়ে দিয়েছেন ও আমাদের ফলাফল কমিয়ে দেয়ার মাধ্যমে আমাদের বাবা-মায়ের স্বপ্নকে হত্যা করেছেন। এক্ষেত্রে আমরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান দুর্নীতির বলি হয়েছি বলে মনে করি।

তাছাড়া এখনো তিনি আমাদের নানাভাবে নিপীড়ন করছেন। তিনি আমাদের হেনস্তা করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে অসঙ্গতিপূর্ণ ও ভুল প্রশংসাপত্র দিয়েছেন। আমরা শিক্ষামন্ত্রী ও ইউজিসির কাছে সুষ্ঠু তদন্ত আশা করছি। অন্যথায় আমরা আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণে অগ্রসর হবো।’

আইআর বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হন নি।

প্রসঙ্গত, একই বিষয়ে গত বছরের ৯ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর আবেদন পত্র জমা দেন শিক্ষার্থীরা। আবেদন পত্রের অনুলিপি উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, ছাত্র উপদেষ্টা, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ এবং কলা অনুষদের ডীন দপ্তরে প্রেরণ করা হয়।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) আলমগীর হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন’।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে