রাজশাহীতে বুটিকের ব্যবসা করে সফল তৃতীয় লিঙ্গের পলি খাতুন (ভিডিও)

প্রকাশিত: মার্চ ৮, ২০২১; সময়: ৩:৩৯ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীতে বুটিকের ব্যবসা করে সফল তৃতীয় লিঙ্গের পলি খাতুন। তার প্রতিষ্ঠানে কাজ করে স্বাবলম্বী তৃতীয় লিঙ্গের অনেকে-সহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চার শতাধিক নারী।

পলি খাতুনের ছোটবেলা থেকেই ছিলো আঁকাআঁকির শখ। এখন নকশা আঁকেন থ্রি-পিস ও শাড়িতে। শুধু নকশা নয়, সেই নকশার ওপর আপ্লিকস ও ব্লক-বুটিকসের কাজও করেন তিনি। বেসরকারী সংস্থা ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ তাকে ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর করোনাকালীন মানবিক যোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

২০১৪ সালে রাজশাহী নগরীর মোল্লাপাড়ায় নিজের বাড়িতে মাত্র ৮ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে গড়ে তুলেন ‘ডিএ ফ্যাশন হাউজ’। সেই প্রতিষ্ঠান এখন অনেক বড়।

রাজশাহীর উদ্যোক্তা পলি খাতুন জানান, ২০২০ সালে ব্রিটিশ কাউন্সিল থেকে ইন্টারন্যাশনাল নমিনেশন পাই। কমিউনিটির আর্থ সামাজিক ও অধিকার আদায়ের কাজ করায় তারা আমাকে ইন্টারন্যাশনাল স্বীকৃতি দেয়।

জেন্ডার আইডেনটিটির কারণে শুরুতে অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। কিন্তু দমে যাননি। এখন স্বপ্ন তার মত মানুষদের মূল স্রোতধারায় ফিরিয়ে আনা।

মিস পলি খাতুন বলেন, আমার আইডেনটিটির কারণে অনেক কাস্টমার আমার শোরুম থেকে মাল নিতে আগ্রহী ছিলেন না। কোথাও মেলায় অংশ নিলে তারা আমার কাছে আসতেন না। কিন্তু ২০২০ সালে এসে এটা একটু পরিবর্তন হয়েছে। এখন কাস্টমার আসে, শুধু দেশে নয় দেশের বাইরেও আমার পণ্য যায়।

এই ফ্যাশন হাউজে সার্বক্ষণিক কাজ করেন ১০ জন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ। এছাড়া ৪শ’রও বেশি প্রান্তিক নারীর ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে পলির সঙ্গে কাজ করে।

এই নারীরা জানালেন, শাড়ী, থ্রি পিস দেওয়া হয়, এগুলো নিয়ে যেয়ে আমরা কাজ করি। তারপরে এখানে এসে জমা দিয়ে যাই। এসব কাজ করায় আমাদের সংসারে অনেক উপকার হচ্ছে। এসব কাজের মধ্যে টু পিসে সাড়ে তিনশ’ টাকা, ওয়ান পিসে ২শ’ টাকা দেয়া হয় আমাদেরকে।

পলি ২০১৭ সালে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা অর্জন করেন। ২০২০ সালে এসএমই আঞ্চলিক পণ্য মেলায় পান দ্বিতীয় নারী উদ্যোক্তার পুরস্কার।

  • 33
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে