দুর্গাপুরের সেই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২১; সময়: ১০:৩১ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, দুর্গাপুর : রাজশাহীর দুর্গাপুরে পুলিশের আলোচিত সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই) আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে এবার নির্মাণাধীন বাড়ির প্রাচীর ভাংচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ বাড়ির মালিক বকুল ইসলাম বাদী হয়ে রাজশাহীর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-৩ এ পুলিশের এএসআই আশরাফুল ইসলাম সহ ৬ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছে।

আদালতের বিজ্ঞ বিচারক বাদীর আরজি আমলে নিয়ে অভিযোগটি দুর্গাপুর থানার ওসিকে তদন্তের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশের এএসআই আশরাফুল ইসলাম সহ অপর আসামীরা হলেন, সিংগা গ্রামের আব্দুস সামাদের পুত্র শরিফুল ইসলাম, মৃত খবির উদ্দিনের পুত্র হাবিবুর রহমান, মৃত ছলিমুদ্দিনের পুত্র শহিদুল ও সাইদুল এবং আবু তালেবের পুত্র আব্দুস সামাদ।

এর আগেও পুলিশের এই আলোচিত এএসআই আশরাফুলের বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ পুলিশ সিকিউরিটি সেল সহ বিভিন্ন জায়গায় দেয়া হলে তাকে আর্মড ব্যাটালিয়নে সংযুক্ত করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিভাগীয় মামলাটি তদন্ত করছেন সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের একজন সিনিয়র এএসপি।

আদালতে দায়ের করা বাদীর আরজির সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীর দুর্গাপুর পৌর এলাকার সিংগা মৌজার জে.এল নম্বর- ১০৫, খতিয়ান নম্বর- ৮, ১৭৯৯ দাগের ১৪ শতকের কাত ৩ দশমিক ১৫ শতক উত্তর পূর্ব কোনের তফসিলভুক্ত বিবাদমান জমিটির মুল মালিক ছিলেন আসকান ফকির। ১৯৭৪ সালের ৪ জুন ২১৮২০ নম্বর দলিল মুলে আসকান ফকির জমিটি শুরজান বিবি বরাবর হস্তান্তর করেন। ১৯৮৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ১২২৯ নম্বর দলিল মুলে রাবেয়া, রহিমা ও গোলাপি দিং প্রাপ্ত হন। তাদের নিকট থেকে বিভিন্ন দলিল মুলে এন্তাজ আলম মৃধা প্রাপ্ত হয়ে ভোগ দখল করাকালে ২০২০ সালের ২৫ আগস্ট ২১৮৮ নম্বর দলিল মুলে বাদীর মায়ের কাছে হস্তান্তর করেন।

উক্ত জমিতে বাদী বসতবাড়ি নির্মাণ করার জন্য ইটের প্রাচীর দিয়ে জমিটি ঘিরে রাখেন। ঘটনার দিন গত ৩১ জানুয়ারী রাত অনুমান সাড়ে ১১টার দিকে সাক্ষীরা মোবাইল ফোনে বাদীকে জানায় অভিযুক্তরা উক্ত জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে ইটের প্রাচীরটি ভেঙ্গে ফেলছে। বাদী বকুল ইসলাম খবর পেয়ে ৯৯৯ ফোন করে ঘটনাটি পুলিশকে জানান। এরপর বাদী তার মাকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত আসামীদের চিনতে পেরে তাদের বাধা দিলে বাদী ও তার মাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকী দেন অভিযুক্ত আসামীরা।

৯৯৯ ফোন পেয়ে দুর্গাপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন বলেও জানান বাদী। এ ঘটনায় বাদীর প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে বলেও আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তিতে আপোষ মিমাংসার কথা বলা হলেও আপোষ মিমাংসা না হওয়ায় ১৪ ফেব্রুয়ারি দুর্গাপুর থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে থানার ওসি বাদীকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন।

বাদীর আইনজীবী রাজশাহী জজ কোর্টের এপিপি এ্যাডভোকেট শামসুদ্দিন জানান, বকুল ইসলাম বাদী হয়ে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীর বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-৩ এ লিখিত আরজি দায়ের করলে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক বাদীর আরজি আমলে নিয়েছেন। যার সিআর মামলা নম্বর- ৪৬। আদালত ঘটনাটি তদন্তের জন্য দুর্গাপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান এ্যাডভোকেট শামসুদ্দিন।

  • 226
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে