রাজশাহীতে বাড়ি ভাঙ্গচুর, দখল ও উচ্ছেদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত: মার্চ ৩১, ২০২১; সময়: ৪:৩১ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে এক বিধবা নারীকে তার একমাত্র কন্যা সন্তানসহ নিজ বাড়ি থেকে উচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। সেইসাথে বাড়ি ভাঙ্গচুর ও দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে বুধবার নগরীর সাহবেবাজারে একটি চাইনিজ রেষ্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করেন ভূক্তভোগি বিধবা নারী মৃত আজিজুল আলম এর স্ত্রী রাশেদা আলম মমতা। সে সময়ে সঙ্গে ছিলেন অনার্স পড়ুয়া একমাত্র মেয়ে ফারহানা আলম সিথি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফারহানা আলম সিথি। তিনি সাংবাদিকদের সামনে বলেন, আমার বাবার তিনটি সংসার। এর মধ্যে আমার মা তৃতীয় স্ত্রী। আমি আমার মায়ের একমাত্র কন্যা সন্তান। বাবা মারা যাওয়ায় এতিম হয়ে পড়েছি। মা অনেক কষ্ট করে আমাকে লেখাপড়া করাচ্ছেন। বাবা জীবিত থাকা কালীন সময়ে মৌজা মেহেরচন্ডী, জে.এল নং- ১৩৭, আর.এস দাগ নং- ২৮৩৮, আর.এস খতিয়ান নং-২০৭, জমির পরিমান .০৮০০ একর, রকম-ভিটা, প্রস্তাবিত খতিয়ান-৩২০৬ ও হোল্ডিং নং-৩২০০ তপশিলভূক্ত সম্পত্তি আমার মায়ের নামে ৪ শতক ও আমার নামে ৪ শতক মোট ৮শতক জমি রেজিষ্ট্রি করে দেন। যার দলিল নং-৯৪১৯/৩০-০৭-১৯৯৮ সাল ইং।

এ সম্পত্তি আমাদের নামে নাম জারী করেছি এবং রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) থেকে এনওসি নিয়ে প্লান পাস করে তিনতলা ভবন নির্মাণ করেছি। আমাদের বাড়ির তিনতলা ছাদের উপরে গ্রামীণ ফোনের টাওয়ার রয়েছে। সেখান থেকে আমরা ভাড়া পাই। এ নিয়ে আমাদের সংসার চলে। কিন্তু আমার দ্বিতীয় মায়ের কন্যা মানে আমার বৈমাত্র বোন ফাহমিদা আলম তিথি ও তার কলেজ পড়ুয়া মেয়ে সাদিয়া সালাম মিলে প্রভাবশালীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে আমাদের বাড়ি দখল করে নিয়েছে।

শুধু তাই নয় আমাদের বাড়ি থেকে খালি হাতে বের করে দিয়েছে এবং প্রতিনিয়ত প্রাণ নাশের হুমকী দিয়ে আসছে। এছাড়াও তারা আমাদের বাড়ির গেট এবং ভিতরে ভেঙ্গে ভেলেছে। এখন আমরা নানার বাড়ি পাবনাতে বসবাস করছি। এছাড়াও সোমবার (২৯ মার্চ) আমাদের বাড়ি মধ্যে থাকা সকল প্রকার ফার্নিচার বাড়ির বাহিরে ফেলে দিয়েছে। আমার বৈমাত্রিক এই বোন ও ভাগ্নি অত্যন্ত হিংস্র প্রকৃতির নারী। তারা কাউকে পরোয়া করেনা। এমনকি নিজ স্বামীকেও পাগল বানিয়ে আটকিয়ে রেখেছে।

আমরা যখন বাড়ি করি তখল আমার এই বৈমাত্র বোন কোন বাধা দেননি। এছাড়াও বাড়িতে যখন গ্রামীণ ফোনের টাওয়ার স্থাপন করি তখন এই বোনের স্বামী মানে আমার দুলাভাই আব্দুস সালাম চুক্তিপত্রে স্বাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেন। এটাও তিনি মানছেননা। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরী করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ ঐ নেতার ভয়ে ডায়েরী নেয়নি।

এখন আমরা গৃহনীন হয়ে অন্যের বাড়িতে বসবাস করছি। জীবনে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা। নিজের বাড়ি ঘর থাকতে গৃহহীন হয়ে পড়েছি। সরকার যেখানে সকলকে গৃহ দিচ্ছেন, সেখানে ঐ মহিলা প্রভাবশালীদের দাপটে আমাদের গৃহহীন করেছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার চাই। সেইসাথে প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন এই ভুক্তভোগি পরিবার। এসময়ে তারা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এছাড়াও লালপুরে আমার এবং আমার মায়ের নামে, এগার বিঘা সম্পত্তি জোর করে আমার বড় ও দ্বিতীয় মায়ের সন্তানেরা যোগসাজস করে সে জমিও দখল করে খাচ্ছে। এখনও আমার বাবার নামে সম্পত্তি আছে। সেগুলো এখনো তারা বন্টন করে দিচ্ছেনা।

এ বিষয়ে ফাহমিদা আলম তিথি বলেন, এটা তার বাবার বাড়ি। তিনি তার বাবার বাড়িতেই আছেন। বাবা তাকে এই জমি রেজিস্ট্রে করে দিয়ে গেছেন। কারো জমি দখল করেননি তিনি। এই নারী তার জীবন নষ্ট করেছে। সেইসাথে তার ৩৫ লক্ষ টাকা নিয়ে চলে গেছে বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, আরডিএ কর্তৃক বাড়ির নকশা এবং টাওয়ার এর এগ্রিমেন্ট জাল বলে দাবী করেন তিনি।

  • 163
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে