মাতৃত্বকাল নয়, তবুও সুমির নামে মাতৃত্বকালীন ভাতা

প্রকাশিত: মার্চ ৮, ২০২১; সময়: ১১:২০ pm |

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বাগমারা : রাজশাহীর বাগমারায় গর্ভবতী নয়, সাত বছর পূর্বে তালাক প্রাপ্ত এক নারীর নামে মাতৃকালীন ভাতা দিয়েছেন দ্বীপপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান দুলাল।

ওই ঘটনায় একই ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী আসনের এক ইউপি সদস্য বাদী হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

তবে ইউপি চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান দুলাল জানান, তিনি সুমি আক্তার নামে ওই নারীর বিয়ের কথা জানতেন কিন্তু তালাক হয়েছে জনতেন না। মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা খন্দকার মুক্বামাম মাহমুদা জানান সুমি আক্তার নামে ওই নারীর কার্ডটি তার দপ্তরে ফেরত পাঠিয়েছেন চেয়ারম্যান।

বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাগমারার দ্বীপপুর ইউনিয়নের নানসর গ্রামের এছের আলীর মেয়ে সুমি আক্তারের ৭ বছর পূর্বে তালাকের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর থেকেই সুমি আক্তার তার বাবার বাড়িতে অবিবাহিত অবস্থায় বসবাস করছেন। আজো তার অন্য কোথাও বিয়ে হয়নি।

অথচ ইউপি চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান দুলাল অবৈধভাবে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে তার নামে মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড প্রদান করেছেন। কার্ডের তালিকা অনুযায়ী সুমি আক্তারের নামে সরকারী কোষাগার থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে তার হিসাব নম্বরে টাকাও এসেছে।

ঘটনায় ইউপি নারী সদস্য হাসিনা বানু প্রতিবাদ করলে ইউনিয়ন পরিষদের সকল সুবিধা থেকে তাকে বঞ্চিত করে। চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান দুলালের এমন কর্মকান্ডে ক্ষুব্ধ ইউপি সদস্যা হাসিনা বানুসহ কয়েকজন ইউপি সদস্য। তারা একের পর এক চেয়ারম্যানের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের বিভিন্ন মহলে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

কিন্তু অভিযোগের সত্যতা থাকলেও রহস্যজনক কারণে সরকারের কোন মহল থেকে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হয় না ইউপি চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান দুলালের বিরুদ্ধে। এতে তিনি আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেছেন।

মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা খন্দকার মুক্বামাম মাহমুদা জানান, কার্ডটি কি ভাবে হয়েছে তা আমার জানা নেই। তবে ইউপি চেয়ারম্যান কার্ডটি তার দপ্তরে ফেরত পাঠিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরিফ আহম্মেদ অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • 150
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে