বাগমারায় খাস পুকুর দখলে বাধা দেয়ায় দুইজনকে পিটিয়ে জখম

প্রকাশিত: মার্চ ২০, ২০২১; সময়: ৫:৫০ pm |

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বাগমারা : রাজশাহীর বাগমারায় সরকারী লীজকৃত খাস পুকুর জবর দখল করতে ব্যর্থ হয়ে দুইজনকে পিটিয়ে জখম করেছে প্রভাবশালীর লাঠিয়াল বাহিনীর সদস্যরা। আহতদের মধ্যে শরিফুল ইসলাম (৩২) ও নাসিম (১১) নামের দুইজনকে উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। ওই ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় লোকজন ঘটনার জন্য বাগমারা থানার পুলিশকে দায়ী করেছেন।

জানা যায়, উপজেলার সকল ইউনিয়নের সরকারী খাস পুকুর গুলো সরকারী রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষে জলমহল কমিটি পত্রিকায় টেন্ডারের মাধ্যমে লীজ দিয়ে থাকে। উপজেলা জলমহল কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক যোগীপাড়া ইউনিয়নের কাতিলা গ্রামের বেশ কিছু পুকুর লীজ দেয়া হয়। পুকুর গুলো বিভিন্ন মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লীজ নিয়ে মাছ চাষ শুরু করে।

টেন্ডারকৃত পুকুর গুলো কয়েকটি সমিতির কাছ থেকে কাতিলা গ্রামের জনৈক আসমা নামের এক মহিলা দেখাশুনা ও মাছ চাষের জন্য নেন। মাছ চাষী আসমা বেগম পুকুর গুলোতে বিভিন্ন প্রজাতীর মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। ওই পুকুরে খাবার দিতে গেলে আজ শনিবার দুপুরে লাঠিয়াল বাহিনীর লোকজন শরিফুল ইসলাম (৩২) ও নাছিম নামের দুইজনকে পিটিয়ে জখম করেন।

যোগীপাড়া ইউনিয়নের কাতিলা গ্রামের পুকুর গুলো একই এলাকার প্রভাবশালী সিদ্দিক বাগ মসজিদ ও মাদ্রাসার নাম দিয়ে সে গুলো জবর দখলের মাধ্যমে ভোগ দখল করে আসে। ঘটনাটি জানার পর উপজেলা জলমহল কমিটির পক্ষ থেকে পুকুর গুলো টেন্ডারের মাধ্যমে লীজ প্রদান করা হয়। সিদ্দিক বাগ পুকুর গুলোর টেন্ডারে অংশ গ্রহন না করে জোরপূর্বক জবরদখলের মাধ্যমে ভোগদখলের সিদ্ধান্ত নেয়।

মাছ ধরার সময় এলাকার চিহ্নিত আ’লীগ নেতা সোহাগ আলীর নির্দেশে প্রভাবশালী সিদ্দিক বাগ বাঁধা দেন। ওই সময় তার লাঠিয়াল বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে জেলেদের তাড়া করেন। জেলেরা পালিয়ে গেলে,মাছ চাষী আসমা বেগম উপজেলা জলমহল কমিটির কাছে বিষয়টি জানান। উপজেলা জলমহল কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফ আহম্মেদ প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বাগমারা থানায় লিখিত অভিযোগ পাঠিয়ে দেন। সরকারী সম্পত্তি রক্ষা করতে পুলিশের এমন ভুমিকায় হতাস হন তিনি।

পুলিশের গাফলতি ও অনিহার কারনে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মাহামুদুল হাসানকে নির্দেশ দেন ইউএনও শরিফ আহম্মেদ। সে সময় তিনি নিজে উপস্থিত থেকে পুকুরের মাছ গুলো মেরে আনা হয়। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন না করায় বেপোরোয়া হয়ে উঠে।

পুকুরের মাছ চাষী আসমা বেগমের অভিযোগ, আ’লীগ নেতা সোহাগের নির্দেশেই সিদ্দিক বাগ এমন ঘটনা ঘটাতে পেরেছে। তিনি এই জঘন্যত ঘটনার জন্য প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার দাবী জানিয়েছেন।

একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে বাগমারা থানার ওসি মোস্তাক আহম্মেদ বার বার মুটোফোনটি কেটে দেন। তবে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরের সিএ শহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারী নিয়মনুসারে পুকুর গুলো লীজ দেয়া হয়েছে। প্রভাবশালীরা গায়ে জোরে জবরদখলের মাধ্যমে ভোগ দখল করার পায়তারা করছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া একান্ত দরকার বলে তিনি মনে করেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে