রাজশাহীতে বড় ভাইকে হত্যা ফেসবুকের জন্য

প্রকাশিত: মার্চ ২৮, ২০২১; সময়: ১১:১৩ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : বড় ভাই সাকিব হোসেন (১৮) অতিরিক্ত ফেসবুক চালাতেন। রাত জেগে একাধিক মেয়ের সঙ্গে চ্যাটিং করতেন। পাশে শুয়ে এসব ভাল লাগত না ছোট ভাই শিমুল হোসেনের (১৬)। বিষয়টি বলার পর কথা কাটাকাটি, তারপর হাতাহাতি। একপর্যায়ে ছুরি দিয়ে গলাকেটে বড় ভাইকে হত্যা করে শিমুল।

গ্রেপ্তারের পর শিমুল পুলিশের কাছে এমন জবানবন্দী দিয়েছে। শিমুল ও সাকিব রাজশাহীর পবা উপজেলার হাড়ুপুর বাগানপাড়া এলাকার হেলিনের ছেলে। শুক্রবার দিবাগত রাতে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে শনিবার সকালে নিহত সাকিবের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে শিমুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার পর থেকে শিমুল পলাতক ছিল।

রাজশাহী মহানগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মাসুদ পারভেজ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সাকিব ও শিমুলের বাবা হেলিন পেশায় ট্রাকচালক। ঘটনার রাতে তিনি ট্রাক নিয়ে ঢাকায় ছিলেন। আর তাদের মা ছিলেন ভাইয়ের বাড়িতে। রাতে বাড়িতে শুধু দুই ভাই ছিল। ফাকা বাড়িতেই বড় ভাইয়ের গলায় ছুরি চালায় শিমুল।

ওসি জানান, গ্রেপ্তারের পর শিমুল পুলিশকে জানিয়েছে- তার বড় ভাই মাদক সেবন করত। রাত জেগে সে ফেসবুক চালাত। একাধিক মেয়ের সঙ্গে সে চ্যাটিং করত। ফোনে কথা বলত। এসব তার ভাল লাগত না। ঘটনার রাতে শিমুল ও সাকিব একসাথেই শুয়ে ছিল। শাকিল এ ধরনের বেপরোয়া আচরণ না করার জন্য বড় ভাই সাকিবকে বলে। এই নিয়ে তাদের মধ্যে হঠাৎ ঝগড়া শুরু হয়। সাকিব তার ছোট ভাইয়ের ওপর চড়াও হয়। তখন শিমুলও ছুরি নিয়ে এসে তার গলায় চালিয়ে দেয়। এতে তার মৃত্যু হলে শিমুল পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় রাতে ট্রাক চালক হেলিন তার ছেলে শিমুলকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা করেন। রাতেই নগরীর খড়খড়ি এলাকায় আত্মগোপনে থাকা শিমুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে তার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয়ার কথা আছে।

পুলিশ জানিয়েছে, সাকিব এসএসসিতে ফেল করে আর পড়াশোনা করেনি। ছোট ভাই শিমুল অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। তারা দুজনেই কোন কাজ করত না। তবে বড় ভাই সাকিব মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। ফেনসিডিলসহ ধরা পড়ার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে থানায় একটি মাদকের মামলা ছিল।

  • 122
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে