রাজশাহীতে আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে টাইলস কারখানা দখলের অভিযোগ

প্রকাশিত: মার্চ ২৯, ২০২১; সময়: ২:৪৩ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : উম্মে আতিয়া দুই শিশু কন্যার জননী। স্থায়ী বাসা রাজশাহীর পুঠিয়ায় হলেও উদ্যোক্তা স্বামী মনিরুল ইসলামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য বাসা বাধেন নগরীর বড়বনগ্রাম শেখপাড়া এলাকায়। টাইলস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান চালিয়ে ভালমতোই দিনাতিপাত করছিলেন মনিরুল-উম্মে আতিয়া দম্পতি।

সাত বছরের শিশু কন্যা মেহজাবিন ও ১৭ মাস বয়সী আরেক শিশু কন্যা সাফাকে নিয়ে বেশ স্বাচ্ছন্দেই সময় কাটছিল তাদের। কিন্ত নিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মচারি ও স্থানীয় এক সিমেন্ট ব্যবসায়ীর দাপটে পুরো পরিবারটি এখন ঘরবাড়ি ছেড়ে নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছে। প্রায় আটমাস থেকে এলাকাছাড়া মনিরুল। দুই শিশু কন্যা মেহজাবিন ও সাফা বাবার মুখ দেখতে না পেয়ে প্রায় পাগলপারা।

বাবা কোথায় আছেন, সেটি সম্পূর্ণই অজানা দুই অবুঝ শিশুর! মা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকলে একেবারে ‘অসহায়’ হয়ে পড়ে তারা। হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরতে পারেননি উম্মে আতিয়া। দুই শিশু কন্যাকে নিয়ে উঠেন একটি ছাত্রীনিবাসে।

সোমবার (২৯ মার্চ) বেলা ১১টায় রাজশাহী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন মেহজাবিন-সাফার মা উম্মে আতিয়া। তিনি জানান, তার স্বামী মনিরুল ইসলাম উদ্যোক্তা হয়ে টাইলস ফ্যাক্টরি দেন। কিন্ত স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও সিমেন্ট ব্যবসায়ী সারোয়ার হোসেন কৌশলে এই ফ্যাক্টারির কর্মচারিদের সাথে আঁতাত করে তার স্বামীর ক্রয়কৃত ৩.৮৫ কাঠা জমি, মাল্টাসি ও টাইলস ফ্যাক্টরি এবং মিনি ট্রাক দখল করে এবং ফাঁকা ব্যাংক চেকে স্বাক্ষর নিয়ে এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য করে। ফলে তারা অন্যত্র চলে যায়।

উম্মে আতিয়া বলেন, ছেলের টেনশনে আমার শাশুড়ি স্ট্রোক করেন। এরমধ্যে আমি গত ২০২০ সালে ২০ জুলাই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হই এবং অবস্থা গুরুতর হলে ২১ জুলাই হাসপতালে ভর্তি হতে হয়। প্রায় ১৯ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলাম। এরইমধ্যে আমাদের বাড়ি লকডাউন করে দেয়া হয়। সুস্থ হয়ে আমি আশ্রয় নিই একটি মেসে। সাথে দুই শিশুকন্যা মরিয়ম মেহজাবিন এবং সাফা ২০২০ সালের জুলাই মাস থেকে আমরা ঘরছাড়া। আমি একটি মেসে থেকে কোনোমতে দিনরাত পার করছিলাম।

সংবাদ সম্মেলনে মেহজাবিন-সাফার মা বলেন, বাবা মনিরুল কোথায় রয়েছেন, সেটি দুই শিশুকন্যার অজানা! প্রায় একবছর থেকে বাবার আদর থেকে বঞ্চিত আমার দুই মেয়ে। বাবাকে একনজর দেখার জন্য প্রতিরাতে ছটপট করে তারা। ‘পাপ্পা’ বলে ডাকলেও জন্মদাতা বাবার দেখা পায়না দুই মেয়ে। আমি মা হয়েও সহ্য করতে পারিনা।

টাকার অভাবে এখন দু’মুঠো খাবার জুটানোই বড় দায়। শুধুমাত্র সারোয়ারের কারণে আজ দুর্বিষহ জীবনযাপন করতে হচ্ছে আমাদের। সংবাদ সম্মেলন থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিতপূর্বক তাদের প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের জায়গা-জমি, ফ্যাক্টরি, গাড়ি ও জিম্মি করে নেয়া ফাঁকা চেক ফিরে পেতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে সিমেন্ট ব্যবসায়ী সারোয়ার হোসেন বলেন, “আমি মনিরুলের কাছে টাকা পাব। টাকা দিতে না পেরে তারা পরিবার নিয়ে পালিয়ে গেছে। সেরকম কোনোকিছুই হয়নি। টাকা পেলেই সব ঝামেলা মিটে যাবে।”

  • 226
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে