চারঘাট ইউসুবপুরে বেপরোয়া মাদক সম্রাটরা

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২১; সময়: ১০:৩১ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ইউসুবপুর বিজিবি বিওপি ক্যম্পের এফএস কামরুল ইসলামের ছত্রছায়াতে তিন মাদক ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ তিন মাদক কারবারি ও চোরাকারবারিদের সাথে গোপনে সখ্যতা গড়ে তুলে মাদক পাচার ও মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে থেকে মাসোয়ারা নেয়া থেকে শুরু করে ভারত থেকে আসা মাদকের বড় বড় চালান ইউসুবপুর ও টাংঙ্গন এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে নিরাপদে পৌছে দেয়ার মতো অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছেন এরা।

এসব অপকর্মে সহায়তা করেন কুখ্যত মাদক সম্রাট ও মাদক মামলার ওয়ারেন্ট ভুক্ত পলাতক আসামী মো জিয়ারত আলীর ছেলে মো আশিক আলী (২৫) ও মাইনুল ইসলামের ছেলে মো তন্ময় (২৪) এবং ইউসুবপুর এলাকার জাহাঙ্গীর ইসলামের ছেলে মো আন্তর (২৬)। গত শুক্রবার এ তিন মাদক সম্রাটকে মাদকসহ আটক করে শাহপুর বিওপির কমান্ডার। এঘটনায় ইউসুবপুর বিওপির এফএস কামরুলের কথোপকথনের একটি অডিও রেকোডিং ভাইরাল হয়েছে। এদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ স্থানিয় এলাকাবাসীর।

অনুসন্ধান ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক গত ২১ ফেব্রুয়ারি ইউসুবপুর থেকে একটি নৌকা নিয়ে এফএস কামরুল ও মাদক ব্যবসায়ী আশিক, অন্তর ও তন্ময় কাঁটাখালি থানার শ্যমপুর ১০ নং পদ্মার মিডিল চর থেকে একটি মাদকের চালান নিতে যায়। এ সময় মাদকের একটি চালান ১০ নং মিডিল চর থেকে নৌকাতে ইউসুবপুর যাচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাহপুর বিজিবির বিওপির একটি টহল দল হাবিলদার সিরাজ, নায়ক জাকির ও ২ জন বিজিবি সদস্য নিয়ে ১০ নং চরে অভিযান চালায়। এসময় তিন মাদক ব্যবসায়ী ইউসুবপুর এলাকার আশিক, তন্ময়, অন্তর ও এফএস কামরুলসহ নৌকাটি আটক করে। এবং নৌকাতে থাকা গাঁজা, ইয়াবা, হেরোইন ও ফেনসিডিল উদ্ধার করে শাহপুর বিওপির টহল দল।

কিন্তুু তাদের সাথে এফএস কামরুল অবস্থান করায় তাদেরকে মাদকসহ আটকের পরে ছেড়ে দেয় শাহপুর বিওপির বিজিবি সদস্যরা। কোন বিজিবির টহল দল ছাড়া মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে একা এফএস কামরুলের ওই নৌকাতে অবস্থান করার বিষটি বিতর্কের ঝড় উঠে ইউসুবপুর ও শাহপুর বিওপিতে কর্মরত বিজিবি সদস্যদের মাঝে। বিষয়টি এলাকায় জানা জানি হলে স্থানিয় এলাকাবাসীর মাঝেও সমালচনার ঝড় উঠে এফএস কামরুলের কর্মকার্ন্ড নিয়ে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চারঘাট থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ইউসুবপুর বিজিবি বিওপিতে কর্মরত এফএস কামরুল ইসলামের ছত্রছায়াতে বেশ কিছু মাদক ব্যবসায়ী বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। চারঘাট থানার পুলিশের তালিকা ভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী ও ওয়ারেন্ট ভুক্ত পলাতক আসামী ইউসুবপুর জিয়ারত আলীর ছেলে মো আশিক আলী (২৫)। তাকে পুলিশ গ্রেপ্তারে বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করেছে। কিন্তুু বিজিবি এফএস কামরুলের সাথে তার সখ্যতার কারনে তাকে গ্রেপ্তার করতে পারছে না পুলিশ বলেও জানান এ পুলিশের কর্মকর্তা। গত ২১ তারিখ শুক্রবার ১০ নং চরে শাহপুর বিওপির টহল দলের হাতে মাদকসহ আটকের সময় শাহপুর বিওপির কমান্ডার ও এফএস কামরুলের কথোপকথনের একটি অডিও রেকোডিং ভাইরাল হয়েছে। অডিওতে শাহপুর বিওপির হাবিলদার কে বলতে শোনা যাচ্ছে কিছু মাদক পাওয়া গেছে নৌকাতে।

আর এফএস কামরুল বলছে কোন মাদক পাওয়া যায়নি এমন ভাবে শাহপুর বিওপি বিজিবির সোর্সের সাথে কথোপকথন হয় তাদের। একাধিক স্থানিয় এলাকাবাসী জানান, ইউসুবপুর বিওপি ও সাহপুর বিওপিতে কর্মরত বিজিবির এফএস কামরুল ইসলাম দীর্ঘদিন যাবত এলাকার মাদক কারবারিদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছে। মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে থেকে মাসোয়ারাসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত কামরুল ইসলাম। এছাড়া ইউসুবপুর এলাকার মাদক মামলার ওয়ারেন্ট ভুক্ত পলাতক আসামী আশিক, তন্ময় ও অন্তরের সাথে যোগসাজশে ইউসুবপুর ও টাংঙ্গন এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের মাদক ১০ নং মধ্য চার থেকে নৌকাতে করে নিয়ে এনে নিরাপদে এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে পৌছে দিয়ে মাদকের চালান প্রতি কমিশনে টাকা নেয় কামরুল ।

কামরুলের এসব কর্মকান্ড নিয়ে ইউসুবপুর বিওপির অন্যান বিজিবি সদস্যরাও অসন্তুুষ্ট। কামরুলের কারনে বেশ কিছুদিন আগে তার সহ কর্মী অন্য বিজিবি সদস্যরাও বদলি নিয়ে চলে গেছে। এলাকায় আশিক, তন্ময় ও অন্তরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। বিজিবির এফএস কামরুলের ছত্রছায়াতে নিজেদের প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক কারবারি, চোরাচালান চক্রের সাথে জড়িত বলে একাধিক স্থানিয় এলাকাবাসীর অভিযোগ। তবে বিজিবি এফএস কামরুলের ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারে না। এসব নিয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে মামলা, হামলার শিকার হতে হবে বলে এলাকাবাসীর মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে বিজিবির এফেস কামরুল ইসলামের ০১৭৫৩৩৭৬১৩০ এ নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি রং নাম্বার বলে মুঠোফোন কেটে দেন।

  • 65
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে