বাগমারায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা

প্রকাশিত: মার্চ ৩, ২০২১; সময়: ৫:২৭ pm |

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বাগমারা : রাজশাহীর বাগমারায় মাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসলাম আলী আসকানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দূনীতি, স্বেচ্ছাচারিতার ও সরকারী অর্থ আত্মসাত এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে নয়জন ইউপি সদস্যের স্বাক্ষরিত অনাস্থার অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসক বরাবর প্রেরন করেছেন।

ইউপি চেয়ারম্যান আসলাম আলীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন খাতে প্রায় বিশ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের দাবী করেছেন ইউপি সদস্যরা। তারা অবিলম্বে তাকে চেয়ারম্যানের পদ থেকে বরখাস্তের মাধ্যমে সরকারী অর্থ ফেরৎসহ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন। তবে ইউপি চেয়ারম্যান আসলাম আলী আসকান তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যমূলক দাবী করেছেন।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক প্রেরতি অভিযোগ ও রেজুলেশন সূত্রে জানা যায়, ইউপি চেয়ারম্যান আসলাম আলী আসকান চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ইউপি সদস্য হাফিজুর রহমান কে সাথে নিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম দূর্নীতি ও সরকারি অর্থ আত্মসাতে মেতে উঠেছেন। বিগত সময়ে তিনি বিভিন্ন খাতে দূর্নীতি করে প্রায় বিশ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তিনি আওয়ামলীলীগ দল করায় তার এসব দূর্নীতির প্রতিবাদ করলে তাকে লাঞ্চিত ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।

অভিযোগকারীদের দাবী তারাও মাড়িয়া ইউপি’র জনগনের ভোটে নির্বাচিত ইউপি সদস্য। তাদের সম্মান রক্ষা ও ইউনিয়নবাসীর ক্ষতি সাধন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগ দায়ের করেছেন। বর্তমানে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আসলাম আলীকে অপসারণের জন্য একটি রেজুলেশন পাশ করে তা যথাযত কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরন করেছেন।

অভিযোগ ও রেজুলেশন মতে, বিগত বছরে চেয়ারম্যান অত্র ইউনিয়নে আটটি খাত থেকে প্রায় বিশ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাত করেছেন। বিগত পাঁচ বছরে তিনি ইউপি’র সকল ইউপি সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করে তাদের মতামত উপেক্ষা করে ইউনিয়নের সকল প্রকল্পের সরকারী টাকা আত্মসাত করেন। তিনি দুস্ত অসহায় সহ বিভিন্ন ভাতাভোগিদের টাকার বিনিময়ে সরকারি সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকেন। তার এসব অসৎ কাজে সহযোগিতা করেন ইউপি সদস্য হাফিজুর রহমান।

আসলাম চেয়ারম্যান ভূয়া প্রকল্প তৈরি এবং ভুয়া সীল ব্যবহারের মাধ্যমে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাত করে থাকেন। তিনি চল্লিশ দিনের কর্মসূচীতে নিজস্ব নামধারী লোক দিয়ে সমুদয় টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন ও আত্মসাত করেছেন। বিগত ছয়চল্লিশ মাসের ইউপি সদস্যদের সম্মানী ভাতার টাকা না দিয়ে তিনি আত্মসাত করেন। ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন সরকারি জায়গায় নির্মিত মার্কেট থেকে টাকা উত্তোলন করে সরকারী খাতে জমা না দিয়ে তিনি আত্মসাত করেছেন।

তার ইউনিয়নে এক ইটভাটার মালিকের নিকট থেকে প্রতিবছর পঞ্চাশ হাজার টাকার সুবিধা নিয়ে অবৈধ ইটভাটা গড়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। এ ছাড়াও আসলাম আলী আসকান তার ব্যক্তিস্বার্থে সরকারি খালের পানি প্রবাহের পথ বন্ধ করে একাধিক অবৈধ পুকুর খনন করে জলবদ্ধতার সৃষ্টি করেছেন। যার কারনে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এলাকার শত শত কৃষক।

চেয়ারম্যান আসলাম আলী আসকান তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যমূলক দাবী করে বলেন, একটি মহল আসন্ন ইউপি নির্বাচনে আমার মনোনয়ন ঠেকাতে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের গোপনীয় শাখার অফিস সহকারি মাসুদ রানা অভিযোগ ও অনাস্থা প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগটি ফাইলে নথিজাত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল স্যারের সামনে তা যথাসময়ে উপস্থাপন করা হবে।

জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া অভিযোগ ও অনাস্থা প্রস্তাবের একটি অনুলিপি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরিফ আহম্মেদ। তিনি বলেন এ বিষয়ে ডিসি স্যারের নির্দেশনা মোতাবেক পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে