রাজশাহীতে ধর্ষণের শিকার গৃহবধূর আত্মহত্যার চেষ্টা

প্রকাশিত: মার্চ ২২, ২০২১; সময়: ১০:৫৬ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : আসামিপক্ষের লোকজন কটূক্তি করায় ধর্ষণের শিকার এক গৃহবধূ (২৪) ঘুমের ওষুধ ও হারপিক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন। রোববার দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানার বৌবাজার মহল্লায় এ ঘটনা ঘটেছে।

রাতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আত্মহত্যার আগে ওই গৃহবধূ দুই পাতার একটি চিরকুট লিখেছেন। এতে তিনি আসামিপক্ষের লোকজনের কটূক্তির বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।
গত ১৮ জানুয়ারি দুই সন্তানের জননী ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে নগরীর বোয়ালিয়া থানায় একটি ধর্ষণের মামলা করেন। মামলায় রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের তৎকালীন স্টেশন মাস্টার মঈন উদ্দিন আজাদকে (৪২) আসামি করা হয়। ৩ ফেব্রুয়ারি নাটোর থেকে আজাদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ট্রেনে যাতায়াতের সময় স্টেশন মাস্টার আজাদের সঙ্গে নারীর পরিচয় হয়। এরপর তাদের মধ্যে ফেসবুক মেসেঞ্জারে কথা হতো। আজাদ ওই নারীকে রেলওয়েতে একটি চাকরি দিতে চেয়েছিলেন। এ জন্য তার কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নিয়েছিলেন। চাকরির প্রস্তুতির বই দেয়ার নামে ১৭ জানুয়ারি আজাদ ওই নারীকে তার বাসায় ডাকেন। ওই নারী গেলে ফাঁকা বাসায় আজাদ তাকে ধর্ষণ করেন। পরদিন ওই নারী মামলা করেন।

আত্মহত্যার চেষ্টা করা গৃহবধূর স্বজনরা জানান, রোববার রাত পৌনে ১২টার দিকে ভাড়া বাসায় অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবনের পাশাপাশি হারপিক পান করেন ওই গৃহবধূ। অনেক ডেকেও সাড়া না পেয়ে পুলিশে ফোন করা হয়। পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে। এরপর তাকে দ্রুত রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়।

তারা আরও জানান, আসামি এখনও কারাগারে আছেন। শনিবার আদালতে এ মামলার ধার্য্য দিন ছিল। সেখানে আসামিপক্ষের লোকজন এই গৃহবধূকে কটূক্তি করেন। আর আরমান আলী নামের এক ব্যক্তি আসামি আজাদের পক্ষ থেকে মামলাটি মীমাংসা করে নেয়ার চাপ দিচ্ছিলেন। আসামির ভগ্নিপতি মনু মিয়াও গৃহবধূর নামে এলাকায় নানা বাজে কথা ছড়িয়ে বেড়াচ্ছিলেন। এসব সহ্য করতে না পেরে ওই গৃহবধূ আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন।

ওই নারীর স্বামী তাদের কাছে থাকা একটি চিরকুট দেখান। এটি তার স্ত্রীর লেখা বলে তিনি দাবি করেন। চিরকুটে ধর্ষণের মামলা করায় নানা কটূক্তির কথা উল্লেখ করা আছে। থানার ওসি স্নেহ করায় এটাকে খারাপ সম্পর্ক বলে আসামিপক্ষ প্রচার করছে বলেও চিরকুটে লেখা হয়েছে। যারা এসব কটূক্তি করছেন তারা যেন ছাড় না পান সে কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া নিজের দুই সন্তানকে দেখে রাখার জন্য স্বামী ও মায়ের কাছে আকুতি জানিয়েছেন ওই গৃহবধূ।

বোয়ালিয়া থানার ওসি নিবারন চন্দ্র বর্মন বলেন, ধর্ষণের মামলার পর আসামি গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ধর্ষণের মেডিকেল রিপোর্ট এখনও পাওয়া যায়নি। সেটি পাওয়া গেলে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। এরই মধ্যে মেয়েটি আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন বলে তিনি শুনেছেন। এ ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।

  • 134
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে