রাজশাহীতে দখলকৃত খাল উদ্ধার করলো উপজেলা প্রশাসন

প্রকাশিত: মার্চ ১৮, ২০২১; সময়: ৩:১০ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর পুঠিয়ার বেলপুকুর ইউনিয়নে দীর্ঘ ২০ বছর থেকে সরকারি খাল দখল করে পুকুর খনন ও পানি প্রবাহ বন্ধ করে মাছ চাষ করে আসছিলো এলাকার প্রভাবশালী মহল। বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) বেলপুকুর ইউনিয়নের মাহেন্দ্রা কোনাপাড়া এলাকায় সেই সরকারি খাল উদ্ধারে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় প্রশাসনের কর্মকর্তারা সেই খাল উদ্ধার করে পানির প্রবাহ চালু করে।

এলাকাবাসীর সাথে কথা হলে তারা অভিযোগ করে জানান, দীর্ঘ ২০ বছর থেকে ওই এলাকার প্রভাবশালী মহল পানি প্রবাহ বন্ধ করে পুকুর খনন করে মাছ চাষ করে আসছিলো। গত ৫ বছর থেকে পুকুর খননের হিড়িক পড়ে যাওয়ায় এতে সরকারি খাল দখল করে পানি প্রবাহ বন্ধ করে ওই এলাকায় ৪৫ থেকে ৫০ টি দীঘি ও পুকুর খনন করা হয়। এলাকার প্রভাবশালী মাসুদ আলী, মজিবর রহমান, ওমরসহ আরো কয়েকজন অবৈধভাবে পুকুর খনন করে পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়।

এতে গ্রামের কয়েকশ পরিবার কয়েক বছর থেকে পানি বন্দি রয়েছে। বছরের কয়েক মাস তারা পানি বন্দি থাকে। জলাবন্ধতার কারণে ফসলের মাঠে কোন ফসল ফলাতে পারে না। গ্রামের মানুষ হাঁটুপানি দিয়ে চলাচল করছে। গ্রামের বাড়িগুলোতে পানি উঠায় ঘরবাড়ি রান্নাঘরে ও টয়লেটগুলোতে পানি উঠে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

স্কুল শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীদের কোলে করে বা ঘাড়ে করে অভিভাবকরা স্কুলে নিয়ে যান। এলাবাসী হোসনে আরা, সখিনা বেগম, মহাসিন আলী, শহীদুল ইসলাম, রায়হান, আইনালসহ আরো ১০ থেকে ১২ জনের সাথে কথা হলে সকলেই এমন অভিযোগ জানান। প্রতিবেদক সরেজমিনে গিয়ে তার প্রামাণও পেয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টায় পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুরুল হাই মোহাম্মদ আনাস ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) রোমানা আফরোজ অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে। শ্রমিকসহ এলাকাবাসী কোদাল বিপ্লব শুরু করে পুকুরের পাড় কেটে দেয়। এলাকাবাসী এসে পানি প্রবাহ ঠিক করার জন্য আনন্দ প্রকাশ করে প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানায়। তবে আরও কয়েকটি পাড় কাটলে সরকারি খালের পানি প্রবাহ ঠিক থাকবে। এলাকার কৃষি পণ্য ও মানুষের ঘরবাড়ি রক্ষা পাবে।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের ফোনে যোগাযোগ করলে তারা এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হয়নি। নানান অজুহাতে তারা বিষয়টি এড়িয়ে যান।

পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুরুল হাই মোহাম্মদ আনাস জানান, দীর্ঘদিন থেকে এই এলাকায় প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে সরকারি খাল বন্ধ করে পুকুর খনন করে আসছে। এতে এলাকায় কৃষকরা ফসল উৎপাদন করতে পারছে না। বর্ষায় কয়েকশ পরিবার পানি বন্দি থাকছে। শিশুরাও অভিযোগ করে তাদের পানি বন্দি থাকার। তাদের অভিভাবকরা কোলে করে তাদের স্কুলে নিয়ে যায়। এলাকার সবাই পানি বন্দি থেকে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যহত হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রমাণ পাওয়ায় এখানে অভিযান পরিচালনা করে জনস্বার্থে সরকারি খাল দখলমুক্ত করা হয়।

 

  • 400
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে